ব্যবহার
স্পেকটিনোমাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, যা যৌনবাহিত সংক্রমণ গনোরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, মূলত মূত্রনালি, জরায়ুর মুখ ও মলদ্বারের সংক্রমণে। যাদের পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিনে অ্যালার্জি আছে, অথবা সংক্রমণ অন্য অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিরোধী, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। গলার গনোরিয়ায় এটি ভালো কাজ করে না এবং সিফিলিসের চিকিৎসা করে না।
কীভাবে কাজ করে
স্পেকটিনোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার রাইবোজোমে, অর্থাৎ কোষের প্রোটিন তৈরির অংশে, যুক্ত হয়ে এর কাজ বাধাগ্রস্ত করে। প্রয়োজনীয় প্রোটিন ছাড়া গনোরিয়ার ব্যাকটেরিয়া বাড়তে পারে না এবং শরীর তাদের দূর করে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
স্পেকটিনোমাইসিন চিকিৎসক বা নার্স বড় মাংসপেশিতে, সাধারণত নিতম্বে, গভীর ইনজেকশন হিসেবে দেন। সাধারণত একটি মাত্র ডোজ দেওয়া হয়; সঠিক মাত্রা এবং বেশি মাত্রার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় জায়গায় ইনজেকশন লাগবে কিনা তা চিকিৎসক ঠিক করেন। যৌন সঙ্গীদেরও পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা উচিত, এবং চিকিৎসা শেষ হওয়া ও লক্ষণ চলে যাওয়া পর্যন্ত যৌনমিলন এড়িয়ে চলুন। গনোরিয়ার সাথে প্রায়ই ক্লামিডিয়া থাকে, তাই চিকিৎসক সাথে আরেকটি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো ঔষধ প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে জানা নেই। অন্য অ্যান্টিবায়োটিকসহ আপনার সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
স্পেকটিনোমাইসিনে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। ইনজেকশনে বেনজাইল অ্যালকোহল থাকতে পারে, তাই নবজাতকে এড়ানো হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা ও টনটনে ভাব সাধারণ। এছাড়া মাথা ঘোরা, বমি ভাব, কাঁপুনি, জ্বর, চুলকানি, র্যাশ ও প্রস্রাব কমে যাওয়া হতে পারে।
ইনজেকশনের অল্প পরে মুখ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ বা অজ্ঞান হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। এই কারণে ইনজেকশনের পর সাধারণত কিছুক্ষণ রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় গনোরিয়ার চিকিৎসায় স্পেকটিনোমাইসিন একটি বিকল্প হিসেবে বিবেচিত, বিশেষ করে পেনিসিলিনে অ্যালার্জি আছে এমন নারীদের জন্য। চিকিৎসা না করা গনোরিয়া জন্মের সময় শিশুর ক্ষতি করতে পারে। বুকের দুধে যাওয়া সম্পর্কে খুব কম জানা আছে; দুধ খাওয়ানো নিয়ে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
সিফিলিস, HIV ও অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা করানো উচিত, কারণ স্পেকটিনোমাইসিন এগুলোর চিকিৎসা করে না। কয়েক দিন পরেও লক্ষণ থাকলে আবার চিকিৎসকের কাছে যান, কারণ প্রতিরোধী সংক্রমণ হতে পারে। কিডনির সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি হলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (অ্যামিনোসাইক্লিটল)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। গুলে নেওয়ার পর প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন। হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।