ব্যবহার
স্পাইরোনোল্যাকটোন একটি প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (ডায়ুরেটিক), যা শরীরে পটাসিয়াম ধরে রাখে। এটি ব্যবহার হয়:
- হার্ট ফেইলিওরে, সাধারণত অন্য হৃদরোগের ঔষধের সাথে
- লিভারের রোগ (পেটে পানি), কিডনির রোগ (নেফ্রোটিক সিনড্রোম) বা হার্ট ফেইলিওরের কারণে শরীরে পানি জমায় (ইডিমা)
- নিয়ন্ত্রণে কঠিন উচ্চ রক্তচাপে
- প্রাইমারি হাইপারঅ্যালডোস্টেরনিজমে (অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি অতিরিক্ত অ্যালডোস্টেরন হরমোন তৈরি করলে)
- বিশেষজ্ঞের পরামর্শে: নারীদের অতিরিক্ত লোম ও ব্রণে
কীভাবে কাজ করে
এটি অ্যালডোস্টেরন হরমোনকে বাধা দেয়, যা কিডনিকে লবণ ও পানি ধরে রাখতে বলে। ফলে কিডনি বেশি লবণ ও পানি বের করে দেয় কিন্তু পটাসিয়াম রেখে দেয়। এতে ফোলা ও রক্তচাপ কমে এবং হার্ট সুরক্ষিত থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, সাধারণ মাত্রা (সঠিক মাত্রা ডাক্তার ঠিক করেন):
- হার্ট ফেইলিওর: দিনে ১ বার ২৫ mg, কখনও বাড়িয়ে ৫০ mg
- উচ্চ রক্তচাপ: দিনে ২৫ থেকে ১০০ mg
- ইডিমা ও পেটে পানি: প্রায়ই দিনে ১০০ mg, ডাক্তার প্রয়োজনমতো বদলান
- হাইপারঅ্যালডোস্টেরনিজম, ত্বকের সমস্যা ও শিশু: ডাক্তারের নির্দেশমতো
খাবারের সাথে, সম্ভব হলে সকালে খান। পটাসিয়াম ও কিডনির রক্ত পরীক্ষা দরকার, বিশেষ করে প্রথম কয়েক সপ্তাহে ও মাত্রা বদলানোর পর।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাসিয়ামযুক্ত বিকল্প লবণ, এবং অন্য পটাসিয়াম ধরে রাখা ডায়ুরেটিক (যেমন অ্যামিলোরাইড, ট্রায়ামটেরিন বা এপলেরেনোন): পটাসিয়াম বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি
- ACE ইনহিবিটর (যেমন এনালাপ্রিল, রামিপ্রিল) ও ARB (যেমন লোসার্টান): প্রায়ই একসাথে দেওয়া হয়, তবে ঘন ঘন পটাসিয়াম পরীক্ষা দরকার
- ট্রাইমেথোপ্রিম, সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস ও হেপারিন: পটাসিয়াম বাড়াতে পারে
- আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও অন্যান্য NSAID ব্যথানাশক: পটাসিয়াম বাড়াতে, কিডনির ক্ষতি করতে ও কার্যকারিতা কমাতে পারে
- ডিজক্সিন ও লিথিয়াম: এদের মাত্রা বাড়তে পারে
কারা খাবেন না
- রক্তে পটাসিয়াম বেশি থাকলে
- কিডনির গুরুতর অকার্যকারিতা বা প্রস্রাব না হলে
- অ্যাডিসনস রোগ (অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির অকার্যকারিতা)
- এপলেরেনোন খেলে
- স্পাইরোনোল্যাকটোনে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পুরুষের স্তন বড় হওয়া বা ব্যথা, নারীদের অনিয়মিত মাসিক বা স্তনে ব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া ও পায়ে টান ধরা।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মাংসপেশিতে দুর্বলতা, অবশ ভাব বা ঝিমঝিম, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন (পটাসিয়াম বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ)
- তীব্র মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, বিভ্রান্তি বা খুব কম প্রস্রাব (পানিশূন্যতা বা কিডনির সমস্যা)
- ত্বকে ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া, বা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া
- ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভের শিশুর যৌন বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে বলে গর্ভাবস্থায় এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না; ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে করলেই দেওয়া হয়। ত্বকের সমস্যার জন্য খাওয়া সন্তান ধারণের বয়সী নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। এর একটি ভাঙা অংশ সামান্য পরিমাণে বুকের দুধে যায়; দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- নিয়মিত পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও কিডনির রক্ত পরীক্ষা দরকার।
- ডাক্তার না বললে পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্ট বা বিকল্প লবণ খাবেন না।
- বমি বা ডায়রিয়া হলে এবং পানি খেতে না পারলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন, কারণ ঔষধ সাময়িক বন্ধ রাখার দরকার হতে পারে।
- বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগীদের পটাসিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি।
- মাথা ঘোরাতে পারে; গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা ও পটাসিয়াম বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পটাসিয়াম-স্পেয়ারিং ডায়ুরেটিক (অ্যালডোস্টেরন অ্যান্টাগনিস্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।