ব্যবহার
স্ট্রেপটোমাইসিন একটি অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক, যা ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। মানুষের ক্ষেত্রে এটি মূলত যক্ষ্মার (টিবি) সমন্বিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে, বিশেষ করে ঔষধপ্রতিরোধী বা পুনঃচিকিৎসার ক্ষেত্রে, এবং প্লেগ, টুলারেমিয়া, ব্রুসেলোসিস (অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে) ও কিছু ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিসের মতো গুরুতর সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়। এই নামের অনেক পণ্য, প্রায়ই পেনিসিলিনের সাথে মিশ্রিত, পশুচিকিৎসার ইনজেকশন, যা গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগি, কুকুর ও বিড়ালের ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়; এগুলো শুধু পশুর জন্য।
কীভাবে কাজ করে
স্ট্রেপটোমাইসিন ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে ঢুকে প্রোটিন তৈরির অংশ রাইবোজোমের সাথে যুক্ত হয়। এতে ত্রুটিপূর্ণ প্রোটিন তৈরি হয় এবং ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। পশুচিকিৎসার মিশ্রণে পেনিসিলিন অংশ ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরে আঘাত করে, ফলে দুটি মিলে আরও বেশি ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মানুষের ক্ষেত্রে: শুধু চিকিৎসক বা নার্স মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দেন; মাত্রা ওজন, বয়স ও কিডনির কার্যকারিতা অনুযায়ী প্রেসক্রিপশনে ঠিক করা হয়। যক্ষ্মায় এটি সবসময় অন্য যক্ষ্মার ঔষধের সাথে দেওয়া হয় এবং মাত্রা টিবি কর্মসূচি বা বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেন। পশুর ক্ষেত্রে: মাত্রা, প্রয়োগের পথ ও সময়কাল লেবেল বা পশুচিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে। পশুর মাংস বা দুধ মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের আগে নির্ধারিত উইথড্রয়াল সময় মেনে চলুন। পশুচিকিৎসার পণ্য মানুষের ব্যবহারের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিডনি বা কানের ক্ষতি করতে পারে এমন অন্য ঔষধের সাথে ব্যবহারে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে, যেমন অন্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড (জেন্টামাইসিন, অ্যামিকাসিন), ভ্যানকোমাইসিন, অ্যামফোটেরিসিন বি, সিসপ্লাটিন, সাইক্লোস্পোরিন এবং ফুরোসেমাইড বা ইথাক্রিনিক অ্যাসিডের মতো শক্তিশালী মূত্রবর্ধক। এটি পেশি শিথিলকারক ও অ্যানেস্থেটিকের প্রভাব বাড়াতে পারে, যা শ্বাসপ্রশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
স্ট্রেপটোমাইসিন বা অন্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইডে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা হয় না এবং মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে এড়িয়ে চলা উচিত। পেনিসিলিনযুক্ত পশুচিকিৎসার পণ্য পেনিসিলিনে অ্যালার্জিক পশুতে এবং পশুচিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গিনিপিগ ও খরগোশের মতো ছোট প্রাণীতে ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো অন্তঃকর্ণের ক্ষতি, যাতে মাথা ঘোরা, ভারসাম্য হারানো, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (টিনিটাস) বা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া হতে পারে, যা স্থায়ী হতে পারে, এবং কিডনির ক্ষতি। এছাড়া ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, মুখের চারপাশে অবশ বা ঝিনঝিনি ভাব, র্যাশ, জ্বর ও অ্যালার্জি হতে পারে। কদাচিৎ শ্বাসের পেশি দুর্বল হতে পারে।
কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, শ্রবণশক্তি কমা, তীব্র মাথা ঘোরা বা টলমল ভাব, প্রস্রাব কমে যাওয়া, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা তীব্র র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। ইনজেকশনের পর পশুর ফোলা, লুটিয়ে পড়া, টলমল ভাব বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে পশুচিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
স্ট্রেপটোমাইসিন গর্ভের শিশুর স্থায়ী বধিরতা ঘটাতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করুন এবং শিশুর ডায়রিয়া বা মুখে ছত্রাক সংক্রমণের দিকে লক্ষ্য রাখুন। গর্ভবতী বা দুগ্ধবতী পশুতে শুধু পশুচিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালীন কিডনির কার্যকারিতা এবং শ্রবণ ও ভারসাম্য পরীক্ষা করা উচিত, বিশেষ করে বয়স্ক, কিডনির রোগী বা দীর্ঘ কোর্সের ক্ষেত্রে। যথেষ্ট পানি পান করুন। শ্রবণ বা ভারসাম্যের পরিবর্তন দ্রুত জানান। পশুচিকিৎসার পণ্য নাড়াচাড়ার সময় ত্বকে লাগা ও ভুলক্রমে নিজের শরীরে ইনজেকশন এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে কিডনির ক্ষতি, শ্রবণ ও ভারসাম্যের ক্ষতি এবং শ্বাসের পেশি দুর্বল হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা (বা পশুচিকিৎসা) নিন; ডায়ালাইসিস ঔষধ সরাতে সাহায্য করতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক (যক্ষ্মাবিরোধী); পশুচিকিৎসার জীবাণুনাশক (প্রায়ই পেনিসিলিনসহ)।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ২৫ থেকে ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে (কিছু দ্রবণ ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C এ রাখতে হয়)। শিশুদের নাগালের বাইরে এবং খাবার ও পশুখাদ্য থেকে দূরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।