ব্যবহার
সালফাসিটামাইড সোডিয়াম চোখের ড্রপ (কিছু পণ্যে চোখের মলম) চোখের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যেমন আঠালো পিঁচুটিসহ চোখ ওঠা (ব্যাকটেরিয়াল কনজাঙ্কটিভাইটিস) ও চোখের উপরিতলের অন্যান্য সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়। চোখে ছোটখাটো আঘাতের পর সংক্রমণ প্রতিরোধেও কখনো এটি দেওয়া হয়। ভাইরাস বা ছত্রাকজনিত চোখের সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
সালফাসিটামাইড একটি সালফোনামাইড অ্যান্টিবায়োটিক। ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি ও বংশবিস্তারের জন্য প্যারা অ্যামিনোবেনজোয়িক অ্যাসিড (PABA) থেকে ফলিক অ্যাসিড তৈরি করে; এটি সেই প্রক্রিয়া আটকে দেয়। ফলে জীবাণু ছড়াতে পারে না এবং শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রমণ দূর করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রেসক্রিপশন বা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত দিনের বেলায় প্রতি ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরপর আক্রান্ত চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা দিতে হয়, সংক্রমণ কমলে কমিয়ে আনা হয়; সাধারণ কোর্স প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন। হাত ধুয়ে মাথা পেছনে হেলিয়ে নিচের পাতা টেনে ড্রপারের মুখ চোখে না লাগিয়ে ফোঁটা দিন। এক মিনিট চোখ আলতো বন্ধ রেখে ভেতরের কোণে চাপ দিন। চিকিৎসার সময় কন্টাক্ট লেন্স খুলে রাখুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সিলভারযুক্ত চোখের পণ্যের সাথে একই সময়ে ব্যবহার করবেন না, কারণ এগুলো পরস্পর অসামঞ্জস্যপূর্ণ। টেট্রাকেইনের (অ্যামেথোকেইন) মতো চোখ অবশকারী ড্রপ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। অন্য চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন।
কারা খাবেন না
সালফাসিটামাইড, অন্য সালফা ঔষধ বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ড্রপ দেওয়ার সময় ক্ষণিক জ্বালা, হালকা অস্বস্তি, লালচে ভাব ও ঝাপসা দেখা। চোখের পাতায় চুলকানি বা ফোলার মতো অ্যালার্জি হতে পারে।
সারা শরীরে ফুসকুড়ি, ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘা (সালফা ঔষধের বিরল কিন্তু গুরুতর প্রতিক্রিয়া), চোখে তীব্র ব্যথা, দৃষ্টি খারাপ হওয়া, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। ২ থেকে ৩ দিনে সংক্রমণ না কমলে ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চোখের ড্রপ থেকে খুব কম শোষিত হয়, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বিশেষ করে গর্ভাবস্থার শেষদিকে, শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
দূষণ এড়াতে ড্রপারের মুখ কোথাও লাগাবেন না। চোখের ড্রপ অন্যের সাথে ভাগ করবেন না। দ্রবণ গাঢ় বাদামি হয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না। দীর্ঘদিন ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক জন্মাতে পারে। ঝাপসা দেখা না কাটা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চোখে বেশি ফোঁটা দিলে অস্বস্তি ছাড়া ক্ষতির সম্ভাবনা কম; পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশু, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের সালফোনামাইড জীবাণুনাশক
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতল ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার ৪ সপ্তাহ পর, অথবা লেবেলে যা লেখা আছে সেই অনুযায়ী, ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।