ব্যবহার
সুলিন্ডাক অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসে (মেরুদণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ) ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা কমাতে ব্যবহার হয়। গাউটের হঠাৎ আক্রমণ এবং ব্যথাযুক্ত প্রদাহযুক্ত কাঁধের চিকিৎসায়ও অল্প দিনের জন্য এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
সুলিন্ডাক একটি নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ঔষধ (এনএসএআইডি)। লিভারে এটি সক্রিয় রূপে পরিণত হয়, যা COX এনজাইম আটকে দেয়। এই এনজাইম প্রোস্টাগ্ল্যানডিন তৈরি করে, যা ব্যথা ও প্রদাহের কারণ।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, আর্থ্রাইটিস: সাধারণত ১৫০ mg থেকে ২০০ mg দিনে দুইবার। সর্বোচ্চ দিনে ৪০০ mg।
- গাউটের আক্রমণে: সাধারণত ২০০ mg দিনে দুইবার, প্রায় ৭ দিন, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- কাঁধের ব্যথায়: সাধারণত ২০০ mg দিনে দুইবার, ৭ থেকে ১৪ দিন।
- শিশুদের ক্ষেত্রে: পরামর্শ দেওয়া হয় না।
খাবার বা দুধের সাথে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। যত কম মাত্রায় কাজ হয়, যত কম দিন দরকার, ততটুকুই খান। খাওয়ার সময় প্রচুর পানি পান করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিন বা অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ, অ্যাসপিরিন, অন্য এনএসএআইডি, প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েড ট্যাবলেট, বা সার্ট্রালিনের মতো বিষণ্নতার ঔষধের সাথে খেলে পেটে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। এটি লিথিয়াম ও মিথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়াতে পারে। রক্তচাপের ঔষধ ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের কাজ কমাতে পারে, এবং এসিই ইনহিবিটর বা এআরবির সাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাসের সাথে কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। ডাইফ্লুনিসালের সাথে খাবেন না।
কারা খাবেন না
- সুলিন্ডাকে এলার্জি, অথবা অ্যাসপিরিন বা অন্য এনএসএআইডি খেলে হাঁপানি, আমবাত বা সর্দির মতো প্রতিক্রিয়া হলে।
- পাকস্থলীতে সক্রিয় ঘা বা রক্তক্ষরণ থাকলে, বা বারবার ঘা বা রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকলে।
- তীব্র হার্ট ফেইলিওর, বা কিডনি বা লিভারের তীব্র রোগ থাকলে।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে।
- হার্ট বাইপাস অপারেশনের সময়ের ব্যথায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ ও র্যাশ।
কালো বা আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, বুকে ব্যথা, শরীরের একপাশ হঠাৎ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা গোড়ালি ফোলা, প্রস্রাব খুব কম হওয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, পিঠ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া তীব্র পেটব্যথা, জ্বরসহ র্যাশ, ত্বকে ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এটি এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে ২০ সপ্তাহ থেকে, কারণ এটি শিশুর কিডনি ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে কখনও খাবেন না। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি পরামর্শ দেওয়া হয় না; নিরাপদ ব্যথানাশকের জন্য ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
এনএসএআইডি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে। বয়স্ক, হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, আগে পাকস্থলীতে ঘা, হাঁপানি, কিডনি বা লিভারের সমস্যা ও কিডনির পাথরে সাবধানে ব্যবহার করুন। দীর্ঘদিন খেলে ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, ঝিমুনি, মাথা ঘোরা ও মাথাব্যথা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে পেটে রক্তক্ষরণ, কিডনি বিকল, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি ঔষধ (এনএসএআইডি), অ্যাসিটিক অ্যাসিড জাত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।