ব্যবহার
সালফানিলামাইড একটি জীবাণুনাশক পাউডার, যা ছোটখাটো কাটা, ছড়ে যাওয়া, পোড়া ও ত্বকের ঘায়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় ত্বকে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে এটি মূলত ক্ষতস্থানে ব্যবহারের ডাস্টিং পাউডার হিসেবে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
সালফানিলামাইড সবচেয়ে পুরোনো সালফোনামাইড (সালফা) জীবাণুনাশকগুলোর একটি। ব্যাকটেরিয়া বেড়ে ওঠার জন্য যে ফলিক অ্যাসিড তৈরি করে, এটি সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বকের সাধারণ অনেক জীবাণুর বৃদ্ধি থেমে যায় এবং শরীর নিজেই সংক্রমণ সারাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্ষতস্থান পরিষ্কার পানি বা স্যালাইন দিয়ে আলতো করে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। দিনে ১ থেকে ৩ বার পাতলা করে পাউডার ছিটিয়ে দিন, অথবা লেবেল বা ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। উপরে পরিষ্কার ব্যান্ডেজ দেওয়া যায়। বড় জায়গায় বা গভীর ক্ষতে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করবেন না। কয়েক দিনে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ছোট জায়গায় ব্যবহার করলে খুব সামান্য ঔষধ রক্তে যায়, তাই প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। বড় বা কাঁচা ক্ষতে ব্যবহার করলে অন্য সালফা ঔষধ, মেথোট্রেক্সেট, ওয়ারফারিন বা সালফোনাইলইউরিয়া জাতীয় ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়তে পারে। পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একসাথে অন্য পাউডার বা ক্রিম লাগাবেন না।
কারা খাবেন না
- সালফানিলামাইড বা অন্য সালফা ঔষধে (যেমন কো-ট্রাইমোক্সাজল) অ্যালার্জি থাকলে।
- বড় পোড়া বা অনেক বড় খোলা ক্ষতে, ডাক্তার না বললে।
- নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে, কারণ জন্ডিসের ঝুঁকি থাকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। কারও কারও লাগানোর জায়গায় চুলকানি, লাল হওয়া, জ্বালা বা র্যাশ হতে পারে। ত্বক রোদে বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। বারবার ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জি তৈরি হতে পারে, যার ফলে পরে সালফা ঔষধ ব্যবহার অনিরাপদ হতে পারে।
ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া, মুখে ঘা, জ্বর, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা ক্ষত খুব লাল, গরম, ফোলা বা দুর্গন্ধযুক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ছোট জায়গায় ব্যবহারে ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এবং নবজাতক বা অপরিণত শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সালফা ঔষধ এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এতে শিশুর জন্ডিস বাড়তে পারে। ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। খাবেন না এবং চোখে লাগাবেন না। G6PD ঘাটতি (লোহিত রক্তকণিকার একটি বংশগত সমস্যা) থাকলে বড় জায়গায় ব্যবহার করবেন না। গভীর, নোংরা ক্ষত, পশুর কামড় এবং হাতের তালুর চেয়ে বড় পোড়ায় ডাক্তার দেখানো দরকার। জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কেউ, বিশেষ করে শিশু, বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা বা রক্তের সমস্যা হতে পারে; দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের সালফোনামাইড জীবাণুনাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।