ব্যবহার
সুমাট্রিপটান মাইগ্রেনের আক্রমণ কমাতে ব্যবহার করা হয়, অরা (মাথাব্যথার আগে চোখে আলোর ঝলকানির মতো সংকেত) থাকুক বা না থাকুক। কিছু ক্ষেত্রে ক্লাস্টার মাথাব্যথাতেও ব্যবহার হয়। এটি শুরু হয়ে যাওয়া আক্রমণ সারায়, মাইগ্রেন প্রতিরোধ করে না এবং সাধারণ টেনশন মাথাব্যথার জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
সুমাট্রিপটান ট্রিপটান শ্রেণির ঔষধ। মাইগ্রেনের সময় মস্তিষ্কের চারপাশের রক্তনালী প্রসারিত হয় এবং স্নায়ু থেকে ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থ নিঃসৃত হয়। এই ঔষধ সেরোটোনিন (5-HT1B/1D) রিসেপ্টরে কাজ করে রক্তনালী আবার সংকুচিত করে এবং ব্যথার সংকেত আটকায়, ফলে মাথাব্যথা, বমিভাব এবং আলো ও শব্দে অস্বস্তি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হওয়া মাত্র পানি দিয়ে ৫০ mg; কারও কারও ১০০ mg লাগে। ব্যথা ফিরে এলে প্রথম মাত্রার অন্তত ২ ঘণ্টা পর দ্বিতীয় মাত্রা নেওয়া যায়। ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ mg এর বেশি নয়। নাকের স্প্রে: সাধারণত এক নাকে ১০ mg বা ২০ mg, লেবেলের নির্দেশ অনুযায়ী। ইনজেকশন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। প্রথম মাত্রায় একদম কাজ না হলে একই আক্রমণে দ্বিতীয় মাত্রা নেবেন না, চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এরগোটামিন বা অন্য ট্রিপটান (যেমন রিজাট্রিপটান, জোলমিট্রিপটান) এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করবেন না।
- MAO ইনহিবিটর (যেমন মোক্লোবেমাইড) সুমাট্রিপটানের মাত্রা বাড়াতে পারে; বন্ধ করার ২ সপ্তাহের মধ্যে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- ফ্লুওক্সেটিন, সারট্রালিন, ভেনলাফ্যাক্সিন জাতীয় বিষণ্নতার ঔষধ এবং লিথিয়াম সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- সেন্ট জনস ওয়ার্টও সেরোটোনিনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- সুমাট্রিপটানে অ্যালার্জি থাকলে।
- হৃদরোগ, আগে হার্ট অ্যাটাক, এনজাইনা বা হৃদধমনীর সংকোচন থাকলে।
- আগে স্ট্রোক বা মিনি-স্ট্রোক হলে, অথবা পায়ে রক্তসঞ্চালন কম থাকলে।
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ।
- গুরুতর লিভারের রোগ।
- হেমিপ্লেজিক বা ব্যাসিলার মাইগ্রেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ঝিনঝিন, গরম লাগা বা মুখ লাল হওয়া, বুক, গলা বা ঘাড়ে চাপ বা ভার লাগা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব ও বমিভাব হতে পারে। নাকের স্প্রেতে মুখে খারাপ স্বাদ লাগতে পারে।
তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী বুকে ব্যথা, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের লক্ষণ, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, পেটে তীব্র ব্যথা, গুরুতর অ্যালার্জি (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট), অথবা অস্থিরতা, জ্বর, ঘাম ও পেশি কাঁপা (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম) হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু তখনই ব্যবহার করুন যখন চিকিৎসক মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি। ঔষধটি অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; সাধারণত সেবনের পর ১২ ঘণ্টা বুকের দুধ না খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
হৃদরোগের ঝুঁকি (ধূমপান, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, পারিবারিক ইতিহাস), মৃগীরোগ, বা লিভার ও কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। ব্যথানাশক বা ট্রিপটান খুব ঘন ঘন খেলে উল্টো মাথাব্যথা বাড়তে পারে। ঘুমঘুম ভাব হতে পারে, তাই গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, বুকে অস্বস্তি, মাথা ঘোরা বা হৃদযন্ত্রের অন্য সমস্যা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন; হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মাইগ্রেনরোধী ঔষধ, সিলেক্টিভ সেরোটোনিন 5-HT1 রিসেপ্টর অ্যাগোনিস্ট (ট্রিপটান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।