ব্যবহার
সুপার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ও খনিজ ট্যাবলেট এক ধরনের খাদ্যপূরক (সাপ্লিমেন্ট), যাতে সাধারণত বিটা-ক্যারোটিন (ভিটামিন এ এর উৎস), ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিংক, সেলেনিয়াম এবং পণ্যভেদে কপার, ম্যাঙ্গানিজ বা অন্য অণুখনিজ থাকে। দৈনিক চাহিদা পূরণে, খাদ্যাভ্যাস দুর্বল হলে সাধারণ স্বাস্থ্য ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সহায়তায়, অসুখের পর সেরে ওঠার সময় এবং বয়স্কদের এটি ব্যবহৃত হয়। কিছু ফর্মুলা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য তৈরি। এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়।
কীভাবে কাজ করে
স্বাভাবিক বিপাকের সময় শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যাল নামের অস্থিতিশীল অণু তৈরি হয়, আর ধূমপান, দূষণ ও অসুখে তা আরও বাড়ে। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও বিটা-ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমের জন্য জিংক, সেলেনিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজ প্রয়োজন। একসাথে এগুলো রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা, ত্বক, চোখ ও ক্ষত সারানোতেও সহায়তা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একটি ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল, অথবা লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। শোষণ ভালো করতে ও পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই ভিটামিন ও খনিজযুক্ত অন্য সাপ্লিমেন্টের সাথে একসাথে খাবেন না। লেবেলে না বলা থাকলে শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জিংক, কপার ও অন্যান্য খনিজ টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন ও লেভোথায়রক্সিনের শোষণ কমাতে পারে; এই ঔষধগুলো সাপ্লিমেন্টের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরে খান।
- বেশি মাত্রার ভিটামিন ই ওয়ারফারিন ও অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধের রক্তপাতের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- অন্য উৎস থেকে ভিটামিন এ (আইসোট্রেটিনয়েন বা অ্যাসিট্রেটিনসহ) মোট ভিটামিন এ এর পরিমাণ বাড়ায়।
- অরলিস্ট্যাট ও কিছু কোলেস্টেরলের ঔষধ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিনের শোষণ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- শরীরে অতিরিক্ত ভিটামিন এ বা রক্তে উচ্চ ক্যালসিয়াম থাকলে, বা লেবেলে নিষেধ করা অবস্থায়।
- উইলসনস ডিজিজ (পণ্যে কপার থাকলে)।
- বেশি মাত্রার বিটা-ক্যারোটিনযুক্ত পণ্য ধূমপায়ী বা সম্প্রতি এসবেস্টসের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের জন্য পরামর্শযোগ্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
নির্ধারিত মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। কারও কারও হালকা বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, মুখে ধাতব স্বাদ, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে খালি পেটে খেলে। বেশি বিটা-ক্যারোটিনে ত্বক হলুদাভ হতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়। বি ভিটামিন থাকলে প্রস্রাব উজ্জ্বল হলুদ হতে পারে।
কদাচিৎ অ্যালার্জি হয়। দীর্ঘদিন নির্ধারিত মাত্রার বেশি খেলে ভিটামিন এ বা খনিজের বিষক্রিয়া হতে পারে।
তীব্র র্যাশ, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা শিশু ভুল করে কয়েকটি ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভবতী নারীদের বেশি মাত্রার ভিটামিন এ খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসক এই পণ্যের পরামর্শ না দিলে গর্ভাবস্থার জন্য তৈরি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ মাত্রা সাধারণত গ্রহণযোগ্য; আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
সাপ্লিমেন্ট সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়। ধূমপান করলে, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে বা নিয়মিত ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান। শিশুদের কাছ থেকে দূরে রাখুন: খনিজযুক্ত পণ্য বেশি খেলে ক্ষতিকর হতে পারে। পণ্যভেদে উপাদান আলাদা, তাই লেবেলে সঠিক উপাদান দেখে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একসাথে অনেকগুলো ট্যাবলেট খেলে বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথা হতে পারে। খুব বেশি বা দীর্ঘদিন অতিরিক্ত সেবনে ভিটামিন এ বিষক্রিয়া (মাথাব্যথা, লিভারের ক্ষতি) বা সেলেনিয়াম বিষক্রিয়া (চুল ও নখ পড়া, রসুনের মতো নিঃশ্বাস) হতে পারে। চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পুষ্টিকর সাপ্লিমেন্ট; অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাল্টিভিটামিন ও মাল্টিমিনারেল প্রস্তুতি।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে, পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।