ব্যবহার
সাক্সামেথোনিয়াম ক্লোরাইড (সাক্সিনাইলকোলিন নামেও পরিচিত) একটি খুব স্বল্পস্থায়ী পেশি শিথিলকারী ঔষধ, যা জেনারেল অ্যানেস্থেশিয়ার সময় ব্যবহার করা হয়। এটি দ্রুত পেশি শিথিল করে, যাতে শ্বাসনালিতে টিউব বসানো (ইনটিউবেশন) যায়। ছোট অপারেশন এবং ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপির (ইসিটি) সময় পেশির খিঁচুনি কমাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি স্নায়ু ও পেশির সংযোগস্থলে কাজ করে। প্রথমে অল্প সময় পেশি কাঁপে, তারপর পেশি স্নায়ুর সংকেতে সাড়া দেয় না, ফলে পেশি শিথিল হয়ে যায়। প্রায় এক মিনিটে কাজ শুরু হয় এবং সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিনিটে শেষ হয়, কারণ রক্তের প্লাজমা কোলিনএস্টারেজ নামের এনজাইম এটিকে ভেঙে ফেলে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সাক্সামেথোনিয়াম শুধু অ্যানেস্থেটিস্ট বা প্রশিক্ষিত চিকিৎসক অপারেশন থিয়েটার বা জরুরি বিভাগে শিরায় (কদাচিৎ মাংসপেশিতে) ইনজেকশন হিসেবে দেন। মাত্রা শরীরের ওজন ও প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেওয়া হয়। প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত যন্ত্র বা ব্যাগের মাধ্যমে শ্বাস চালু রাখা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কোলিনএস্টারেজ কমায় এমন ঔষধ, যেমন নিওস্টিগমিন, কিছু কীটনাশক (অর্গানোফসফেট), মেটোক্লোপ্রামাইড, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, পলিমিক্সিন), লিথিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও কিছু ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ এর প্রভাব দীর্ঘ বা বেশি করতে পারে। ডিগক্সিন সেবনকারীদের হৃৎস্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। অপারেশনের আগে অ্যানেস্থেটিস্ট সব ঔষধ যাচাই করেন।
কারা খাবেন না
নিজের বা পরিবারে ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়ার ইতিহাস, এই ঔষধে অ্যালার্জি, রক্তে উচ্চ পটাশিয়াম, বড় ধরনের পোড়া, থেঁতলানো আঘাত বা মেরুরজ্জুর আঘাতের এক দুই দিন পর, কিছু পেশির রোগ (যেমন মাসকুলার ডিস্ট্রফি) বা জন্মগতভাবে কম কোলিনএস্টারেজ থাকলে এটি ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অপারেশনের পর পেশিতে ব্যথা সাধারণ। এছাড়া অল্প সময় পেশি কাঁপা, রক্তে পটাশিয়াম বাড়া, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, চোখ, পাকস্থলী ও মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ বাড়া, লালা বেড়ে যাওয়া এবং কারো কারো দীর্ঘ সময় পেশি অবশ থাকা হতে পারে। কদাচিৎ ম্যালিগন্যান্ট হাইপারথার্মিয়া (পেশি শক্ত হয়ে শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যাওয়া) বা গুরুতর অ্যালার্জি হতে পারে।
অ্যানেস্থেশিয়া দল এসব লক্ষণ পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করেন। প্রক্রিয়ার পর তীব্র পেশি ব্যথা, গাঢ় প্রস্রাব, জ্বর, বুক ধড়ফড় বা শ্বাসকষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সিজারিয়ান অপারেশনে এটি ব্যবহৃত হয় এবং প্রয়োজনে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত; খুব অল্প পরিমাণ গর্ভফুল পেরিয়ে যায়। গর্ভাবস্থায় কোলিনএস্টারেজ কম থাকে বলে প্রভাব একটু বেশি সময় থাকতে পারে। ঔষধটি খুব দ্রুত ভেঙে যায়, তাই মা জেগে ওঠার পর সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়।
সতর্কতা
আপনার বা আত্মীয়ের কখনো অ্যানেস্থেশিয়ায় সমস্যা, দীর্ঘ সময় পেশি অবশ থাকা বা অপারেশনের সময় তীব্র জ্বর হয়ে থাকলে, এবং পেশি, স্নায়ু, কিডনি বা চোখের রোগ (যেমন গ্লুকোমা) অথবা সাম্প্রতিক গুরুতর আঘাত বা পোড়া থাকলে চিকিৎসককে জানান। পূর্ণ পুনরুজ্জীবন সরঞ্জাম আছে এমন জায়গাতেই এটি ব্যবহার করতে হবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে দীর্ঘ সময় পেশি অবশ থাকে ও শ্বাস নেওয়া যায় না। পেশি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে কৃত্রিম শ্বাস চালিয়ে চিকিৎসা করা হয়; কিছু ক্ষেত্রে কোলিনএস্টারেজযুক্ত রক্তজাত পণ্য দেওয়া হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডিপোলারাইজিং নিউরোমাসকুলার ব্লকিং এজেন্ট (অ্যানেস্থেশিয়ায় ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারী)।
সংরক্ষণ
হাসপাতাল প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করে, সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, জমাবেন না, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।