ব্যবহার
মুখে খাওয়ার ক্যাপসুল ও অন্যান্য রূপ (এবং হাসপাতালে ইনজেকশন):
- প্রতিস্থাপিত কিডনি, লিভার বা হৃৎপিণ্ড শরীর যেন প্রত্যাখ্যান না করে;
- অন্য ঔষধে নিয়ন্ত্রণে না আসা প্রত্যাখ্যানের চিকিৎসায়।
মলম (০.০৩% ও ০.১%):
- মাঝারি থেকে গুরুতর অ্যাটোপিক একজিমায়, যখন স্টেরয়েড ক্রিমের মতো সাধারণ চিকিৎসা কাজ করেনি বা উপযুক্ত নয়;
- যাদের একজিমা বারবার ফিরে আসে, তাদের ফ্লেয়ার-আপ প্রতিরোধে।
কীভাবে কাজ করে
ট্যাক্রোলিমাস ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটর ধরনের একটি ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট (রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দমনকারী ঔষধ)। প্রত্যাখ্যান ও ত্বকের প্রদাহের জন্য দায়ী কিছু শ্বেত রক্তকণিকার (টি কোষ) কাজ এটি শান্ত করে। মুখে খেলে সারা শরীরে কাজ করে; মলম হিসেবে প্রধানত ত্বকে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মুখে খাওয়া: শুধু ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী শুরু হয় এবং নিয়মিত রক্তে ঔষধের মাত্রা পরীক্ষা করে ঠিক করা হয়। প্রতিদিন একই সময়ে, সাধারণত খালি পেটে (খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পরে) খান। বিশেষজ্ঞের ব্যবস্থা ছাড়া ব্র্যান্ড বা দ্রুত ও ধীরে কাজ করা রূপের মধ্যে বদল করবেন না। ইনজেকশন হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন।
মলম: একজিমা সেরে না যাওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত ত্বকে দিনে দুবার পাতলা করে লাগান, তারপর পরামর্শ অনুযায়ী (যেমন দিনে একবার, বা ফ্লেয়ার প্রতিরোধে সপ্তাহে দুবার)। ০.০৩% শক্তি প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য; ০.১% শক্তি প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য। হাতে চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অনেক ঔষধ ট্যাক্রোলিমাসের মাত্রা বদলে দেয়। কিটোকোনাজল, ফ্লুকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, ইরিথ্রোমাইসিন, ডিল্টিয়াজেম ও গ্রেপফ্রুটের রস মাত্রা বাড়াতে পারে; রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট মাত্রা কমাতে পারে। সাইক্লোস্পোরিন একই সময়ে ব্যবহার করা উচিত নয়। পটাশিয়াম ধরে রাখা প্রস্রাববর্ধক ঔষধ (যেমন স্পাইরোনোল্যাকটোন) ও পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট পটাশিয়াম অতিরিক্ত বাড়াতে পারে, আর আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথার ঔষধ কিডনির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। জীবিত জীবাণুর টিকা এড়িয়ে চলুন। আপনি যে সব ঔষধ, ভিটামিন ও ভেষজ পণ্য খান, তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ট্যাক্রোলিমাস বা ম্যাক্রোলাইড অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে
- মলম: ২ বছরের কম বয়সী শিশু এবং সংক্রমিত ত্বকে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মুখে খেলে সাধারণ: হাত কাঁপা, মাথাব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করা বাড়া বা ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া বা ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, ঘুমের সমস্যা ও সংক্রমণ বেশি হওয়া।
মলমে সাধারণ: লাগানোর জায়গায় জ্বালা, গরম লাগা বা চুলকানি, যা সাধারণত কয়েক দিনে কমে যায়; মদ্যপানের পর মুখ লাল হয়ে যাওয়া; ঠোঁটে জ্বরঠোসার মতো ত্বকের সংক্রমণ।
দীর্ঘদিন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমিয়ে রাখলে ত্বকের ক্যান্সার ও লিম্ফোমার ঝুঁকি কিছুটা বাড়ে।
জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ; খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টির পরিবর্তন; প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া; বুকে ব্যথা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন; অথবা আপনার চিকিৎসক দল যে প্রত্যাখ্যানের লক্ষণের কথা বলেছেন তা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ট্রান্সপ্লান্ট রোগী গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে নিজে থেকে ট্যাক্রোলিমাস বন্ধ করবেন না; বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত নেবেন ও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। ট্যাক্রোলিমাস বুকের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় মলম এড়িয়ে চলুন, এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- মুখে খাওয়ার চিকিৎসায় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা (ট্যাক্রোলিমাসের মাত্রা, কিডনির কার্যকারিতা, শর্করা, পটাশিয়াম) ও রক্তচাপ মাপা দরকার।
- ত্বককে রোদ থেকে রক্ষা করুন এবং সানবেড এড়িয়ে চলুন।
- জীবিত জীবাণুর টিকা এবং সংক্রমিত মানুষের নিকট সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- হাত কাঁপা বা ঝাপসা দেখায় গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মুখে বেশি খেলে হাত কাঁপা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, কিডনির সমস্যা ও রক্তে মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রান্সপ্লান্ট দলের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান। মলম গিলে ফেলা সাধারণত গুরুতর নয়, তবু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোসাপ্রেস্যান্ট (ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ক্যাপসুল মূল প্যাকেটে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।