ব্যবহার
ট্যামোক্সিফেন একটি হরমোন ব্লককারী ঔষধ, মূলত স্তন ক্যানসারে ব্যবহৃত হয়। নারী ও পুরুষের হরমোন রিসেপ্টর-পজিটিভ স্তন ক্যানসারের (ইস্ট্রোজেনের প্রভাবে বাড়ে এমন ক্যানসার) চিকিৎসায়, অস্ত্রোপচারের পর ক্যানসার ফিরে আসার সম্ভাবনা কমাতে, উন্নত পর্যায়ের স্তন ক্যানসারে এবং উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা কিছু নারীর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে এটি দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা কখনো কখনো অন্য ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করেন, যেমন কিছু বন্ধ্যাত্বে ডিম্বস্ফোটনে সহায়তার জন্য।
কীভাবে কাজ করে
ট্যামোক্সিফেন একটি সিলেক্টিভ ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর মডিউলেটর (SERM)। স্তনের টিস্যুতে এটি ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে ইস্ট্রোজেনকে সেখানে পৌঁছাতে দেয় না, ফলে ইস্ট্রোজেন-সংবেদনশীল ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ধীর বা বন্ধ হয়। জরায়ুর আবরণ ও হাড়ের মতো অন্য টিস্যুতে এটি কিছুটা ইস্ট্রোজেনের মতো কাজ করতে পারে, যা এর কিছু উপকার ও ঝুঁকির কারণ।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যানসার বিশেষজ্ঞ যেভাবে লিখে দেবেন ঠিক সেভাবে খান। সাধারণত দিনে একবার, প্রায় একই সময়ে, খাবারের সাথে বা ছাড়া, পানি দিয়ে গিলে খেতে হয়। প্রাথমিক স্তন ক্যানসারে চিকিৎসা সাধারণত ৫ থেকে ১০ বছর চলে। বন্ধ্যাত্বসহ অন্য ক্ষেত্রে মাত্রা বিশেষজ্ঞ ঠিক করেন। ডোজ বাদ পড়লে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরের ডোজের সময় কাছাকাছি হলে বাদ দিন; দ্বিগুণ খাবেন না। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন, বুপ্রোপিয়ন ও কুইনিডিনের মতো লিভারের CYP2D6 এনজাইম ব্লককারী ঔষধ ট্যামোক্সিফেনের কার্যকারিতা কমাতে পারে; চিকিৎসক বিকল্প বেছে নিতে পারেন।
- ওয়ারফারিন ও অনুরূপ রক্ত পাতলা করার ঔষধ: ট্যামোক্সিফেন এদের প্রভাব ও রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়; ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
- লেট্রোজোল বা অ্যানাস্ট্রোজোলের মতো অ্যারোমাটাজ ইনহিবিটর ট্যামোক্সিফেনের সাথে একই সময়ে খাওয়া হয় না।
- ইস্ট্রোজেনযুক্ত ঔষধ (জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি) এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- রিফামপিসিন ট্যামোক্সিফেনের মাত্রা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- ট্যামোক্সিফেনে অ্যালার্জি থাকলে।
- গর্ভাবস্থায়।
- শুধু ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে ব্যবহারে: পা বা ফুসফুসে রক্ত জমাটের ইতিহাস থাকলে বা বর্তমানে ওয়ারফারিন খেলে।
- বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন ছাড়া শিশুদের।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: হট ফ্লাশ (হঠাৎ গরম লাগা), ঘাম, যোনিতে স্রাব বা শুষ্কতা, অনিয়মিত বা বন্ধ মাসিক, বমিভাব, ক্লান্তি, শরীরে পানি জমা, পায়ে খিঁচ, গিঁটে ব্যথা, মাথাব্যথা, চুল পাতলা হওয়া ও র্যাশ। উন্নত ক্যানসারে শুরুতে সাময়িকভাবে হাড়ের ব্যথা বাড়তে পারে (টিউমার ফ্লেয়ার)।
কম দেখা গেলেও গুরুতর: পা বা ফুসফুসে রক্ত জমাট, স্ট্রোক, জরায়ুর আবরণের ক্যানসার বা পলিপ, ছানি ও চোখের অন্য পরিবর্তন, লিভারের সমস্যা এবং রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়া।
ব্যথাসহ পা ফোলা, হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ দুর্বলতা, অবশ ভাব বা কথা জড়িয়ে যাওয়া, মেনোপজের পর যোনিপথে রক্তপাত বা অস্বাভাবিক রক্তপাত বা তলপেটে ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ট্যামোক্সিফেন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার নিষেধ। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় এবং বন্ধের পর অন্তত ২ মাস (বা পরামর্শমতো আরও বেশি) হরমোনবিহীন জন্মনিয়ন্ত্রণ (যেমন কনডম বা কপার কয়েল) ব্যবহার করতে হবে। যাদের এখনও মাসিক হয় তাদের ক্ষেত্রে এটি গর্ভধারণের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ জরুরি। ট্যামোক্সিফেন খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
রক্ত জমাট, স্ট্রোক, লিভারের রোগ, ছানি বা অস্বাভাবিক যোনিপথে রক্তপাতের ইতিহাস থাকলে, অথবা অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘসময় শুয়ে থাকার পরিকল্পনা থাকলে (ট্যামোক্সিফেন সাময়িক বন্ধ রাখা হতে পারে) চিকিৎসককে জানান। নিয়মিত স্ত্রীরোগ পরীক্ষা করান ও যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত হলে জানান। চোখ পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। ধূমপান এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি রক্ত জমাটের ঝুঁকি বাড়ায়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে কাঁপুনি, ভারসাম্যহীনতা, মাথা ঘোরা ও হৃৎছন্দে পরিবর্তন হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করুন; চিকিৎসা সহায়ক।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যানসারবিরোধী হরমোন থেরাপি; সিলেক্টিভ ইস্ট্রোজেন রিসেপ্টর মডিউলেটর (SERM), অ্যান্টি-ইস্ট্রোজেন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।