ব্যবহার
ট্যামসুলোসিন হাইড্রোক্লোরাইড পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হওয়ার (বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া) কারণে প্রস্রাবের সমস্যা, যেমন ধারা দুর্বল হওয়া, প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট, বারবার প্রস্রাব ও রাতে প্রস্রাবের জন্য উঠা কমাতে ব্যবহার হয়। ছোট কিডনি পাথর বের হতে সাহায্য করতেও ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
ট্যামসুলোসিন একটি আলফা-ব্লকার। এটি প্রোস্টেট ও মূত্রথলির মুখের মাংসপেশি শিথিল করে, ফলে প্রস্রাব সহজে বের হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে একবার ০.৪ mg, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে, সাধারণত সকালের নাস্তা বা একই বেলার খাবারের পরে। ক্যাপসুল বা ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান; ভাঙবেন না, চিবাবেন না বা খুলবেন না। কিডনি পাথরের ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, রিটোনাভির ও একই ধরনের শক্তিশালী এনজাইম প্রতিরোধক ট্যামসুলোসিনের মাত্রা বাড়াতে পারে; এড়িয়ে চলুন বা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান।
- অন্য আলফা-ব্লকার (যেমন ডক্সাজোসিন, প্রাজোসিন) একসাথে খাওয়া উচিত নয়।
- সিলডেনাফিল, টাডালাফিল ও উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ রক্তচাপ আরও কমিয়ে মাথা ঘোরা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
ট্যামসুলোসিন বা কোনো উপাদানে এলার্জি, দাঁড়ালে অজ্ঞান হওয়া বা মাথা ঘোরার ইতিহাস (অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন), এবং লিভারের গুরুতর সমস্যা থাকলে। নারী ও শিশুদের জন্য ব্যবহার হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথা ঘোরা, বিশেষ করে দাঁড়ানোর সময়; বীর্যপাতে পরিবর্তন (কম বা বীর্য না বের হওয়া); নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ; মাথাব্যথা ও ক্লান্তি।
অজ্ঞান হয়ে গেলে, ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ব্যথাযুক্ত লিঙ্গ উত্থান থাকলে, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, অথবা ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়ার মতো মারাত্মক র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ট্যামসুলোসিন শুধু পুরুষদের ঔষধ; গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার হয় না।
সতর্কতা
- ছানি বা গ্লুকোমার অপারেশনের পরিকল্পনা থাকলে চোখের সার্জনকে জানান যে আপনি ট্যামসুলোসিন খাচ্ছেন বা আগে খেয়েছেন, কারণ এটি অপারেশনের সময় চোখের আইরিসে প্রভাব ফেলতে পারে।
- বিশেষ করে প্রথম কয়েকটি মাত্রার পর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান; মাথা ঘুরলে বসুন বা শুয়ে পড়ুন, এবং এমন হলে গাড়ি চালাবেন না।
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালে ডাক্তার প্রোস্টেট ক্যানসারসহ প্রোস্টেটের অন্য সমস্যা আছে কি না দেখবেন।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ খুব কমে গিয়ে মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়া হতে পারে। পা উঁচু করে শুয়ে পড়ুন এবং সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোস্টেটের লক্ষণের জন্য আলফা-১ অ্যাড্রিনোসেপ্টর ব্লকার (আলফা-ব্লকার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।