ব্যবহার
ট্যাপেন্টাডল একটি শক্তিশালী প্রেসক্রিপশন ব্যথানাশক, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার হয়:
- মাঝারি থেকে তীব্র স্বল্পমেয়াদি ব্যথায়, যেমন অস্ত্রোপচার বা আঘাতের পর, যখন অন্য ব্যথানাশক যথেষ্ট নয়;
- দিনরাত চিকিৎসা দরকার এমন তীব্র দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায়, কিছু স্নায়ুব্যথাসহ যেমন ডায়াবেটিসজনিত স্নায়ুব্যথা (দীর্ঘক্ষণ কাজ করা ট্যাবলেট)।
কীভাবে কাজ করে
ট্যাপেন্টাডল মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুতে দুইভাবে কাজ করে। এটি মরফিনের মতো ওপিওয়েড (মিউ) রিসেপ্টরে কাজ করে, আবার নরঅ্যাড্রেনালিন নামের রাসায়নিকের মাত্রাও বাড়ায়, যা ব্যথার সংকেত আটকাতে সাহায্য করে। দুটি মিলে ব্যথার অনুভূতি কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- স্বল্পমেয়াদি ব্যথা, তাৎক্ষণিক কার্যকর ট্যাবলেট, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত প্রয়োজনে প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর ৫০ থেকে ১০০ mg, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। ডাক্তারের ঠিক করা দৈনিক মোট পরিমাণের বেশি খাবেন না।
- দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, দীর্ঘক্ষণ কাজ করা ট্যাবলেট: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, সাধারণত ১২ ঘণ্টা পরপর দিনে ২ বার। আস্ত গিলে খান; কখনো গুঁড়া করবেন না, চিবাবেন না, ভাঙবেন না বা গলাবেন না, এতে একসাথে বিপজ্জনক মাত্রা বেরিয়ে আসতে পারে।
- বয়স্ক ও মাঝারি লিভারের সমস্যায়: কম মাত্রা বা বেশি বিরতি লাগতে পারে।
- ১৮ বছরের কম বয়সী: ব্যবহার করা যাবে না।
খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। যত কম মাত্রায় ও যত কম সময় কাজ হয়, ততটুকুই খান। নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ, বেনজোডায়াজেপিন (যেমন ডায়াজেপাম), অন্য ওপিওয়েড, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন বা অন্য ঘুম আনা ঔষধের সাথে খেলে বিপজ্জনক ঝিমুনি ও ধীর শ্বাস হতে পারে। MAO ইনহিবিটরের সাথে বা তা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে খাওয়া যাবে না। SSRI বা SNRI জাতীয় বিষণ্নতার ঔষধ, ট্রামাডল বা ট্রিপট্যানের সাথে খেলে সেরোটোনিন সিনড্রোম (অস্থিরতা, জ্বর, ঘাম, কাঁপুনি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন) হতে পারে। আপনি যে সব ঔষধ খান, ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ট্যাপেন্টাডলে এলার্জি থাকলে
- গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা ধীর, অগভীর শ্বাস থাকলে
- তীব্র বা গুরুতর হাঁপানিতে
- অন্ত্র বন্ধ বা অচল হয়ে গেলে (প্যারালাইটিক ইলিয়াস)
- গত ১৪ দিনের মধ্যে MAO ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে
- গুরুতর লিভার বা কিডনির রোগে (সুপারিশ করা হয় না)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখ শুকানো, চুলকানি, ঘাম ও ক্লান্তি। দীর্ঘদিন খেলে সহনশীলতা, শারীরিক নির্ভরতা ও অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
যিনি এটি খাচ্ছেন তার এগুলো হলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন: ধীর, অগভীর বা কষ্টের শ্বাস; প্রচণ্ড ঘুম বা জাগানো যাচ্ছে না; ঠোঁট নীল হওয়া; খিঁচুনি; তীব্র বিভ্রান্তি; বা সেরোটোনিন সিনড্রোমের লক্ষণ যেমন উচ্চ জ্বর, শরীর শক্ত হওয়া, কাঁপুনি ও অস্থিরতা। মুখ বা গলা ফোলা বা গুরুতর র্যাশ হলেও চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে নিয়মিত খেলে নবজাতকের শ্বাসের সমস্যা ও প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ হতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- এটি নিয়ন্ত্রিত ঔষধ; শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান, নিরাপদে রাখুন এবং কাউকে দেবেন না।
- ফুসফুসের রোগ, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া (স্লিপ অ্যাপনিয়া), মাথায় আঘাত, মৃগীরোগ, লিভার বা কিডনির সমস্যা, থাইরয়েড কম থাকা, বা মাদক বা অ্যালকোহল অপব্যবহারের ইতিহাস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- ঝিমুনি বা মাথা ঘোরা হলে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
- খাওয়ার সময় অ্যালকোহল পান করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন প্রাণঘাতী হতে পারে। লক্ষণ: চোখের মণি খুব ছোট হওয়া, প্রচণ্ড ঝিমুনি, ধীর বা বন্ধ শ্বাস, খিঁচুনি ও অচেতনতা। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য ডাকুন। হাসপাতালে প্রভাব উল্টাতে ন্যালোক্সোন দেওয়া যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কেন্দ্রীয়ভাবে কার্যকর ওপিওয়েড ব্যথানাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। তালাবদ্ধ করে শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন, কারণ ভুলবশত একটি ডোজও প্রাণঘাতী হতে পারে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।