ব্যবহার
ট্যাজোব্যাকটাম একা ব্যবহার হয় না। হাসপাতালে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি পিপেরাসিলিন অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে (কিছু ঔষধে সেফটোলোজেনের সাথে) মিলিয়ে দেওয়া হয়, যেমন:
- নিউমোনিয়া, হাসপাতালে থাকার সময় হওয়া নিউমোনিয়াসহ
- পেটের ভেতরের জটিল সংক্রমণ
- প্রস্রাবের নালি ও কিডনির জটিল সংক্রমণ
- ত্বক ও নরম টিস্যুর গুরুতর সংক্রমণ
- শ্বেত রক্তকণিকা খুব কম থাকা অবস্থায় জ্বর
কীভাবে কাজ করে
অনেক ব্যাকটেরিয়া বিটা-ল্যাকটামেজ নামে এনজাইম তৈরি করে পেনিসিলিন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক নষ্ট করে দেয়। ট্যাজোব্যাকটাম একটি বিটা-ল্যাকটামেজ প্রতিরোধক: এটি এই এনজাইম আটকে দেয়, ফলে সঙ্গী অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া মারতে পারে। ট্যাজোব্যাকটামের নিজের ব্যাকটেরিয়া মারার ক্ষমতা খুব কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাজোব্যাকটাম সঙ্গী অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে নির্দিষ্ট পরিমাণে মেশানো অবস্থায় আসে। ডাক্তার বা নার্স এটি শিরায় ধীরে ধীরে ড্রিপের মাধ্যমে দেন, সাধারণত প্রতি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পরপর। মাত্রা ও চিকিৎসার মেয়াদ সংক্রমণ, ওজন ও কিডনির অবস্থার ওপর নির্ভর করে, তাই ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্রোবেনেসিড রক্তে ট্যাজোব্যাকটাম ও পিপেরাসিলিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়তে পারে।
- ওয়ারফারিন ও হেপারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধে বেশি নজর রাখতে হতে পারে।
- জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড একই ড্রিপে নয়, আলাদাভাবে দেওয়া হয়।
- ভ্যানকোমাইসিনের সাথে দিলে কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
ট্যাজোব্যাকটাম, অন্য কোনো বিটা-ল্যাকটামেজ প্রতিরোধক, কোনো পেনিসিলিন বা সেফালোস্পোরিন, অথবা কার্বাপেনেমে আগে এলার্জি হয়ে থাকলে এটি দেওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মূলত মিশ্রিত ঔষধটির: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, র্যাশ, চুলকানি, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা এবং ড্রিপের জায়গায় ব্যথা।
নিচের যেকোনোটি হলে জরুরি চিকিৎসা নিন (সাথে সাথে ডাক্তার বা নার্সকে জানান):
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বা সারা শরীরে র্যাশ, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া
- তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা
- অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ
- খিঁচুনি বা বিভ্রান্তি
- প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু তখনই দেওয়া হয় যখন ডাক্তার মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানো চলবে কিনা ডাক্তার পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কিডনির রোগ থাকলে মাত্রা সমন্বয় করতে হয়।
- এই ঔষধে সোডিয়ামও থাকে, যা লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ পাওয়া রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- দীর্ঘ চিকিৎসায় রক্তকণিকা, কিডনি ও পটাশিয়ামের পরীক্ষা করতে হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়া কম ঘটে। খুব বেশি মাত্রায়, বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে, খিঁচুনি হতে পারে। চিকিৎসক দল এর চিকিৎসা করেন, এবং ডায়ালাইসিসে রক্ত থেকে ঔষধ বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিটা-ল্যাকটামেজ প্রতিরোধক (বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে ব্যবহৃত)।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেশানোর পর হাসপাতালের কর্মীরা লিফলেটে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।