ব্যবহার
টেনেকটেপ্লেজ একটি রক্তজমাট গলানোর (থ্রম্বোলাইটিক) ঔষধ, যা জরুরি অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকের (অ্যাকিউট ST-এলিভেশন মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যখন বন্ধ ধমনী দ্রুত প্রসিডিউরের মাধ্যমে খোলা সম্ভব নয়। কিছু দেশে রক্তজমাটজনিত কিছু আকস্মিক স্ট্রোকেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
টেনেকটেপ্লেজ শরীরের প্রাকৃতিক প্রোটিন টিস্যু প্লাজমিনোজেন অ্যাক্টিভেটরের একটি পরিবর্তিত রূপ। এটি রক্তজমাটের ফাইব্রিনে লেগে প্লাজমিনোজেনকে প্লাজমিনে রূপান্তর করে, যা রক্তজমাট ভেঙে দেয়। এতে বন্ধ ধমনী আবার খুলে যায় এবং হৃৎপেশিতে রক্ত পৌঁছায়, ক্ষতি কম হয়। লক্ষণ শুরু হওয়ার পর যত দ্রুত দেওয়া যায়, তত ভালো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
টেনেকটেপ্লেজ কেবল হাসপাতালে বা প্রশিক্ষিত জরুরি কর্মী দেন, শিরায় একবারে দ্রুত একটি ইনজেকশন হিসেবে, প্রায় ৫ থেকে ১০ সেকেন্ডে। মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। এটি অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল এবং হেপারিন বা এনঅক্সাপারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ, যেমন অ্যাসপিরিন, ক্লোপিডোগ্রেল, হেপারিন, ওয়ারফারিন ও অন্যান্য অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট বা অ্যান্টিপ্লেটলেট, রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। চিকিৎসা দল এই সংমিশ্রণ সাবধানে পরিকল্পনা করে।
কারা খাবেন না
- সক্রিয় অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে।
- আগে কখনো রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক, বা সম্প্রতি কয়েক মাসের মধ্যে রক্তজমাটজনিত স্ট্রোক হলে।
- সাম্প্রতিক বড় অস্ত্রোপচার, মাথায় আঘাত বা গুরুতর আঘাত হলে।
- মস্তিষ্কে টিউমার বা মস্তিষ্কের রক্তনালির অস্বাভাবিকতা থাকলে।
- গুরুতর অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
- সম্প্রতি অ্যান্টিকোয়াগুলেন্ট নিয়ে রক্ত জমাট পরীক্ষার ফল বেশি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রধান ঝুঁকি রক্তক্ষরণ, ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য রক্ত ঝরা থেকে পাকস্থলী, প্রস্রাব বা মস্তিষ্কে গুরুতর রক্তক্ষরণ পর্যন্ত। রক্তপ্রবাহ ফিরে আসার সময় অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। রক্তচাপ কমে যাওয়া, বমিভাব, জ্বর ও অ্যালার্জি হতে পারে।
রোগীকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, রক্তবমি, কালো পায়খানা, প্রস্রাবে রক্ত বা যেকোনো ভারী রক্তক্ষরণ হলে সঙ্গে সঙ্গে কর্মীদের জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
রক্তক্ষরণের ঝুঁকির কারণে গর্ভাবস্থায় কেবল সম্ভাব্য উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার পর সাধারণত ২৪ ঘণ্টা বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখা হয়; চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
যতটা সম্ভব সুই ফোটানো ও মাংসপেশিতে ইনজেকশন এড়ানো হয়। বয়স্ক, কম ওজন, সাম্প্রতিক সামান্য রক্তক্ষরণ, লিভারের রোগ বা ডায়াবেটিসজনিত চোখের রোগ থাকলে বিশেষ সাবধানতা লাগে। পুনরায় চিকিৎসায় অ্যালার্জি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। হাসপাতালে রক্তক্ষরণ সামলানো হয়, যার মধ্যে রক্ত পাতলা করার ঔষধ বন্ধ করা ও রক্তজাত পণ্য দেওয়া থাকতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
থ্রম্বোলাইটিক এজেন্ট, টিস্যু প্লাজমিনোজেন অ্যাক্টিভেটর (ফাইব্রিনোলাইটিক)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের পণ্য: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে রক্ষায় মূল বাক্সে রাখুন। তৈরি করা দ্রবণ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।