ব্যবহার
টেনক্সিক্যাম ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা কমাতে ব্যবহার হয়:
- অস্টিওআর্থ্রাইটিস (ক্ষয়জনিত গিঁটের ব্যথা)।
- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস।
- অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (মেরুদণ্ডের প্রদাহ)।
- মচকানো, পেশিতে টান, টেন্ডনের প্রদাহ ও বার্সাইটিসের মতো স্বল্পমেয়াদি নরম টিস্যুর সমস্যায়।
কীভাবে কাজ করে
টেনক্সিক্যাম একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID)। এটি COX এনজাইম আটকে দেয়, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক তৈরি করে। এটি শরীরে অনেকক্ষণ থাকে, তাই দিনে একবার খেলেই যথেষ্ট।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে একবার ২০ mg, প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে। দিনে ২০ mg এর বেশি খাবেন না।
- নরম টিস্যুর আঘাতে: সাধারণত ৭ দিন পর্যন্ত; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ১৪ দিনের বেশি নয়।
- বয়স্ক: সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা, সতর্ক পর্যবেক্ষণসহ।
- ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স শিরায় বা মাংসপেশিতে দেন, সাধারণত অল্প কয়েকদিনের জন্য।
- শিশুদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় না।
- যতটুকু দরকার, সবচেয়ে কম মাত্রায় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এসপিরিনসহ অন্য NSAID: বাড়তি উপকার ছাড়াই পাকস্থলীতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- রক্ত পাতলা করার ঔষধ (ওয়ারফারিন), কর্টিকোস্টেরয়েড, এবং সার্ট্রালিন বা ফ্লুওক্সেটিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- রক্তচাপের ঔষধ (যেমন এনালাপ্রিল, লসার্টান) ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ: কার্যকারিতা কমে এবং কিডনির ঝুঁকি বাড়ে।
- লিথিয়াম ও মিথোট্রেক্সেট: এদের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- কোলেস্টাইরামিন টেনক্সিক্যামকে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দেয়।
- মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ঔষধ (সালফোনাইলইউরিয়া): রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।
কারা খাবেন না
- টেনক্সিক্যাম বা অন্য NSAID এ এলার্জি থাকলে, যেমন এসপিরিন বা অন্য ব্যথানাশক খেলে হাঁপানি, চাকা চাকা র্যাশ বা নাক দিয়ে পানি পড়লে।
- পাকস্থলী বা ডিওডিনামে সক্রিয় ঘা (আলসার) থাকলে, বা আগে পাকস্থলীতে রক্তপাত বা ফুটো হয়ে থাকলে।
- গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে।
- হার্টের বাইপাস অপারেশনের আগে-পরে ব্যথার চিকিৎসায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, বুক জ্বালা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও গোড়ালি ফোলা।
নিচের যে কোনোটি হলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, বা পেটে তীব্র ব্যথা।
- বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বা হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
- শোঁ শোঁ শ্বাস, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, বা ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়াসহ তীব্র র্যাশ।
- খুব কম প্রস্রাব হওয়া, বা ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে ২০ সপ্তাহের পর থেকে; শেষ ৩ মাসে কখনোই খাওয়া যাবে না। NSAID গর্ভধারণের সম্ভাবনাও কমাতে পারে। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; এটি শরীরে অনেকক্ষণ থাকে বলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
- অন্য NSAID এর মতো এটিও হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে।
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, হাঁপানি বা আগে পাকস্থলীতে ঘা থাকলে, এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে খেতে হবে।
- দীর্ঘদিন খেলে রক্তচাপ, কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা লাগতে পারে।
- মাথা ঘোরাতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে; ক্ষেত্রবিশেষে কিডনির সমস্যা বা খিঁচুনি। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID); অক্সিক্যাম।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।