বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Tenoxicam

  • 16 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 16 টি কোম্পানি

ব্যবহার

টেনক্সিক্যাম ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা কমাতে ব্যবহার হয়:

  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস (ক্ষয়জনিত গিঁটের ব্যথা)।
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস।
  • অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস (মেরুদণ্ডের প্রদাহ)।
  • মচকানো, পেশিতে টান, টেন্ডনের প্রদাহ ও বার্সাইটিসের মতো স্বল্পমেয়াদি নরম টিস্যুর সমস্যায়।

কীভাবে কাজ করে

টেনক্সিক্যাম একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID)। এটি COX এনজাইম আটকে দেয়, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিক তৈরি করে। এটি শরীরে অনেকক্ষণ থাকে, তাই দিনে একবার খেলেই যথেষ্ট।

মাত্রা ও সেবনবিধি

  • প্রাপ্তবয়স্ক, ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে একবার ২০ mg, প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে। দিনে ২০ mg এর বেশি খাবেন না।
  • নরম টিস্যুর আঘাতে: সাধারণত ৭ দিন পর্যন্ত; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ১৪ দিনের বেশি নয়।
  • বয়স্ক: সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা, সতর্ক পর্যবেক্ষণসহ।
  • ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স শিরায় বা মাংসপেশিতে দেন, সাধারণত অল্প কয়েকদিনের জন্য।
  • শিশুদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় না।
  • যতটুকু দরকার, সবচেয়ে কম মাত্রায় সবচেয়ে কম সময়ের জন্য খান।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • এসপিরিনসহ অন্য NSAID: বাড়তি উপকার ছাড়াই পাকস্থলীতে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
  • রক্ত পাতলা করার ঔষধ (ওয়ারফারিন), কর্টিকোস্টেরয়েড, এবং সার্ট্রালিন বা ফ্লুওক্সেটিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
  • রক্তচাপের ঔষধ (যেমন এনালাপ্রিল, লসার্টান) ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ: কার্যকারিতা কমে এবং কিডনির ঝুঁকি বাড়ে।
  • লিথিয়াম ও মিথোট্রেক্সেট: এদের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
  • কোলেস্টাইরামিন টেনক্সিক্যামকে দ্রুত শরীর থেকে বের করে দেয়।
  • মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ঔষধ (সালফোনাইলইউরিয়া): রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।

কারা খাবেন না

  • টেনক্সিক্যাম বা অন্য NSAID এ এলার্জি থাকলে, যেমন এসপিরিন বা অন্য ব্যথানাশক খেলে হাঁপানি, চাকা চাকা র‍্যাশ বা নাক দিয়ে পানি পড়লে।
  • পাকস্থলী বা ডিওডিনামে সক্রিয় ঘা (আলসার) থাকলে, বা আগে পাকস্থলীতে রক্তপাত বা ফুটো হয়ে থাকলে।
  • গুরুতর হার্ট ফেইলিউর, কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে।
  • গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে।
  • হার্টের বাইপাস অপারেশনের আগে-পরে ব্যথার চিকিৎসায়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: বদহজম, বুক জ্বালা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও গোড়ালি ফোলা।

নিচের যে কোনোটি হলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন:

  • কালো আলকাতরার মতো পায়খানা, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, বা পেটে তীব্র ব্যথা।
  • বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, বা হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া।
  • শোঁ শোঁ শ্বাস, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, বা ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়াসহ তীব্র র‍্যাশ।
  • খুব কম প্রস্রাব হওয়া, বা ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে ২০ সপ্তাহের পর থেকে; শেষ ৩ মাসে কখনোই খাওয়া যাবে না। NSAID গর্ভধারণের সম্ভাবনাও কমাতে পারে। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; এটি শরীরে অনেকক্ষণ থাকে বলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পরামর্শ দেওয়া হয় না।

সতর্কতা

  • অন্য NSAID এর মতো এটিও হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় বা দীর্ঘদিন খেলে।
  • উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা, হাঁপানি বা আগে পাকস্থলীতে ঘা থাকলে, এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে খেতে হবে।
  • দীর্ঘদিন খেলে রক্তচাপ, কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা লাগতে পারে।
  • মাথা ঘোরাতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা ও পাকস্থলীতে রক্তপাত হতে পারে; ক্ষেত্রবিশেষে কিডনির সমস্যা বা খিঁচুনি। সাথে সাথে চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী ঔষধ (NSAID); অক্সিক্যাম।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Tenoxicam এর ব্র্যান্ড

16 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।