ব্যবহার
টারবিনাফিন একটি ছত্রাকনাশক ঔষধ। এটি ব্যবহার হয়:
- নখের ছত্রাক সংক্রমণে (ট্যাবলেট)
- শরীর, কুঁচকি, পা ও মাথার ত্বকের দাদে, যখন ক্রিমে যথেষ্ট কাজ হয় না (ট্যাবলেট)
- ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণে, ক্রিম, জেল বা স্প্রে হিসেবে
- ছুলি ও ত্বকের কিছু ইস্ট সংক্রমণে (ক্রিম)
কীভাবে কাজ করে
ছত্রাকের কোষের আবরণ তৈরিতে দরকারি একটি এনজাইমকে এটি বন্ধ করে দেয়। ফলে ছত্রাকের ভেতরে ক্ষতিকর পদার্থ জমে এবং ছত্রাক মরে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট, প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে ১ বার ২৫০ mg। সাধারণ মেয়াদ: ত্বকের সংক্রমণে ২ থেকে ৬ সপ্তাহ; হাতের নখে প্রায় ৬ সপ্তাহ; পায়ের নখে প্রায় ১২ সপ্তাহ বা বেশি। চিকিৎসা শেষে নতুন সুস্থ নখ গজাতে কয়েক মাস লাগতে পারে। শিশু: ডাক্তারের নির্দেশমতো।
ক্রিম (১%): পরিষ্কার ও শুকনো ত্বকে দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগান, সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহ, বা প্যাকেটের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফামপিসিন টারবিনাফিনের মাত্রা কমায়; সিমেটিডিন ও ফ্লুকোনাজল বাড়াতে পারে।
- টারবিনাফিন কিছু ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে, যেমন অ্যামিট্রিপটিলিন ও অন্যান্য ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্ণতার ঔষধ, মেটোপ্রোলল, প্রোপাফেনোন ও ডেক্সট্রোমেথরফ্যান।
- সাইক্লোস্পোরিনের মাত্রা কমতে পারে।
- ওয়ারফারিন: ডাক্তার INR (রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা) দেখতে পারেন।
- ক্রিমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া নেই।
কারা খাবেন না
- টারবিনাফিনে এলার্জি থাকলে
- ট্যাবলেট: দীর্ঘমেয়াদি বা সক্রিয় লিভারের রোগ, অথবা কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ট্যাবলেট, সাধারণ: পেটের অস্বস্তি, খিদে কমে যাওয়া, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, র্যাশ, জোড়া বা মাংসপেশিতে ব্যথা, এবং স্বাদ কমে যাওয়া বা বদলে যাওয়া (সাধারণত বন্ধ করলে ফিরে আসে)। ক্রিম: হালকা লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালা।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাশে পায়খানা, একটানা বমি বমি ভাব, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা পেটের ডান ওপরের দিকে ব্যথা (লিভারের সমস্যা)
- ত্বকে ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া, বা জ্বরসহ র্যাশ
- গলাব্যথা, জ্বর, মুখে ঘা বা অস্বাভাবিক রক্তপাত (রক্তকণিকা কমে যাওয়া)
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়, এবং বুকের দুধে যায় বলে দুধ খাওয়ানোর সময় ট্যাবলেট এড়িয়ে চলা ভালো। ডাক্তারের পরামর্শে ক্রিম ব্যবহার করা যায়, তবে দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- ট্যাবলেট শুরুর আগে প্রায়ই লিভারের রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
- লিভার বা কিডনির রোগ, সোরিয়াসিস বা লুপাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- ক্রিম: চোখ, মুখ ও কাটা ত্বকে লাগাবেন না।
- ত্বক ও পা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, তোয়ালে বা জুতা অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ট্যাবলেট খেলে মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরা হতে পারে। ডাক্তার বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ছত্রাকনাশক (অ্যালাইলঅ্যামিন শ্রেণি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।