ব্যবহার
টারকোনাজোল যোনিপথের ভেতরে ব্যবহার করে যোনির ছত্রাক সংক্রমণ (ভালভোভ্যাজাইনাল ক্যানডিডিয়াসিস) চিকিৎসা করা হয়। এই সংক্রমণে চুলকানি, জ্বালা, ব্যথা এবং ঘন সাদা স্রাব হয়। এটি যোনিপথের ক্রিম ও যোনিপথের সাপোজিটরি (পেসারি) আকারে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
টারকোনাজোল একটি ট্রায়াজোল শ্রেণির ছত্রাকনাশক। এটি ছত্রাককে আরগোস্টেরল তৈরি করতে দেয় না, যা ছত্রাকের কোষঝিল্লির জরুরি অংশ। ফলে ঝিল্লি দুর্বল হয়ে যায় এবং ক্যানডিডা নামের ইস্ট বাড়তে পারে না ও মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ০.৪% যোনিপথের ক্রিম: টানা ৭ রাত, ঘুমানোর আগে এক অ্যাপ্লিকেটর ভর্তি ক্রিম যোনিপথে দিন।
- ০.৮% যোনিপথের ক্রিম: টানা ৩ রাত, ঘুমানোর আগে এক অ্যাপ্লিকেটর ভর্তি।
- ৮০ mg যোনিপথের সাপোজিটরি: টানা ৩ রাত, ঘুমানোর আগে একটি করে।
মাসিক চললেও এবং লক্ষণ আগে কমে গেলেও পুরো কোর্স শেষ করুন। ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন। চিত হয়ে শুয়ে ঔষধ দিন এবং শুয়ে থাকুন যাতে বেরিয়ে না আসে; প্যান্টি লাইনার ব্যবহার করতে পারেন। ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব সামান্য টারকোনাজোল রক্তে যায়, তাই প্রতিক্রিয়া কম হয়। ক্রিম ও সাপোজিটরির উপাদান ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করতে পারে, ফলে চিকিৎসার সময় ও পরের ৩ দিন এগুলো গর্ভধারণ বা সংক্রমণ থেকে ঠিকমতো রক্ষা নাও করতে পারে। চিকিৎসার সময় ট্যাম্পন, ডুশ ও অন্য যোনিপথের পণ্য এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
টারকোনাজোল বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- মাথাব্যথা
- যোনিপথে জ্বালা, চুলকানি বা অস্বস্তি
- মাসিকের সময় ব্যথা, পেটব্যথা
- জ্বর বা কাঁপুনি (কম দেখা যায়)
সারা শরীরে র্যাশ, আমবাত, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, অথবা ডোজ নেওয়ার পরপরই জ্বর, কাঁপুনি, মাথা ঘোরা বা রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো ফ্লু-সদৃশ লক্ষণ হলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার না বললে গর্ভাবস্থার প্রথম ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না; পরের সময়েও কেবল চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন, এবং অ্যাপ্লিকেটর সাবধানে ব্যবহার করুন বা এড়িয়ে চলুন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
শুধু যোনিপথে ব্যবহারের জন্য; গিলবেন না। প্রথমবার ছত্রাক সংক্রমণ হলে, বছরে ৪ বা তার বেশি বার হলে, জ্বর, তলপেটে ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব, ডায়াবেটিস, দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা যৌনবাহিত সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে আগে ডাক্তার দেখান। ৩ দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে বা ৭ দিন পরেও লক্ষণ থাকলে ডাক্তার দেখান। চিকিৎসার সময় সহবাস এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
যোনিপথে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভুলে গিলে ফেললে ডাক্তার বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
যোনিপথের ছত্রাকনাশক, ট্রায়াজোল অ্যান্টিফাঙ্গাল।
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ক্রিম জমাবেন না; সাপোজিটরি গলে না যায় সেজন্য তাপ থেকে দূরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।