ব্যবহার
টেস্টোস্টেরন আইসোক্যাপ্রোয়েট হলো পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের একটি রূপ (এস্টার)। এটি সাধারণত মিশ্র টেস্টোস্টেরন ইনজেকশনের একটি অংশ হিসেবে থাকে, যেখানে কয়েকটি এস্টার একসাথে দেওয়া হয় যাতে হরমোন কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বের হয়। যেসব পুরুষের শরীরে যথেষ্ট টেস্টোস্টেরন তৈরি হয় না (পুরুষ হাইপোগোনাডিজম), তাদের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। এ অবস্থায় যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, লিঙ্গোত্থানের সমস্যা, ক্লান্তি, পেশি ও হাড় দুর্বল হওয়া বা দেরিতে বয়ঃসন্ধি দেখা দিতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
পেশিতে ইনজেকশন দেওয়ার পর আইসোক্যাপ্রোয়েট এস্টার ধীরে ধীরে ভেঙে টেস্টোস্টেরন তৈরি করে। মিশ্র ইনজেকশনে এটি মাঝারি গতিতে কাজ করে, অর্থাৎ দ্রুত ও ধীরে কাজ করা এস্টারগুলোর মাঝের ফাঁক পূরণ করে। এরপর টেস্টোস্টেরন শরীরের নিজস্ব হরমোনের মতো পুরুষালি বৈশিষ্ট্য, পেশি, হাড়, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও যৌন আগ্রহ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি একটি হরমোন ইনজেকশন, যা ডাক্তার বা নার্স পেশির গভীরে দেন। কত মাত্রায় এবং কত দিন পরপর (প্রায়ই কয়েক সপ্তাহ পরপর) দেওয়া হবে, তা উপসর্গ ও রক্তপরীক্ষা দেখে ডাক্তার নির্ধারণ করেন; চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী নিন। পেশি বাড়ানো বা খেলাধুলায় পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য এটি ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে; রক্তপরীক্ষা দরকার।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঔষধ: রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে, মাত্রা বদলাতে হতে পারে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড (যেমন প্রেডনিসোলন): শরীরে পানি জমা ও ফোলাভাব বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
প্রোস্টেট ক্যান্সার বা পুরুষের স্তন ক্যান্সার থাকলে, ক্যান্সারজনিত রক্তে উচ্চ ক্যালসিয়াম থাকলে, গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, অথবা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। কিছু ইনজেকশনে চিনাবাদামের তেল থাকে, তাই চিনাবাদাম বা সয়াবিনে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত না দিলে নারী ও শিশুদের জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ব্রণ, তৈলাক্ত ত্বক ও শরীরে লোম বৃদ্ধি।
- ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা।
- শরীরে পানি জমা, ওজন বৃদ্ধি ও রক্তচাপ বৃদ্ধি।
- লোহিত রক্তকণিকা বেড়ে রক্ত ঘন হওয়া, মেজাজের পরিবর্তন, স্তন ফুলে যাওয়া।
- ব্যবহারের সময় শুক্রাণু কমে যাওয়া ও অণ্ডকোষ ছোট হওয়া; ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার সমস্যা (স্লিপ অ্যাপনিয়া) বেড়ে যাওয়া।
বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, এক পায়ে ব্যথা বা ফোলা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, ৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ব্যথাযুক্ত লিঙ্গোত্থান বা তীব্র অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় একেবারেই ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে মেয়ে শিশুর শরীরে পুরুষালি বৈশিষ্ট্য তৈরি হতে পারে। নারীদের এই ঔষধের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা উচিত।
সতর্কতা
চিকিৎসার সময় ডাক্তার রক্তকণিকা, প্রোস্টেট (PSA), লিভার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করবেন। হৃদ্রোগ, কিডনি বা লিভারের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মৃগী, মাইগ্রেন, ডায়াবেটিস বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে ডাক্তারকে জানান। উচ্চ মাত্রায় অপব্যবহারে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, লিভারের ক্ষতি, বন্ধ্যাত্ব ও মানসিক সমস্যা হতে পারে। ছেলে শিশুদের হাড়ের বৃদ্ধি আগেভাগে থেমে যেতে পারে, তাই কেবল বিশেষজ্ঞরাই ব্যবহার করেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বাড়তি মাত্রায় গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে বারবার উচ্চ মাত্রায় রক্ত ঘন হওয়া, পানি জমা ও অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। বেশি দেওয়া হয়েছে মনে হলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ যৌন হরমোন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন, ফ্রিজে রাখবেন না এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। হাসপাতালে প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।