ব্যবহার
টেস্টোস্টেরন আনডেকানোয়েট পুরুষ হরমোন টেস্টোস্টেরনের একটি রূপ। যেসব পুরুষের শরীরে পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন তৈরি হয় না (পুরুষ হাইপোগোনাডিজম), উপসর্গ ও রক্ত পরীক্ষায় তা নিশ্চিত হলে টেস্টোস্টেরন প্রতিস্থাপন চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। টেস্টোস্টেরন কম থাকলে যৌন আগ্রহ কমা, লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা, ক্লান্তি, মন খারাপ, পেশি ও শরীরের লোম কমে যাওয়া এবং হাড় দুর্বল হতে পারে। এটি মুখে খাওয়ার সফট ক্যাপসুল এবং চিকিৎসক বা নার্সের দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন হিসেবে পাওয়া যায়। কেবল চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা উচিত।
কীভাবে কাজ করে
টেস্টোস্টেরন আনডেকানোয়েট শরীরে টেস্টোস্টেরনে রূপান্তরিত হয় এবং সারা শরীরের অ্যান্ড্রোজেন রিসেপ্টরে কাজ করে। এটি পুরুষ হরমোনের স্বাভাবিক মাত্রা ফিরিয়ে আনে, যা যৌন কার্যক্ষমতা, পেশি ও হাড়ের শক্তি, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি, শক্তি ও মেজাজে সহায়তা করে। চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে খেলে এটি লসিকাতন্ত্রের মাধ্যমে শোষিত হয়, আর ইনজেকশন দিলে পেশি থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হয়, তাই কম ঘন ঘন ডোজ দিলেই চলে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
উপসর্গ ও রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা ঠিক ও পরিবর্তন করেন। ক্যাপসুল কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে মুখে খেতে হয়, সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় ভাগ করে, চিকিৎসকের নির্দেশমতো; আস্ত গিলে ফেলুন। দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স বড় কোনো পেশিতে ধীরে দেন, চিকিৎসকের নির্ধারিত ব্যবধানে, সাধারণত প্রথম কয়েক ডোজের পর প্রতি ১০ থেকে ১৪ সপ্তাহে। নিজে মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন ও অন্যান্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ: প্রভাব বাড়তে পারে, তাই রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা ঘন ঘন করতে হয়।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের অন্যান্য ঔষধ: রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে, মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড ও ACTH: শরীরে পানি জমা ও ফোলার ঝুঁকি বাড়ে।
- সাইক্লোস্পোরিনসহ কিছু ঔষধে প্রভাব পড়তে পারে; সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- প্রোস্টেট ক্যান্সার বা পুরুষের স্তন ক্যান্সার থাকলে বা সন্দেহ হলে।
- বর্তমানে বা আগে লিভারে টিউমার থাকলে।
- ক্যান্সারজনিত রক্তে উচ্চ ক্যালসিয়াম থাকলে।
- নারীরা, বিশেষ করে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে।
- টেস্টোস্টেরন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে (কিছু ইনজেকশনে ক্যাস্টর অয়েল বা বেনজাইল বেনজোয়েট এবং কিছু ক্যাপসুলে চিনাবাদাম বা সয়াবিন তেল থাকে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ব্রণ ও তৈলাক্ত ত্বক, লোহিত রক্তকণিকা বেড়ে যাওয়া (যা রক্ত ঘন করতে পারে), ওজন বাড়া, শরীরে পানি জমা, স্তনে ব্যথা বা স্তন বড় হওয়া, মাথাব্যথা, মেজাজের পরিবর্তন, যৌন আগ্রহের পরিবর্তন, চুল পড়া, রক্তচাপ বৃদ্ধি, স্লিপ অ্যাপনিয়া বাড়া এবং প্রোস্টেট বড় হয়ে প্রস্রাবের সমস্যা। টেস্টোস্টেরন চিকিৎসা শুক্রাণু তৈরি কমায় এবং প্রজনন ক্ষমতা কমাতে পারে। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা এবং কদাচিৎ ইনজেকশনের সময় বা পরপরই তৈলাক্ত পদার্থজনিত কাশির প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ইনজেকশনের সময় বা পরে কাশির দমক বা অজ্ঞান হওয়া, পায়ে ব্যথা বা ফোলা, শরীরের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশ ভাব, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা ৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী ব্যথাযুক্ত লিঙ্গ উত্থান হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারীরা টেস্টোস্টেরন ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি কন্যা শিশুর মধ্যে পুরুষালি বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে পারে। নারীরা এই ঔষধের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- রক্তে টেস্টোস্টেরন, রক্তের কণিকা (হেমাটোক্রিট), PSA ও প্রোস্টেট, লিভার এবং কোলেস্টেরলসহ নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন।
- হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, মৃগীরোগ, মাইগ্রেন ও স্লিপ অ্যাপনিয়ায় সাবধানে ব্যবহার করুন।
- সুস্থ মানুষের পেশি গঠন বা খেলাধুলায় পারফরম্যান্স বাড়ানোর জন্য নয়; অপব্যবহারে গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
- ছেলে শিশু ও কিশোরদের কেবল বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দিন, কারণ এটি হাড়ের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
- প্রতিযোগিতামূলক খেলায় নিষিদ্ধ।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ক্যাপসুল বেশি খেলে তাৎক্ষণিক গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম। চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন; লোহিত কণিকা বেড়ে যাওয়া বা পানি জমার মতো অতিরিক্ত হরমোনের প্রভাব পরীক্ষা করার দরকার হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্ড্রোজেন (পুরুষ যৌন হরমোন) প্রতিস্থাপন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ক্যাপসুল ফ্রিজে রাখবেন না বা জমাবেন না। ইনজেকশন: প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।