ব্যবহার
টেট্রাসাইক্লিন হাইড্রোক্লোরাইড একটি অ্যান্টিবায়োটিক। ক্যাপসুল ব্যবহার হয়:
- ব্রণ ও রোজেশিয়ায় (প্রায়ই দীর্ঘ কোর্সে)।
- বুকের সংক্রমণে এবং ক্লামিডিয়া, কলেরা ও ব্রুসেলোসিসের (অন্য ঔষধের সাথে) মতো কিছু সংক্রমণে।
- পাকস্থলীর হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি সংক্রমণের কম্বিনেশন চিকিৎসার অংশ হিসেবে।
চোখের মলম ট্রাকোমাসহ ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখের সংক্রমণে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
টেট্রাসাইক্লিন ব্যাকটেরিয়াকে বাড়তে প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করতে দেয় না, ফলে সংক্রমণ ছড়াতে পারে না এবং শরীর তা দূর করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: সংক্রমণ অনুযায়ী সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টায় (দিনে ৪ বার) ২৫০ থেকে ৫০০ mg। ব্রণে সাধারণত ৫০০ mg দিনে ২ বার কয়েক সপ্তাহ, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
- চোখের মলম: পরামর্শমতো নিচের চোখের পাতার ভেতরে অল্প পরিমাণ দিনে ২ থেকে ৪ বার।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: ক্যাপসুল ব্যবহার করা হয় না, কারণ এটি বাড়ন্ত দাঁতে স্থায়ী দাগ ফেলতে পারে।
ক্যাপসুল খালি পেটে, খাবারের ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে, এক গ্লাস পানি দিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে খান। শোয়ার ঠিক আগে খাবেন না। পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, অ্যান্টাসিড এবং ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত সাপ্লিমেন্ট এর শোষণ অনেক কমিয়ে দেয়; এগুলো অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ব্যবধানে খান। টেট্রাসাইক্লিন ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। আইসোট্রেটিনয়েন বা অ্যাসিট্রেটিনের সাথে খাবেন না, কারণ একসাথে খেলে মাথার খুলির ভেতরে চাপ বাড়তে পারে। এটি পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- টেট্রাসাইক্লিন বা এই শ্রেণির অন্য অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি থাকলে।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু (ক্যাপসুল)।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় (ক্যাপসুল)।
- কিডনির গুরুতর রোগ।
- সিস্টেমিক লুপাস ইরিথেমেটোসাস (এসএলই)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, বুকজ্বালা এবং রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা বেড়ে যাওয়া। মুখে বা যোনিতে ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হয়, ঝাপসা বা দুটো করে দেখার সাথে তীব্র মাথাব্যথা হয়, গিলতে ব্যথা বা কষ্ট হয়, বুকের হাড়ের পেছনে ব্যথা হয়, ত্বক বা চোখ হলুদ হয়, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ হয়, অথবা মুখ বা গলা ফুলে শ্বাসকষ্ট হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ক্যাপসুল খাওয়া যাবে না, কারণ এটি শিশুর হাড় ও দাঁতের ক্ষতি করতে পারে এবং মায়ের লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলা উচিত। গর্ভাবস্থা বা দুধ খাওয়ানোর সময় চোখের মলম ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- কিডনি বা লিভারের রোগ এবং মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- তীব্র রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন; সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- মেয়াদ উত্তীর্ণ টেট্রাসাইক্লিন কখনো খাবেন না, কারণ পুরনো ক্যাপসুল কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক বাড়তে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মূলত বমিভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হয়। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টেট্রাসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।