ব্যবহার
টেট্রাহাইড্রোজোলিন (টেট্রিজোলিন নামেও পরিচিত) চোখের লালভাব কমানোর একটি ঔষধ। ধুলাবালি, ধোঁয়া, সুইমিং পুলের পানি, বাতাস বা হালকা অ্যালার্জির কারণে চোখ লাল ও জ্বালাপোড়া হলে অল্প সময়ের জন্য আরাম দিতে এটি ব্যবহার করা হয়। কিছু চোখের ড্রপে এটি অন্য ঔষধের সাথে মেশানো থাকে, যেমন হালকা স্টেরয়েড ফ্লুরোমেথোলোন বা অ্যান্টিহিস্টামিন, যাতে প্রদাহ বা চুলকানিও কমে।
কীভাবে কাজ করে
এটি চোখের সাদা অংশের ফুলে ওঠা ছোট রক্তনালীগুলোকে সংকুচিত করে। ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যে চোখের লালভাব ও ফোলা কমে যায়। তবে এটি জ্বালার মূল কারণ সারায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ৬ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সাধারণত আক্রান্ত চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা, দিনে ৩ থেকে ৪ বার পর্যন্ত, অথবা লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ৩ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। স্টেরয়েডযুক্ত ড্রপ শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
- হাত ধুয়ে, মাথা পেছনে হেলিয়ে, নিচের পাতা টেনে ড্রপ দিন; বোতলের মুখ যেন চোখে না লাগে।
- সফট কন্টাক্ট লেন্স খুলে ড্রপ দিন এবং অন্তত ১৫ মিনিট পর লেন্স পরুন।
- অন্যের সাথে বোতল ভাগাভাগি করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রক্তে খুব সামান্য পরিমাণ যায়, তবুও এমএও ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন), ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (যেমন অ্যামিট্রিপটিলিন) বা রক্তচাপের ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান। ভিন্ন ভিন্ন চোখের ড্রপের মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন।
কারা খাবেন না
টেট্রাহাইড্রোজোলিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে এবং ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। স্টেরয়েডযুক্ত ড্রপ ভাইরাস, ছত্রাক বা চিকিৎসা না হওয়া ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখের সংক্রমণে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প সময়ের জন্য চোখ জ্বালা, ঝাপসা দেখা, চোখের মণি বড় হওয়া ও অস্বস্তি হতে পারে। ঘন ঘন বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ঔষধের প্রভাব কেটে গেলে চোখ আরও লাল হয়ে যেতে পারে। কদাচিৎ মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় বা রক্তচাপ বাড়তে পারে।
চোখে ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, লালভাব বেড়ে যাওয়া বা ৭২ ঘণ্টার বেশি থাকা, কিংবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এর নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই। চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন মনে করলে তবেই, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। চোখে ব্যথা, দৃষ্টির পরিবর্তন বা লালভাব বাড়লে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যান। স্টেরয়েডযুক্ত ড্রপ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে চোখের চাপ বাড়তে বা ছানি পড়তে পারে, তাই নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বিশেষ করে ছোট শিশু ড্রপ গিলে ফেললে তা বিপজ্জনক হতে পারে: ঝিমুনি, শ্বাস ধীর হওয়া, হৃৎস্পন্দন কমে যাওয়া, শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়া বা অচেতন হয়ে পড়া। শিশু যেকোনো পরিমাণ গিলে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। চোখে বেশি ড্রপ দিলে মূলত জ্বালা ও লালভাব বাড়ে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের ডিকনজেস্ট্যান্ট (সিমপ্যাথোমিমেটিক, আলফা-অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার শেষ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।