ব্যবহার
থায়াসেটাজোন একটি পুরোনো যক্ষ্মার ঔষধ। এটি শুধু আইসোনিয়াজিডের সাথে, সাধারণত একই ট্যাবলেটে, যক্ষ্মা (TB) চিকিৎসার অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রিফামপিসিনযুক্ত আরও কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা এটির জায়গা অনেকটাই নিয়েছে, তাই এখন এটি কম ব্যবহৃত হয় এবং শুধু চিকিৎসক বা যক্ষ্মা কর্মসূচির অধীনে।
কীভাবে কাজ করে
থায়াসেটাজোন যক্ষ্মার জীবাণু মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিসের মোমসদৃশ কোষপ্রাচীর তৈরিতে বাধা দিয়ে এর বৃদ্ধি ধীর করে। আইসোনিয়াজিডের সাথে থাকলে জীবাণু আইসোনিয়াজিডের প্রতিরোধী হওয়া এড়াতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক বা যক্ষ্মা কর্মসূচির পরামর্শ অনুযায়ী ঠিকমতো খান, সাধারণত দিনে ১ বার। যক্ষ্মার ঔষধ ভালো লাগলেও পুরো কোর্স, প্রায়ই অনেক মাস, প্রতিদিন খেতে হবে। ডোজ বাদ পড়লে ঔষধপ্রতিরোধী যক্ষ্মা হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- স্ট্রেপ্টোমাইসিনের সাথে কান ও ভারসাম্যের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- সঙ্গে থাকা আইসোনিয়াজিড ফেনিটয়েন ও কার্বামাজেপিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
- অ্যান্টাসিড আইসোনিয়াজিডের শোষণ কমাতে পারে; আলাদা সময়ে খান।
কারা খাবেন না
- থায়াসেটাজোন বা আইসোনিয়াজিডে অ্যালার্জি থাকলে।
- এইচআইভি সংক্রমিত ব্যক্তি: থায়াসেটাজোন তাদের তীব্র ও কখনো মারাত্মক ত্বকের প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে, তাই ব্যবহার করা যাবে না।
- লিভারের রোগ থাকলে।
- আগে কোনো ঔষধে ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমিভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, মাথা ঘোরা, কানে শব্দ এবং আইসোনিয়াজিডের কারণে হাত-পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব ও লিভারের সমস্যা হতে পারে। কদাচিৎ রক্তকণিকা কমে যেতে পারে।
যেকোনো র্যাশ দেখা দিলে, বিশেষ করে ফোসকা, চামড়া ওঠা, মুখে ঘা বা জ্বরসহ (স্টিভেনস জনসন সিন্ড্রোমের মতো গুরুতর প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ), অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ, গাঢ় প্রস্রাব, তীব্র ক্লান্তি, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ হলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত আরও নিরাপদ যক্ষ্মার ঔষধ বেছে নেওয়া হয়। নিজে থেকে যক্ষ্মার চিকিৎসা বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক উপযুক্ত চিকিৎসা বেছে দেবেন।
সতর্কতা
- ব্যবহারের আগে এইচআইভি পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
- আইসোনিয়াজিডজনিত স্নায়ুর ক্ষতি এড়াতে প্রায়ই পাইরিডক্সিন (ভিটামিন B৬) দেওয়া হয়।
- চিকিৎসার সময় লিভারের কাজ পরীক্ষা করা হতে পারে।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে, বিশেষ করে আইসোনিয়াজিডের কারণে, বমি, মাথা ঘোরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, খিঁচুনি ও কোমা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
যক্ষ্মারোধী ঔষধ (থায়োসেমিকার্বাজোন), আইসোনিয়াজিডের সাথে ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।