ব্যবহার
থায়ামিন (ভিটামিন বি১) ব্যবহার হয়:
- ভিটামিন বি১ এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়, যেমন বেরিবেরি, যা স্নায়ু ও হৃৎপিণ্ডের ক্ষতি করে
- অতিরিক্ত মদ্যপান, অপুষ্টি, দীর্ঘদিন বমি, বা ওজন কমানোর অপারেশনের পর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়
- উইরনিকেস এনসেফালোপ্যাথি (বি১ এর ঘাটতিতে মস্তিষ্কের গুরুতর সমস্যা) চিকিৎসায়, হাসপাতালে উচ্চ মাত্রার ইনজেকশনে
বি-কমপ্লেক্স ও মাল্টিভিটামিনে এটি প্রায়ই থাকে।
কীভাবে কাজ করে
থায়ামিন খাবার, বিশেষ করে শর্করাজাতীয় খাবারকে শক্তিতে রূপান্তরে সাহায্য করে। সুস্থ স্নায়ু, মাংসপেশি, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের জন্য এটি অপরিহার্য।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রতিরোধ বা হালকা ঘাটতি, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ১০ থেকে ২৫ mg মুখে খাওয়ার।
- ঘাটতির চিকিৎসায় বা অতিরিক্ত মদ্যপানকারীদের ক্ষেত্রে: প্রায়ই দিনে ১০০ mg বা তার বেশি, ভাগ করে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- ইনজেকশন: মারাত্মক ঘাটতি ও উইরনিকেস এনসেফালোপ্যাথিতে ডাক্তার বা নার্স দেন, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
ট্যাবলেট খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ মাত্রায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। মদ থায়ামিনের শোষণ কমায়, এবং দীর্ঘদিন ফুরোসেমাইড খেলে থায়ামিনের মাত্রা কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
থায়ামিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে (বিরল, মূলত ইনজেকশনে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ট্যাবলেট সাধারণত খুব ভালোভাবে সহ্য হয়; সামান্য পেটের অস্বস্তি হতে পারে। ইনজেকশনে কদাচিৎ মারাত্মক এলার্জি হতে পারে, তাই এটি এমন জায়গায় দেওয়া হয় যেখানে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে।
বিশেষ করে ইনজেকশনের পর মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, সারা শরীরে চুলকানিযুক্ত র্যাশ হলে বা অজ্ঞান লাগলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণ পরামর্শকৃত মাত্রায় নিরাপদ। এ সময় থায়ামিনের চাহিদা কিছুটা বাড়ে, আর গর্ভাবস্থায় তীব্র বমিতে ঘাটতি হতে পারে, তাই ডাক্তার সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন।
সতর্কতা
- অতিরিক্ত মদ্যপানকারী বা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগা মানুষকে গ্লুকোজের আগে বা সাথে থায়ামিন দেওয়া হয়, কারণ শুধু গ্লুকোজ উইরনিকেস এনসেফালোপ্যাথি ঘটাতে পারে; এটি হাসপাতালে করা হয়।
- অতিরিক্ত মদ্যপানকারীর বিভ্রান্তি, টলমল হাঁটা বা চোখের অস্বাভাবিক নড়াচড়া হলে দ্রুত চিকিৎসা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মুখে খাওয়া অতিরিক্ত থায়ামিন প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়, তাই ক্ষতির সম্ভাবনা কম। খুব বেশি খেয়ে ফেললে পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন বি১ (পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।