ব্যবহার
টিমোনিয়াম মিথাইলসালফেট নিচের অঙ্গগুলোর পেশির ব্যথাযুক্ত খিঁচুনি (স্প্যাজম) কমাতে ব্যবহার হয়:
- পাকস্থলি ও অন্ত্র, যেমন ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোম, পেট মোচড়ানো ব্যথা ও খিঁচুনিসহ ডায়রিয়া;
- পিত্তনালি ও পিত্তথলি (বিলিয়ারি কলিক);
- মূত্রনালি, যেমন কিডনির পাথরের ব্যথা (রেনাল কলিক) ও মূত্রথলির খিঁচুনি;
- জরায়ু, যেমন মাসিকের ব্যথা (ডিসমেনোরিয়া)।
কীভাবে কাজ করে
টিমোনিয়াম অ্যান্টিমাসকারিনিক ধরনের একটি খিঁচুনিরোধক ঔষধ। এটি অ্যাসিটাইলকোলিন নামের প্রাকৃতিক রাসায়নিকের কাজ আটকে দেয়, যা মসৃণ পেশিকে সংকুচিত করে, এবং সরাসরি পেশিকেও শিথিল করে। এতে খিঁচুনি ও তার ব্যথা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, ট্যাবলেট: সাধারণত ৫০ mg দিনে দুই বা তিনবার, অথবা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। পানি দিয়ে গিলে খান।
শিশু: বয়স বা ওজন অনুযায়ী সিরাপ, শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
ইনজেকশন: সাধারণত তীব্র কলিক ব্যথায় ডাক্তার বা নার্স পেশিতে বা শিরায় দেন, পরে সম্ভব হলে ট্যাবলেটে বদলানো হয়।
এটি শুধু লক্ষণ কমায়; ব্যথা তীব্র হলে, বারবার ফিরে এলে বা না কমলে কারণ জানতে ডাক্তার দেখান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (যেমন অ্যামিট্রিপটিলিন), কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ও ডাইসোপায়রামাইডের মতো অ্যান্টিমাসকারিনিক প্রভাবযুক্ত ঔষধ মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবে কষ্টের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। টিমোনিয়াম মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডনের কাজ কমাতে পারে। আপনি যে সব ঔষধ, ভিটামিন ও ভেষজ পণ্য খান, তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ন্যারো-অ্যাঙ্গেল (ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল) গ্লুকোমা
- প্রোস্টেট বড় হওয়া বা অন্য বাধার কারণে প্রস্রাবে কষ্ট
- অন্ত্রে বাধা বা অন্ত্রের অবশতা, বা গুরুতর আলসারেটিভ কোলাইটিস
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস
- দ্রুত হৃৎস্পন্দন (ট্যাকিকার্ডিয়া)
- টিমোনিয়াম বা পণ্যের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পিপাসা, ঝাপসা দেখা, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মুখ লাল হওয়া ও ঘুম ঘুম ভাব।
কম ক্ষেত্রে: মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ঘাম কমে যাওয়া ও ত্বকে র্যাশ।
প্রস্রাব একেবারে না হলে; চোখ লাল হয়ে তীব্র ব্যথা, আলোর চারপাশে বলয় দেখা বা দৃষ্টি কমে গেলে (আকস্মিক গ্লুকোমা হতে পারে); খুব দ্রুত বা ধড়ফড় হৃৎস্পন্দন বা বিভ্রান্তি হলে; মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হলে; অথবা পেটব্যথা তীব্র বা টানা হলে, বা জ্বর বা বমির সাথে হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়; বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এটি দুধ কমাতে পারে এবং শিশুর কাছে যেতে পারে।
সতর্কতা
- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের অতিরিক্ত কাজ, বুক জ্বালা (রিফ্লাক্স), লিভার বা কিডনির রোগে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- এটি ঘাম কমায়, তাই গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়ামের সময় শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলুন।
- ঝাপসা দেখা বা ঘুম ঘুম ভাবে গাড়ি বা যন্ত্র চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে মুখ খুব শুকিয়ে যাওয়া, ত্বক গরম, শুকনো ও লাল হওয়া, চোখের মণি বড় হওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধক ঔষধ (অ্যান্টিস্প্যাসমোডিক, অ্যান্টিমাসকারিনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।