ব্যবহার
টাইজিসাইক্লিন হাসপাতালে শিরায় দেওয়া একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা জটিল ত্বক ও নরম টিস্যুর সংক্রমণ এবং পেটের ভেতরের জটিল সংক্রমণে ব্যবহার করা হয়, যখন অন্য অ্যান্টিবায়োটিক উপযুক্ত নয়। সাধারণত বহু ঔষধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য এটি সংরক্ষিত রাখা হয়। ডায়াবেটিক ফুট সংক্রমণ বা হাসপাতালে হওয়া নিউমোনিয়ায় এটি কম কার্যকর বলে ব্যবহার করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
টাইজিসাইক্লিন গ্লাইসাইলসাইক্লিন গোত্রের, যা টেট্রাসাইক্লিনের সাথে সম্পর্কিত। এটি ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন তৈরির অংশ রাইবোসোমে যুক্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি বন্ধ করে। টেট্রাসাইক্লিন প্রতিরোধী অনেক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধেও এটি কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
টাইজিসাইক্লিন ডাক্তার বা নার্স শিরায় ধীরে ইনফিউশন হিসেবে দেন, সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট ধরে, প্রতি ১২ ঘণ্টা পরপর। শুরুতে একটি বেশি মাত্রার লোডিং ডোজ দেওয়া হয়। চিকিৎসা সাধারণত ৫ থেকে ১৪ দিন চলে। গুরুতর লিভার রোগে কম মাত্রা লাগে। চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী মাত্রা নির্ধারিত হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন: রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা (INR) পর্যবেক্ষণ করতে হয়।
- জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ির কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাসের মাত্রা বাড়তে পারে, পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কারা খাবেন না
টাইজিসাইক্লিনে অ্যালার্জি থাকলে দেওয়া হয় না। টেট্রাসাইক্লিনে অ্যালার্জি থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমিভাব ও বমি খুব সাধারণ। এছাড়া ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, লিভার এনজাইম বাড়া, রক্ত জমাট বাঁধায় পরিবর্তন, প্লেটলেট কমা এবং ইনফিউশনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা হতে পারে।
বমিসহ তীব্র পেটব্যথা (প্যানক্রিয়াটাইটিসের সম্ভাবনা), ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, অথবা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন বা সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান। গবেষণায় কিছু অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় এতে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি দেখা গেছে, তাই বিকল্প উপযুক্ত না হলেই এটি ব্যবহার করা হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবহার করলে এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে এবং দাঁতে স্থায়ী দাগ ফেলতে পারে। উপযুক্ত বিকল্প না থাকলেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়। বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- ৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না, কারণ গঠনরত দাঁতে দাগ পড়তে পারে।
- লিভার পরীক্ষা, রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তকণিকা পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে।
- সূর্যালোকে সংবেদনশীলতা বাড়তে পারে; কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে ছত্রাকসহ প্রতিরোধী জীবাণু বাড়তে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি মাত্রায় মূলত বমিভাব ও বমি বাড়ে। চিকিৎসকরা সহায়ক চিকিৎসা দেবেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
গ্লাইসাইলসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকে লেখা নির্দেশ অনুযায়ী, ২৫°C এর নিচে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্রস্তুত দ্রবণ দ্রুত ব্যবহার করতে হয় বা নির্দেশমতো সংরক্ষণ করতে হয়।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।