ব্যবহার
টিমোলল চোখের ড্রপ ওপেন-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা এবং অকুলার হাইপারটেনশনে (চোখের চাপ বেশি, কিন্তু এখনও স্নায়ুর ক্ষতি হয়নি) চোখের ভেতরের বাড়তি চাপ কমায়। চাপ কমলে চোখের স্নায়ু ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত থাকে। প্রায়ই এটি ডরজোলামাইড, ব্রিমোনিডিন, ল্যাটানোপ্রোস্ট বা ট্রাভোপ্রোস্টের মতো অন্য গ্লুকোমার ড্রপের সাথে একসাথে থাকে। কিছু দেশে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগে টিমোলল ট্যাবলেটও আছে, তবে চোখের ড্রপই বেশি প্রচলিত।
কীভাবে কাজ করে
টিমোলল একটি বিটা-ব্লকার। চোখে এটি অ্যাকুয়াস হিউমার (চোখের সামনের অংশে থাকা স্বচ্ছ তরল) তৈরি কমায়, ফলে চাপ কমে। প্রতিটি ড্রপের কিছু অংশ রক্তে মিশে যায়, তাই এটি হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসেও প্রভাব ফেলতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চোখের ড্রপ (0.25% বা 0.5%): সাধারণত আক্রান্ত চোখে দিনে ২ বার ১ ফোঁটা করে। দীর্ঘক্ষণ কাজ করা জেল-জাতীয় ড্রপ সাধারণত দিনে ১ বার। সবসময় চক্ষু বিশেষজ্ঞের নির্দেশ মেনে চলুন।
- হাত ধুয়ে মাথা পেছনে হেলান, নিচের পাতা একটু টেনে ১ ফোঁটা দিন।
- চোখ বন্ধ করে চোখের ভেতরের কোণে ১ থেকে ২ মিনিট আলতো চেপে রাখুন। এতে ঔষধ চোখে বেশি থাকে, শরীরে কম যায়।
- অন্য চোখের ড্রপ ব্যবহার করলে দুটির মাঝে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট বিরতি দিন।
- নরম কন্টাক্ট লেন্স খুলে ড্রপ দিন এবং ১৫ মিনিট পরে আবার পরুন।
- চোখ ভালো লাগলেও প্রতিদিন ব্যবহার করুন। ডাক্তারকে না জিজ্ঞেস করে বন্ধ করবেন না।
ট্যাবলেট: শুধু ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
যেসব ঔষধ খাচ্ছেন সবগুলোর কথা ডাক্তারকে জানান। মুখে খাওয়ার বিটা-ব্লকার (যেমন প্রোপ্রানোলল বা অ্যাটেনোলল) প্রভাব বাড়ায়। ভেরাপামিল, ডিলটিয়াজেম, ডিগক্সিন ও অ্যামিওডারোন হৃৎস্পন্দন আরও ধীর করতে পারে। কুইনিডিন, ফ্লুক্সেটিন ও প্যারোক্সেটিন শরীরে টিমোললের মাত্রা বাড়াতে পারে। ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট খেলে টিমোলল রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে। টিমোলল ব্যবহারের সময় হঠাৎ ক্লোনিডিন বন্ধ করলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- হাঁপানি আছে বা আগে ছিল, অথবা গুরুতর সিওপিডি (দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ)।
- হৃৎস্পন্দন ধীর, হার্ট ব্লক (দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাত্রার) বা পেসমেকার ছাড়া সিক সাইনাস সিনড্রোম।
- নিয়ন্ত্রণহীন হার্ট ফেইলিওর বা কার্ডিওজেনিক শক।
- টিমোলল বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: চোখে জ্বালা, খোঁচা লাগা, চুলকানি বা লাল হওয়া, অল্প সময়ের জন্য ঝাপসা দেখা ও চোখ শুকিয়ে যাওয়া। কম দেখা যায়: হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, হাত-পা ঠান্ডা থাকা, মন খারাপ ও ঘুমের সমস্যা।
শ্বাসকষ্ট বা বুকে সাঁই সাঁই শব্দ, খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, মুখ, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, অথবা চোখে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন। প্রসবের কাছাকাছি সময়ে ব্যবহার করলে নবজাতকের হৃৎস্পন্দন ধীর হতে বা রক্তে শর্করা কমতে পারে, তাই প্রসবকালীন দলকে জানান। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। প্রতিবার ড্রপ দেওয়ার পর চোখের ভেতরের কোণ চেপে রাখলে শিশুর কাছে কম পৌঁছায়।
সতর্কতা
ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, রক্ত চলাচলের সমস্যা, হৃদরোগ বা শ্বাসের কোনো সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান। যেকোনো অপারেশনের আগে ডাক্তার বা অ্যানেস্থেটিস্টকে বলুন যে আপনি টিমোলল ব্যবহার করেন। ঝাপসা দেখা না কাটা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না। ড্রপারের মুখ যেন চোখ বা অন্য কিছুতে না লাগে। নিয়মিত চোখের চাপ পরীক্ষা করান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি ড্রপ দিলে বা দ্রবণ গিলে ফেললে হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে কোনো শিশু গিলে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিটা-ব্লকার (গ্লুকোমার চোখের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন, ফ্রিজে জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্রথমবার খোলার ৪ সপ্তাহ পর, বা লিফলেটে যেমন বলা আছে, বোতলটি ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।