বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Tipiracil

  • 5 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 3 টি কোম্পানি

ব্যবহার

টিপিরাসিল সবসময় ট্রাইফ্লুরিডিনের সাথে একটি সমন্বিত ট্যাবলেট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই ঔষধটি প্রাপ্তবয়স্কদের এমন কোলোরেক্টাল (বৃহদন্ত্র) ক্যান্সার বা পাকস্থলীর ক্যান্সারে দেওয়া হয়, যা শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আগে অন্যান্য প্রচলিত কেমোথেরাপি দেওয়া হয়েছে বা দেওয়া সম্ভব নয়। বৃহদন্ত্রের ক্যান্সারে এটি বেভাসিজুমাবের সাথেও দেওয়া হতে পারে। এটি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের (অনকোলজিস্ট) তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করতে হয়।

কীভাবে কাজ করে

ট্রাইফ্লুরিডিন হলো মূল ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। এটি ক্যান্সার কোষের ডিএনএ-তে স্বাভাবিক উপাদানের জায়গায় ঢুকে পড়ে, ফলে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কোষ বিভাজন বন্ধ হয়ে যায়। শরীরে থাইমিডিন ফসফোরাইলেজ নামের একটি এনজাইম ট্রাইফ্লুরিডিনকে খুব দ্রুত ভেঙে ফেলে। টিপিরাসিল এই এনজাইমকে বাধা দেয়, তাই ট্রাইফ্লুরিডিন বেশি সময় ধরে রক্তে কার্যকর মাত্রায় থাকে। টিপিরাসিলের নিজের সরাসরি ক্যান্সার প্রতিরোধী প্রভাব নেই।

মাত্রা ও সেবনবিধি

অনকোলজিস্ট আপনার উচ্চতা ও ওজন (বডি সারফেস এরিয়া) অনুযায়ী মাত্রা ঠিক করেন; ঠিক যেভাবে প্রেসক্রাইব করা হয়েছে সেভাবেই খাবেন। চিকিৎসা চক্র আকারে চলে, কিছুদিন ঔষধ এবং কিছুদিন বিরতি থাকে। রক্ত পরীক্ষার ফল দেখে চিকিৎসক মাত্রা পিছিয়ে দিতে, কমাতে বা বন্ধ করতে পারেন।

  • দিনে দুইবার, সকাল ও রাতের খাবার শেষ করার ১ ঘণ্টার মধ্যে খান।
  • পানি দিয়ে পুরো ট্যাবলেট গিলে ফেলুন।
  • ডোজ বাদ পড়লে বা খাওয়ার পর বমি হলে বাড়তি ডোজ নেবেন না; পরের ডোজ স্বাভাবিক সময়ে নিন।
  • ট্যাবলেট ধরার পর হাত ধুয়ে ফেলুন। পরিচর্যাকারীরা সম্ভব হলে গ্লাভস পরবেন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

যত ঔষধ খান সব চিকিৎসককে জানান। জিডোভুডিন ও এ ধরনের কিছু অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ এর কার্যকারিতায় বাধা দিতে পারে। এই ঔষধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়, তাই জীবন্ত টিকা (লাইভ ভ্যাকসিন) এড়িয়ে চলা উচিত। রক্তকণিকা কমায় এমন অন্য ঔষধ সংক্রমণ ও রক্তপাতের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

কারা খাবেন না

ট্রাইফ্লুরিডিন, টিপিরাসিল বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি খাবেন না। রক্তকণিকা খুব কম থাকলে চিকিৎসক চিকিৎসা শুরু করবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তকণিকা কমে যাওয়া: শ্বেত রক্তকণিকা কমলে (নিউট্রোপেনিয়া) সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, লোহিত রক্তকণিকা কমলে (রক্তস্বল্পতা) ক্লান্তি ও ফ্যাকাশে ভাব হয়, আর প্লেটলেট কমলে কালশিটে বা রক্তপাত হতে পারে। এছাড়া বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি, দুর্বলতা, পেটব্যথা, জ্বর ও চুল পাতলা হওয়া দেখা দিতে পারে।

৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা বমি, অথবা খুব দুর্বল লাগা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

এই ঔষধ গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীরা চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৬ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন। সঙ্গিনী গর্ভধারণে সক্ষম হলে পুরুষরা চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৩ মাস কনডম ব্যবহার করবেন। চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ১ দিন, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো, বুকের দুধ খাওয়াবেন না।

সতর্কতা

  • প্রতিটি চক্রের আগে ও চিকিৎসার সময় বারবার রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
  • কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্কতা ও মাত্রা পরিবর্তন লাগতে পারে।
  • সংক্রমণের যেকোনো লক্ষণ সঙ্গে সঙ্গে জানান।
  • সম্ভব হলে সংক্রমিত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং হাত পরিষ্কার রাখুন।
  • বয়স্ক রোগীদের রক্তকণিকা কমার সমস্যা বেশি হতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খেলে রক্তকণিকা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; রক্তকণিকা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ক্যান্সার প্রতিরোধী ঔষধ (অ্যান্টিমেটাবোলাইট; ট্রাইফ্লুরিডিনের সাথে ব্যবহৃত থাইমিডিন ফসফোরাইলেজ ইনহিবিটর)।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, মূল প্যাকেটে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Tipiracil যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

5 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।