ব্যবহার
টিরোফিবান একটি অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধ, যা হাসপাতালে অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের দেওয়া হয়, যেমন আনস্টেবল অ্যানজাইনা বা এক ধরনের হার্ট অ্যাটাক (নন-এসটি এলিভেশন মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন)। করোনারি এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট বসানোর সময় কিছু রোগীর হৃদপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
প্লেটলেট হলো রক্তের এমন কোষ যা একসাথে জমাট বেঁধে রক্তের দলা তৈরি করে। টিরোফিবান প্লেটলেটের গ্লাইকোপ্রোটিন IIb/IIIa নামের রিসেপ্টর বন্ধ করে, যা প্লেটলেটগুলোর একটি আরেকটির সাথে লেগে যাওয়ার শেষ ধাপ। এতে সঙ্কুচিত হৃদধমনীতে দ্রুত রক্ত জমাট বাঁধা কমে। ইনফিউশন বন্ধের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এর প্রভাব কমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
টিরোফিবান শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স শিরাপথে ইনফিউশন হিসেবে দেন, সাধারণত একটি শুরুর ডোজের পর অবিরাম ইনফিউশন। শরীরের ওজন অনুযায়ী মাত্রা হিসাব করা হয় এবং কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন। সাধারণত অ্যাসপিরিন, হেপারিন ও অন্য অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধের সাথে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণে এটি দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
হেপারিন, এনোক্সাপারিন, ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, টিকাগ্রেলর, অ্যাসপিরিন, এনএসএআইডি এবং জমাট রক্ত গলানোর (থ্রম্বোলাইটিক) ঔষধের মতো রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব ফেলা ঔষধের সাথে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। হাসপাতালে সাবধানে পর্যবেক্ষণ করে এই সংমিশ্রণগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়। অন্য গ্লাইকোপ্রোটিন IIb/IIIa বাধাদানকারীর সাথে এটি মেশানো যাবে না।
কারা খাবেন না
- টিরোফিবানে অ্যালার্জি থাকলে।
- সক্রিয় রক্তক্ষরণ, বা গত ৩০ দিনের মধ্যে বড় রক্তক্ষরণ হলে।
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কের টিউমার, অ্যানিউরিজম বা আর্টারিওভেনাস ম্যালফরমেশনের ইতিহাস থাকলে।
- গত ৩০ দিনের মধ্যে স্ট্রোক, বা যেকোনো সময় রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক হলে।
- গত এক মাসের মধ্যে বড় অস্ত্রোপচার বা গুরুতর আঘাত হলে।
- অনিয়ন্ত্রিত অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
- প্লেটলেট কম থাকলে, বা আগে টিরোফিবানে প্লেটলেট কমে গিয়ে থাকলে।
- অ্যাওর্টিক ডাইসেকশন, পেরিকার্ডাইটিস বা লিভারের গুরুতর অকার্যকারিতা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তক্ষরণ, যেমন ক্যাথেটার বা ইনজেকশনের জায়গা থেকে রক্ত পড়া, কালশিটে দাগ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা প্রস্রাবে রক্ত। প্লেটলেট কমে যেতে পারে (থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া)। বমিভাব, জ্বর ও মাথাব্যথাও হতে পারে।
বেশি বা থামছে না এমন রক্তক্ষরণ, কালো পায়খানা, রক্তবমি, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টির পরিবর্তন, অথবা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। চিকিৎসক যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে স্পষ্টভাবে বেশি, কেবল তখনই এটি ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে প্লেটলেট, হিমোগ্লোবিন ও রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করা হয়। ধমনীতে সূঁচ ফোটানোর জায়গার বিশেষ যত্ন নেওয়া হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ইনজেকশন বা টিউব এড়ানো হয়। বয়স্ক, কম ওজনের মানুষ, কিডনির সমস্যা বা রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকলে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত মাত্রায় মূলত রক্তক্ষরণ হয়। ইনফিউশন বন্ধ করা হয়, এবং হাসপাতালের দল প্লেটলেট বা রক্ত সঞ্চালনের মতো চিকিৎসা দিতে পারে। হিমোডায়ালাইসিসের মাধ্যমে টিরোফিবান শরীর থেকে সরানো যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিপ্লেটলেট ঔষধ, গ্লাইকোপ্রোটিন IIb/IIIa রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ৩০°C এর নিচে ও আলো থেকে দূরে রাখুন। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।