ব্যবহার
টিভোজানিব একটি ক্যান্সারের ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাডভান্সড রেনাল সেল কার্সিনোমা (এক ধরনের কিডনি ক্যান্সার) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, সাধারণত যখন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে বা আগের চিকিৎসার পর আবার ফিরে এসেছে। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (অনকোলজিস্ট) এটি দেন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন।
কীভাবে কাজ করে
টিউমার বাড়তে নতুন রক্তনালির প্রয়োজন হয়। টিভোজানিব একটি টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর, যা ভিইজিএফ (VEGF) রিসেপ্টরকে আটকে দেয়, অর্থাৎ নতুন রক্তনালি তৈরির সংকেত বন্ধ করে। এতে টিউমারের রক্ত সরবরাহ কমে যায় এবং ক্যান্সারের বৃদ্ধি ও বিস্তার ধীর হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অনকোলজিস্ট যেভাবে দিয়েছেন ঠিক সেভাবেই সেবন করুন। সাধারণত ২১ দিন প্রতিদিন একটি করে ক্যাপসুল, তারপর ৭ দিন বিরতি, এভাবে ২৮ দিনের চক্র বারবার চলে। ক্যাপসুল পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, খাবারের সাথে বা ছাড়া, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে। কোনো ডোজ বাদ পড়লে অতিরিক্ত ডোজ নেবেন না; পরের ডোজ স্বাভাবিক সময়ে নিন। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসক চিকিৎসা সাময়িক বন্ধ রাখতে বা ডোজ কমাতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো শক্তিশালী এনজাইম ইনডিউসার টিভোজানিবের মাত্রা কমিয়ে কার্যকারিতা কমাতে পারে। ভেষজসহ সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান, বিশেষ করে ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ এবং হৃৎস্পন্দনে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ।
কারা খাবেন না
- টিভোজানিব বা ক্যাপসুলের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- সেন্ট জনস ওয়ার্টের সাথে একসাথে নয়।
- বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে উচ্চ রক্তচাপ, ক্লান্তি, ডায়রিয়া, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, গলা ভেঙে যাওয়া, মুখে ঘা, কাশি এবং হাতের তালু ও পায়ের পাতায় লালচে ভাব বা ব্যথা। থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং প্রস্রাবে প্রোটিন দেখা দিতে পারে।
বুকে ব্যথা, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোকের লক্ষণ (শরীরের একপাশে দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা), তীব্র মাথাব্যথাসহ খুব বেশি রক্তচাপ, অস্বাভাবিক রক্তপাত, কালো পায়খানা, পেটে তীব্র ব্যথা বা না শুকানো ক্ষত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
টিভোজানিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারী এবং এমন সঙ্গী আছে এমন পুরুষদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত এক মাস কার্যকর জন্মনিরোধক ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর এক মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
শুরুর আগে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং নিয়মিত মাপতে হবে। এটি ক্ষত শুকাতে দেরি করায়, তাই পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের আগে সাধারণত বন্ধ রাখা হয়। হৃদরোগ, রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস, রক্তপাতের সমস্যা, লিভারের রোগ বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবন করলে তীব্র উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা নিকটস্থ হাসপাতালে যান এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার প্রতিরোধী ঔষধ; ভিইজিএফ রিসেপ্টর টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মূল প্যাকেটে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।