ব্যবহার
টলপেরিসোন একটি মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধ। স্ট্রোকের পরে মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া বা খিঁচুনি ভাব (স্প্যাস্টিসিটি) কমাতে, এবং মেরুদণ্ড ও জোড়ার সমস্যার কারণে কোমর ও ঘাড়ের ব্যথাসহ পেশির টান কমাতে এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের স্নায়ুর অতিরিক্ত সংকেত শান্ত করে, ফলে পেশির শক্ত ভাব ও টান কমে। অনেক পেশি শিথিলকারী ঔষধের তুলনায় এতে ঘুম ঘুম ভাব কম হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫০ mg দিনে ৩ বার। প্রয়োজন অনুযায়ী ডাক্তার ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ১৫০ mg দিনে ৩ বার পর্যন্ত দিতে পারেন। খাবারের পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি নিফ্লুমিক এসিড ও কিছু ব্যথানাশক প্রদাহরোধী ঔষধের কাজ বাড়াতে পারে। অন্য পেশি শিথিলকারী, ঘুমের ঔষধ বা মদের সাথে খেলে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা বাড়তে পারে। যত ঔষধ খাচ্ছেন সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- টলপেরিসোন, এপেরিসোন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার রোগ) থাকলে।
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পেশি দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব ও রক্তচাপ কমে যাওয়া। চামড়ায় র্যাশ বা চাকা, মুখ লাল হয়ে যাওয়া, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা অজ্ঞান ভাবের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন, এবং আর খাবেন না।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে, ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাবেন না।
সতর্কতা
এই ঔষধে কখনও কখনও গুরুতর এলার্জি হতে পারে; লিডোকেইন বা এ ধরনের ঔষধে যাদের এলার্জি আছে তাদের ঝুঁকি বেশি। কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ঘুম ঘুম ভাব, পেশির তীব্র দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনি হতে পারে। দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা পেশি শিথিলকারী।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।