ব্যবহার
টলটেরোডিন টারট্রেট অতিসক্রিয় মূত্রথলির (ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যার লক্ষণ:
- হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র বেগ।
- স্বাভাবিকের চেয়ে ঘনঘন প্রস্রাব।
- টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া।
কীভাবে কাজ করে
টলটেরোডিন একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক ঔষধ, অর্থাৎ মূত্রথলির পেশিকে সংকুচিত করার স্নায়ু-সংকেত এটি আটকে দেয়। এতে মূত্রথলি শিথিল হয়, বেশি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে এবং হঠাৎ বেগ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, সাধারণ ট্যাবলেট: সাধারণত ২ mg দিনে দুইবার।
- এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ক্যাপসুল: সাধারণত ৪ mg দিনে একবার; পুরোটা গিলে খান।
- লিভার বা কিডনির সমস্যা থাকলে, বা কিছু প্রতিক্রিয়াশীল ঔষধ খেলে: সাধারণত ১ mg দিনে দুইবার (বা এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ২ mg দিনে একবার), ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। পুরো উপকার পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে; ডাক্তার দেখবেন এটি কাজ করছে কি না।
- শিশুদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির ও এ ধরনের ঔষধ এর মাত্রা বাড়াতে পারে; তখন কম মাত্রা লাগে।
- অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবযুক্ত অন্য ঔষধ (কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যামিট্রিপটিলিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ, পারকিনসন রোগের ঔষধ) মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বিভ্রান্তি বাড়াতে পারে।
- মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডনের মতো পাকস্থলী দ্রুত খালি করার ঔষধের কাজ কমাতে পারে।
- হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধের সাথে সতর্কতা দরকার।
কারা খাবেন না
- টলটেরোডিন বা ফেসোটেরোডিনে এলার্জি থাকলে।
- মূত্রথলি খালি করতে না পারলে (প্রস্রাব আটকে যাওয়া) বা পাকস্থলী দেরিতে খালি হলে।
- নিয়ন্ত্রণহীন ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (পেশি দুর্বলতার একটি রোগ) থাকলে।
- গুরুতর আলসারেটিভ কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলন থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, ঝাপসা দেখা, চোখ শুকানো, বদহজম ও ক্লান্তি।
নিচের যে কোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- প্রস্রাব একেবারে আটকে গেলে।
- মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে গেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে।
- চোখে ব্যথার সাথে ঝাপসা দেখা বা আলোর চারপাশে বলয় দেখা (গ্লুকোমার আক্রমণ হতে পারে)।
- দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
- বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন (যা নেই তা দেখা বা শোনা) বা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, বিশেষ করে বয়স্কদের।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নিরাপত্তা প্রমাণিত না হওয়ায় গর্ভাবস্থায় এটি পরামর্শ দেওয়া হয় না। বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; ডাক্তার অন্যভাবে না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব বা ঝাপসা দেখা হতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- এটি ঘাম কমায়, তাই গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়ামের সময় শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলুন।
- বয়স্ক, লিভার বা কিডনির রোগ, বড় প্রোস্টেট, অন্ত্রে বাধা, এসিড রিফ্লাক্স বা হৃৎস্পন্দনের ছন্দের সমস্যা থাকলে সাবধানে খেতে হবে।
- প্রস্রাবের লক্ষণের অন্য কারণ, যেমন সংক্রমণ, ডাক্তার আগে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মুখ খুব শুকিয়ে যাওয়া, মুখ লাল হওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, চোখের মণি বড় হওয়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি ও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রথলির খিঁচুনি-রোধী ঔষধ; অ্যান্টিমাসকারিনিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।