ব্যবহার
টপোটেকান একটি কেমোথেরাপি ঔষধ, যা কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়: ফিরে আসা স্মল সেল ফুসফুসের ক্যান্সার, প্রথম চিকিৎসার পর ফিরে আসা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার, এবং সিসপ্লাটিনের সাথে কিছু অগ্রসর বা ফিরে আসা জরায়ুমুখের ক্যান্সার।
কীভাবে কাজ করে
টপোটেকান একটি টপোআইসোমারেজ I ইনহিবিটর। টপোআইসোমারেজ I একটি এনজাইম যা DNA এর প্যাঁচ খুলে দেয়, যাতে কোষ বিভাজনের আগে DNA কপি করতে পারে। টপোটেকান এই এনজাইমকে DNA এর সাথে আটকে ফেলে, ফলে DNA তে ভাঙন তৈরি হয় যা দ্রুত বিভাজিত ক্যান্সার কোষ সারাতে পারে না এবং মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
টপোটেকান ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে দেওয়া হয়। ইনজেকশনটি চিকিৎসক বা নার্স শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে দেন, সাধারণত পরপর কয়েক দিন, নির্দিষ্ট চক্রে বারবার; ক্যাপসুল ব্যবহার হলে ঠিক চিকিৎসকের নির্দেশমতো খান। মাত্রা শরীরের আকার, রক্তকণিকার সংখ্যা ও কিডনির অবস্থা অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ ঠিক করেন, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য কেমোথেরাপি, বিশেষ করে সিসপ্লাটিন, অস্থিমজ্জার উপর প্রভাব বাড়াতে পারে। সাইক্লোস্পোরিন ও আরও কিছু ঔষধ ক্যাপসুল থেকে টপোটেকানের মাত্রা বাড়াতে পারে। চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলতে হবে। আপনার সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসা দলকে জানান।
কারা খাবেন না
- টপোটেকানে অ্যালার্জি থাকলে।
- চক্র শুরুর আগে অস্থিমজ্জা গুরুতরভাবে দমিত থাকলে (রক্তকণিকা খুব কম)।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তকণিকা কমে যাওয়া: শ্বেতকণিকা কম (সংক্রমণের ঝুঁকি), অণুচক্রিকা কম (রক্তপাত বা কালশিটে দাগ) ও রক্তস্বল্পতা (ক্লান্তি)। বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, চুল পড়া, মুখে ঘা, খাবারে অরুচি ও ক্লান্তিও সাধারণ। কদাচিৎ ফুসফুসে প্রদাহ হতে পারে।
৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, তীব্র ডায়রিয়া, নতুন বা বাড়তে থাকা কাশি বা শ্বাসকষ্ট, অথবা খুব দুর্বলতা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
টপোটেকান গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়কে চিকিৎসার সময় এবং এরপর কয়েক মাস, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
প্রতিটি ডোজের আগে ও চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্তকণিকার সংখ্যা পরীক্ষা করা হয়। কিডনির রোগে মাত্রা কমানো হয়। সংক্রমিত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং মুখ পরিষ্কার রাখুন। পরিচর্যাকারীরা ঔষধ ও শরীরের তরল সাবধানে নাড়াচাড়া করবেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে মূলত অস্থিমজ্জা গুরুতরভাবে দমিত হয় ও মুখে ঘা হয়। হাসপাতালে ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী, টপোআইসোমারেজ I ইনহিবিটর (ক্যাম্পটোথেসিন জাতীয়)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের পণ্য: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকে লেখা থাকলে ক্যাপসুল ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখতে হতে পারে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।