ব্যবহার
টরাসেমাইড একটি লুপ ডাইউরেটিক, যাকে প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ বলা হয়। হার্ট ফেইলিউর, কিডনি বা যকৃতের রোগের কারণে শরীর ফোলা (ইডিমা) কমাতে এবং উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
টরাসেমাইড কিডনির লুপ অব হেনলে নামের অংশে কাজ করে লবণ (সোডিয়াম ও ক্লোরাইড) ফিরিয়ে নেওয়া বন্ধ করে। বাড়তি লবণ প্রস্রাবের সাথে পানিও বের করে দেয়, ফলে শরীরে জমা পানি কমে এবং রক্তচাপ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: ইডিমায় ৫ mg দিনে একবার, প্রয়োজনে বাড়িয়ে ১০ থেকে ২০ mg দিনে একবার, বা চিকিৎসকের নির্দেশমতো (কিডনি বিকলে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে কখনো বেশি মাত্রা দেওয়া হয়); উচ্চ রক্তচাপে ২.৫ থেকে ৫ mg দিনে একবার। সকালে খান, খাবারের সাথে বা ছাড়া, যাতে রাতে প্রস্রাবের জন্য উঠতে না হয়। ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কর্টিকোস্টেরয়েড, জোলাপ ও অ্যামফোটেরিসিন বি এর সাথে পটাশিয়াম কমার ঝুঁকি বাড়ে, যা ডিগক্সিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এটি লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID এর কার্যকারিতা কমাতে ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইডের সাথে শ্রবণশক্তি ও কিডনির ক্ষতি বাড়তে পারে। অন্য রক্তচাপের ঔষধ এর প্রভাব বাড়ায়। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- টরাসেমাইড বা সালফোনাইলইউরিয়ায় অ্যালার্জি থাকলে
- কিডনি বিকল হয়ে একেবারে প্রস্রাব না হলে
- যকৃৎজনিত কোমা বা প্রি-কোমা
- নিম্ন রক্তচাপ বা পানিশূন্যতা
- ঠিক করা হয়নি এমন তীব্র সোডিয়াম বা পটাশিয়াম ঘাটতি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশি প্রস্রাব, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, তৃষ্ণা, পেশিতে টান, পেটের সমস্যা এবং রক্তের লবণের পরিবর্তন (পটাশিয়াম, সোডিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমা) সাধারণ। রক্তে শর্করা ও ইউরিক অ্যাসিড (গেঁটেবাতের ঝুঁকি) বাড়তে পারে।
অজ্ঞান হওয়া, তীব্র মাথা ঘোরা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, তীব্র পেশি দুর্বলতা বা টান, বিভ্রান্তি, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ বা শ্রবণশক্তি কমা, খুব কম প্রস্রাব, অথবা গুরুতর ত্বক বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন, কারণ এটি শিশুর কাছে রক্তপ্রবাহ কমাতে পারে। বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই এবং এটি দুধের পরিমাণ কমাতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
চিকিৎসক রক্তচাপ, কিডনির কার্যকারিতা ও রক্তের লবণ পরীক্ষা করবেন। ডায়াবেটিস, গেঁটেবাত, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা প্রস্রাবে সমস্যা থাকলে জানান। বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে ধীরে উঠুন। পরামর্শমতো পানি পান করুন, এবং গরম আবহাওয়ায় বা বমি-ডায়রিয়া হলে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে অতিরিক্ত প্রস্রাব, পানিশূন্যতা, খুব নিম্ন রক্তচাপ, লবণের ভারসাম্যহীনতা, বিভ্রান্তি ও অজ্ঞান হওয়া হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লুপ ডাইউরেটিক
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।