ব্যবহার
ট্রামাডল হাইড্রোক্লোরাইড একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ব্যথানাশক, যা মাঝারি থেকে বেশ তীব্র ব্যথায় দেওয়া হয়, যেমন অপারেশন বা আঘাতের পরের ব্যথা, অথবা প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক যথেষ্ট না হলে বা উপযুক্ত না হলে। এটি ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ধীরে ধীরে কাজ করা (এক্সটেন্ডেড রিলিজ) ট্যাবলেট, সাপোজিটরি ও ইনজেকশন হিসেবে, এবং প্যারাসিটামলের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি ওপিওয়েড, যা মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর ব্যথার রিসেপ্টরে কাজ করে। এটি মস্তিষ্কের দুটি রাসায়নিক, সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিনের মাত্রাও বাড়ায়, যা ব্যথার সংকেত আটকাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মাত্রায় ও যত কম সময় দরকার তত কম সময় ব্যবহার করুন। সাধারণ ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: প্রয়োজনে প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টায় ৫০ থেকে ১০০ mg, ২৪ ঘণ্টায় ৪০০ mg এর বেশি নয়। এক্সটেন্ডেড রিলিজ ট্যাবলেট প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দিনে ১ বা ২ বার আস্ত গিলে খেতে হয়, কখনও গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না। ৭৫ বছরের বেশি বয়সী এবং কিডনি বা লিভারের রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শে কম মাত্রা বা বেশি বিরতি লাগে। প্যারাসিটামলের সাথে মিশ্র ট্যাবলেট: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, এবং একই সময়ে প্যারাসিটামলযুক্ত অন্য কোনো ঔষধ খাবেন না। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- বিষণ্ণতার ঔষধ (যেমন সারট্রালিন, ফ্লুওক্সেটিন, অ্যামিট্রিপটিলিন ও ভেনলাফ্যাক্সিন), এমএও ইনহিবিটর, ট্রিপটান ও লাইনজোলিড সেরোটোনিন সিনড্রোম ও খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ায়; এমএও ইনহিবিটর বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে ট্রামাডল খাবেন না।
- মদ, ঘুমের ঔষধ, ডায়াজেপাম ও অন্যান্য বেনজোডায়াজেপিন, অন্য ওপিওয়েড এবং ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন বিপজ্জনক ঘুমভাব ও শ্বাস ধীর করে দিতে পারে।
- কার্বামাজেপিন এর কাজ কমায় ও খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ায়; অনডানসেট্রন এর ব্যথা কমানোর ক্ষমতা কমাতে পারে।
- এটি ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
ট্রামাডলে এলার্জি থাকলে; ১২ বছরের কম বয়সী শিশু; গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা তীব্র হাঁপানির টান; মদ, ঘুমের ঔষধ, ব্যথানাশক বা মনের ওপর প্রভাব ফেলা অন্য ঔষধে বিষক্রিয়া; গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে; নিয়ন্ত্রণে নেই এমন মৃগী; এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের টনসিল বা অ্যাডিনয়েড অপারেশনের পর।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, মাথা ঘোরা, ঘুম ঘুম ভাব, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, ঘাম ও মুখ শুকানো। নিয়মিত খেলে আসক্তি (ঔষধ ছাড়া চলতে না পারার অনুভূতি) হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: শ্বাস ধীর, অগভীর বা কষ্টকর হয়; অতিরিক্ত ঘুম পায় বা জাগানো কঠিন হয়; খিঁচুনি হয়; অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, জ্বর, বুক ধড়ফড়, মাংসপেশি কাঁপা বা শক্ত হয়ে যাওয়া (সেরোটোনিন সিনড্রোমের লক্ষণ) দেখা দেয়; অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর এলার্জি হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে নিয়মিত খেলে নবজাতকের প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ ও শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। বুকের দুধে যায় বলে দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান, কাউকে দেবেন না; এর অপব্যবহার ও আসক্তি হতে পারে। নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ হতে পারে; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন। ঘুম ঘুম ভাব বা মাথা ঘোরা হলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না, এবং মদ পান করবেন না। মৃগী, মাথায় আঘাত, ফুসফুসের রোগ, কিডনি বা লিভারের রোগে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। শিশু ও অন্যদের নাগালের বাইরে তালাবদ্ধ করে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন জরুরি অবস্থা। লক্ষণ: চোখের মণি খুব ছোট হয়ে যাওয়া, খুব ধীর শ্বাস, অতিরিক্ত ঘুমভাব, খিঁচুনি, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও অজ্ঞান হওয়া। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য নিন বা হাসপাতালে যান; হাসপাতালে প্রতিষেধক (ন্যালোক্সোন) দেওয়া যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ওপিওয়েড ব্যথানাশক (কেন্দ্রীয়ভাবে কাজ করা ব্যথানাশক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে তালাবদ্ধ করে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।