ব্যবহার
ট্রেটিনয়েন মূলত ত্বকে লাগিয়ে ব্রণ (ব্ল্যাকহেড, হোয়াইটহেড ও ফুসকুড়ি) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, এবং কিছু পণ্যে রোদের ক্ষতিজনিত সূক্ষ্ম বলিরেখা, খসখসে ত্বক ও কালো দাগ কমাতেও ব্যবহার হয়। ক্যাপসুল রূপটি হাসপাতালে অন্য চিকিৎসার সাথে অ্যাকিউট প্রোমাইলোসাইটিক লিউকেমিয়া নামে এক ধরনের রক্তের ক্যান্সারে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ট্রেটিনয়েন ভিটামিন এ এর একটি রূপ। ত্বকে এটি ত্বকের কোষ দ্রুত নতুন করে, লোমকূপের মুখ খোলে এবং নতুন ব্ল্যাকহেড হওয়া ঠেকায়। লিউকেমিয়ায় এটি অস্বাভাবিক রক্তকোষকে পরিণত স্বাভাবিক কোষে পরিণত হতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্রিম বা জেল: দিনে একবার রাতে, হালকা ক্লিন্জার দিয়ে মুখ ধুয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন যতক্ষণ না ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যায়, তারপর মটরদানার মতো সামান্য পরিমাণ পাতলা করে পুরো আক্রান্ত জায়গায় লাগান। চোখ, ঠোঁট, নাকের কোণা ও কাটা ত্বক এড়িয়ে চলুন। ত্বক সংবেদনশীল হলে সবচেয়ে কম শক্তির ঔষধ বা এক রাত পরপর দিয়ে শুরু করুন। উন্নতি সাধারণত ৬ থেকে ১২ সপ্তাহ লাগে, এবং প্রথম কয়েক সপ্তাহে ব্রণ বেড়েছে মনে হতে পারে। ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন। ক্যাপসুল: শুধু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে, নির্দেশ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- একই সময়ে বেনজয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড, অ্যালকোহলযুক্ত টোনার, স্ক্রাব বা ঔষধি সাবানের মতো ত্বক শুকানো বা জ্বালা ধরানো পণ্য ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া বাড়ে; কীভাবে সময়ের ব্যবধান রাখবেন তা ডাক্তারের কাছে জেনে নিন।
- ত্বককে রোদে সংবেদনশীল করে এমন অন্য ঔষধের সাথে রোদে পোড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ক্যাপসুল: কিটোকোনাজল ও একই ধরনের ছত্রাকনাশক ট্রেটিনয়েনের মাত্রা বাড়ায়, আর টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক মাথার খুলির ভেতরে চাপ বাড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
ট্রেটিনয়েন বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে; লাগানোর জায়গায় একজিমা, রোদে পোড়া বা কাটা ত্বক থাকলে; গর্ভাবস্থায় বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে। গর্ভাবস্থায় ক্যাপসুল কখনোই খাওয়া যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকে: লালচে ভাব, শুষ্কতা, চামড়া ওঠা, জ্বালাপোড়া এবং প্রথম কয়েক সপ্তাহে সাময়িকভাবে ব্রণ বাড়া; ত্বক রোদ, বাতাস ও ঠান্ডায় বেশি সংবেদনশীল হয়। ক্যাপসুলে মাথাব্যথা, ত্বক ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, হাড়ে ব্যথা ও রক্তে চর্বি বাড়া হতে পারে।
ত্বকে তীব্র ফোলা, ফোসকা বা মামড়ি পড়লে, অথবা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা নিন। ক্যাপসুল খেলে জ্বর, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দ্রুত ওজন বাড়া বা ফোলা, অথবা দৃষ্টির সমস্যাসহ তীব্র মাথাব্যথা হলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ট্রেটিনয়েন ক্যাপসুল গুরুতর জন্মগত ত্রুটি ঘটায়; চিকিৎসার আগে, চলাকালীন ও পরে ডাক্তারের বলা সময় পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আবশ্যক। গর্ভাবস্থায় এবং গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন এমন নারীদের ত্বকে লাগানোর ট্রেটিনয়েনও এড়িয়ে চলা উচিত। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আশেপাশে লাগাবেন না এবং ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন; ক্যাপসুল খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- প্রতিদিন ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং কড়া রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন।
- চিকিৎসাধীন ত্বকে ওয়্যাক্স, লোম তোলার ক্রিম বা কেমিক্যাল পিল করবেন না।
- বেশি পরিমাণে বা বারবার লাগালে দ্রুত কাজ হয় না, শুধু জ্বালাপোড়া বাড়ে।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অন্য ভিটামিন এ জাতীয় ঔষধের সাথে ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে তীব্র লালচে ভাব, চামড়া ওঠা ও অস্বস্তি হয়; কয়েক দিন বন্ধ রেখে কম বার দিয়ে আবার শুরু করুন। ভুল করে গিলে ফেললে বা বেশি ক্যাপসুল খেলে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রেটিনয়েড (ভিটামিন এ জাতীয়), ব্রণরোধী ঔষধ এবং ক্যাপসুল রূপে ক্যান্সাররোধী ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো ও তাপ থেকে দূরে, টিউবের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কিছু জেল দাহ্য; আগুন থেকে দূরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।