ব্যবহার
ট্রায়ামটেরিন একটি হালকা প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (ডাইইউরেটিক), যা শরীরে পটাশিয়াম ধরে রাখে। এটি সাধারণত হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইইউরেটিকের সাথে মিলিয়ে ব্যবহৃত হয়:
- উচ্চ রক্তচাপে
- হার্ট ফেইলিউর, লিভার সিরোসিস বা কিডনির সমস্যাজনিত শরীরে পানি জমায় (ইডিমা)
- অন্য ডাইইউরেটিকের কারণে পটাশিয়াম কমে যাওয়া প্রতিরোধে
কীভাবে কাজ করে
এটি কিডনির নালির শেষ অংশে সোডিয়াম চ্যানেল বন্ধ করে, ফলে প্রস্রাবের সাথে কিছুটা বেশি লবণ ও পানি বের হয় কিন্তু পটাশিয়াম শরীরে থেকে যায়। থায়াজাইডের সাথে মিলে এটি রক্তচাপ কমায় ও পানি বের করে, আর থায়াজাইডের কারণে হওয়া পটাশিয়াম ঘাটতি পুষিয়ে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো খান। হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডযুক্ত মিশ্র ট্যাবলেট সাধারণত সকালে দিনে ১টি করে খাওয়া হয়, প্রয়োজনে চিকিৎসক মাত্রা পরিবর্তন করবেন। রাতে বারবার প্রস্রাবে ঘুম যাতে নষ্ট না হয়, তাই নাশতার পর খান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন বা হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প, অন্য পটাশিয়াম ধরে রাখা ডাইইউরেটিক (স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড), ACE ইনহিবিটর (এনালাপ্রিল, র্যামিপ্রিল), অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার (লোসার্টান) বা ট্রাইমেথোপ্রিমের সাথে খেলে রক্তে পটাশিয়াম বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। NSAID, বিশেষ করে ইন্ডোমেথাসিন, এর সাথে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এটি লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং অন্য রক্তচাপের ঔষধের প্রভাব বাড়ায়।
কারা খাবেন না
রক্তে পটাশিয়াম বেশি, গুরুতর কিডনি রোগ বা প্রস্রাব খুব কম বা বন্ধ, গুরুতর লিভার রোগ, অথবা ট্রায়ামটেরিনে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া অন্য পটাশিয়াম ধরে রাখা ঔষধ বা পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্টের সাথেও এটি এড়ানো হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া
- বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া ও মুখ শুকানো
- মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও পেশিতে টান
- র্যাশ ও রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি
- কিডনিতে পাথর (কদাচিৎ)
- বিশেষ আলোতে প্রস্রাবে নীলচে আভা (ক্ষতিকর নয়)
পেশি দুর্বলতা, অবশ ভাব বা ঝিনঝিন, ধীর বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, কোমরের পাশে তীব্র ব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সাধারণ পা ফোলার জন্য ডাইইউরেটিক ব্যবহার করা হয় না। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই শুধু গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত। এটি বুকের দুধে যায়, তাই স্তন্যদানকারী মায়েরা বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
চিকিৎসক নিয়মিত রক্তে পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করবেন, বিশেষ করে শুরুতে এবং বয়স্ক বা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে। কিডনিতে পাথর, গেঁটেবাত, ডায়াবেটিস, লিভারের রোগ বা ফোলেটের ঘাটতি থাকলে জানান। পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়ামযুক্ত লবণ ব্যবহার করবেন না। রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পানিশূন্যতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বমি, দুর্বলতা এবং পটাশিয়ামের বিপজ্জনক পরিবর্তনে হৃদ্স্পন্দনের সমস্যা হতে পারে। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পটাশিয়াম ধরে রাখা ডাইইউরেটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।