ব্যবহার
ট্রাইফ্লুরিডিন একটি অ্যান্টিভাইরাল ও ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ, যা দুটি ভিন্ন রূপে পাওয়া যায়। চোখের ড্রপ হিসেবে এটি হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসজনিত চোখের সংক্রমণ, যেমন হারপিস কেরাটাইটিস (চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশের সংক্রমণ) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ট্যাবলেট হিসেবে এটি টিপিরাসিলের সাথে মিলিয়ে কিছু অগ্রসর ক্যান্সারে, প্রধানত কোলোরেক্টাল (বৃহদন্ত্র) ও পাকস্থলীর ক্যান্সারে দেওয়া হয়, সাধারণত অন্য চিকিৎসার পরে।
কীভাবে কাজ করে
ট্রাইফ্লুরিডিন ডিএনএ-র একটি গাঠনিক উপাদানের মতো। এটি ভাইরাস বা ক্যান্সার কোষের ডিএনএ-তে ঢুকে তাদের সঠিকভাবে বংশবৃদ্ধি করতে দেয় না, ফলে ভাইরাস বা টিউমার বাড়তে পারে না। ট্যাবলেটে থাকা টিপিরাসিল শরীরে ট্রাইফ্লুরিডিন দ্রুত ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চোখের ড্রপ: চক্ষু বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিক সেভাবে ব্যবহার করুন। সাধারণত শুরুতে দিনে ঘন ঘন, পরে কম বার দেওয়া হয়, এবং চোখের ক্ষতির ঝুঁকির কারণে সাধারণত প্রায় ২১ দিনের বেশি চালানো হয় না।
ট্যাবলেট (টিপিরাসিলসহ): এটি ক্যান্সারের চিকিৎসা। শরীরের আকার অনুযায়ী মাত্রা হিসাব করে বিরতিসহ চক্র আকারে, ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেওয়া হয়। সকাল ও রাতের খাবারের পর এক ঘণ্টার মধ্যে খান। নিজে থেকে মাত্রা পরিবর্তন করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপের তেমন পরিচিত প্রতিক্রিয়া নেই; ভিন্ন চোখের ড্রপের মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন। ট্যাবলেট ডিএনএ-র ওপর প্রভাব ফেলে এমন অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে; চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলুন। হারবাল পণ্যসহ সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
ট্রাইফ্লুরিডিন, টিপিরাসিল বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। গর্ভাবস্থায় ট্যাবলেট ব্যবহার করা যাবে না, এবং বিশেষজ্ঞ অন্যভাবে সিদ্ধান্ত না দিলে গুরুতর লিভারের রোগে এটি উপযুক্ত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপ: জ্বালাপোড়া, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, অস্বস্তি এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে চোখের উপরিভাগের ক্ষতি।
ট্যাবলেট: রক্তকণিকা কমে যাওয়া (বিশেষ করে শ্বেতকণিকা, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে), রক্তস্বল্পতা, প্লাটিলেট কমা, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা ও চুল পাতলা হওয়া। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা দরকার।
জ্বর বা কাঁপুনি, সংক্রমণের লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, তীব্র ডায়রিয়া বা বমি, চোখের ব্যথা বেড়ে যাওয়া বা দৃষ্টি কমে যাওয়া, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ট্যাবলেট গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শমতো পরের কয়েক মাস নারী ও পুরুষ উভয়কেই নির্ভরযোগ্য জন্মনিরোধক ব্যবহার করতে হবে। ট্যাবলেট চলাকালীন বুকের দুধ খাওয়াবেন না। চোখের ড্রপ গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
প্রেসক্রিপশনের চেয়ে বেশি দিন চোখের ড্রপ ব্যবহার করবেন না। প্রায় এক সপ্তাহে উন্নতি না হলে চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যান। ট্যাবলেটের প্রতিটি চক্রের আগে রক্ত পরীক্ষা করতে হয়; কিডনি বা লিভারের সমস্যায় মাত্রা বদলাতে হতে পারে। সম্ভব হলে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চোখে বেশি ড্রপ দিলে সাধারণত গুরুতর ক্ষতি হয় না, তবে জ্বালা হতে পারে। বেশি ট্যাবলেট খেলে রক্তকণিকা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে ও পেটের সমস্যা হতে পারে; সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিভাইরাল (চোখের) এবং ক্যান্সারবিরোধী (নিউক্লিওসাইড অ্যানালগ, ট্যাবলেটে টিপিরাসিলসহ)।
সংরক্ষণ
চোখের ড্রপ: ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না এবং শক্ত করে বন্ধ রাখুন। ট্যাবলেট: ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে রাখুন। সব ধরনই শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।