ব্যবহার
ট্রাইমেটাজিডিন প্রাপ্তবয়স্কদের স্থিতিশীল এনজাইনা পেকটোরিসে (হৃৎপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বুকে ব্যথা) অতিরিক্ত ঔষধ হিসেবে ব্যবহার হয়, যখন বিটা ব্লকার বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারের মতো অন্য ঔষধে লক্ষণ যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আসে না বা সেগুলো সহ্য হয় না।
কীভাবে কাজ করে
ট্রাইমেটাজিডিন হৃৎপেশির কোষকে অক্সিজেন আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে সাহায্য করে। এটি কোষের শক্তি উৎপাদনকে চর্বি পোড়ানো থেকে গ্লুকোজ পোড়ানোর দিকে সরিয়ে দেয়, যাতে কম অক্সিজেন লাগে। এতে রক্তপ্রবাহ কমলেও হৃৎপেশি সুরক্ষিত থাকে, অথচ হৃৎস্পন্দন বা রক্তচাপ বদলায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: ৩৫ mg মডিফাইড-রিলিজ ট্যাবলেট দিনে দুইবার, সকালে ও সন্ধ্যায়, খাবারের সাথে; অথবা সাধারণ ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে ২০ mg দিনে তিনবার। মডিফাইড-রিলিজ ট্যাবলেট পানি দিয়ে আস্ত গিলুন; গুঁড়ো করবেন না বা চিবাবেন না। মাঝারি কিডনি সমস্যা বা ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন, যেমন দিনে একবার ৩৫ mg। প্রায় ৩ মাস পর ডাক্তার উপকার পুনর্মূল্যায়ন করবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া ভালোভাবে জানা নেই। এটি অ্যাসপিরিন, বিটা ব্লকার, নাইট্রেট ও স্ট্যাটিনের মতো অন্য হৃদরোগের ঔষধের সাথে ব্যবহার করা যায়। সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান, বিশেষ করে পারকিনসনের ঔষধ বা কাঁপুনি বা নড়াচড়ার সমস্যা ঘটাতে পারে এমন ঔষধ।
কারা খাবেন না
- ট্রাইমেটাজিডিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- পার্কিনসনস রোগ, পার্কিনসনের মতো লক্ষণ, কাঁপুনি, রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম বা এ ধরনের অন্য নড়াচড়ার সমস্যা।
- গুরুতর কিডনি সমস্যা (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স প্রতি মিনিটে ৩০ ml-এর কম)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, বদহজম, বমিভাব, বমি, র্যাশ, চুলকানি ও দুর্বলতা। কম দেখা যায়: বুক ধড়ফড়, দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া, মুখ লাল হওয়া বা পড়ে যাওয়া। কাঁপুনি, শক্ত ভাব, অস্থির হাঁটা ও পা অস্থির লাগার মতো নড়াচড়ার সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের; ঔষধ বন্ধ করলে সাধারণত এগুলো চলে যায়।
বুকের ব্যথা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বা দীর্ঘস্থায়ী হলে, অজ্ঞান হলে, মুখ বা গলা ফুলে শ্বাসকষ্টসহ তীব্র অ্যালার্জি হলে, বা সারা শরীরে ফোসকাসহ র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সতর্কতা হিসেবে গর্ভাবস্থায় ট্রাইমেটাজিডিন এড়িয়ে চলুন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো পরামর্শ করা হয় না।
সতর্কতা
- এটি হঠাৎ এনজাইনার আক্রমণ বা অস্থিতিশীল এনজাইনার চিকিৎসা নয়, এবং হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসার বিকল্পও নয়; পরামর্শমতো জরুরি ঔষধ (যেমন গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট) সাথে রাখুন।
- কাঁপুনি, শক্ত ভাব বা অন্য নড়াচড়ার সমস্যা হলে ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তারকে জানান।
- মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি হতে পারে; গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
- বয়স্ক ও কিডনি সমস্যার রোগীদের কম মাত্রা ও বেশি ফলো-আপ দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের তথ্য সীমিত। মাথা ঘোরা, রক্তচাপ কমে যাওয়া ও নড়াচড়ার সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকের সাহায্য নিন; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
এনজাইনাবিরোধী ঔষধ; মেটাবলিক মডুলেটর (আংশিক ফ্যাটি অ্যাসিড অক্সিডেশন ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।