ব্যবহার
ট্রাইপ্রোলিডিন অ্যালার্জির উপসর্গ কমাতে ব্যবহার হয়, যেমন নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ, হাঁচি, চোখ চুলকানো ও পানি পড়া, হে ফিভার, আমবাত ও চুলকানি। বেশিরভাগ ঔষধে এটি সিউডোএফেড্রিনের (নাক বন্ধ খোলার ঔষধ) সাথে থাকে, কখনও ডেক্সট্রোমেথরফান বা গুয়াইফেনেসিনের মতো কাশির ঔষধও থাকে, যা সর্দি-কাশির কষ্ট কমায়।
কীভাবে কাজ করে
ট্রাইপ্রোলিডিন একটি অ্যান্টিহিস্টামিন। অ্যালার্জির সময় শরীর হিস্টামিন নামে একটি রাসায়নিক ছাড়ে, যা থেকে হাঁচি, চুলকানি ও নাক দিয়ে পানি পড়ে। এই ঔষধ হিস্টামিনের কাজ আটকে দেয় এবং পানির মতো নিঃসরণ শুকিয়ে আনে। এটি মস্তিষ্কেও পৌঁছায়, তাই প্রায়ই ঘুম ঘুম ভাব হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু (শুধু ট্রাইপ্রোলিডিন): সাধারণত প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর ২.৫ mg, ২৪ ঘণ্টায় ১০ mg এর বেশি নয়।
- মিশ্রিত সিরাপ ও ট্যাবলেট: প্যাকেটের লেবেলে লেখা মাত্রা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খান, কারণ একেক ঔষধের শক্তি একেক রকম।
- ৬ থেকে ১১ বছরের শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে বা লেবেলে সেই বয়সের জন্য লেখা মাত্রায়।
- ৬ বছরের কম বয়সী শিশু: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দেবেন না।
খাবারের আগে বা পরে মুখে খাওয়া যায়। সর্দির জন্য ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কয়েক দিনের বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মদ, ঘুমের ঔষধ, ঘুম পাড়ানো ঔষধ, ট্রামাডলের মতো কড়া ব্যথানাশক এবং অন্য অ্যান্টিহিস্টামিন ঘুম ঘুম ভাব বাড়াতে পারে।
- মনোঅ্যামাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটর (MAOI, পুরনো ধরনের বিষণ্ণতার ঔষধ) খাওয়ার সময় বা বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না, বিশেষ করে সিউডোএফেড্রিনযুক্ত ঔষধ।
- অ্যামিট্রিপটিলিনের মতো যেসব ঔষধ মুখ শুকায়, সেগুলোর সাথে মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবে কষ্ট বাড়তে পারে।
- একসাথে দুটি সর্দি বা অ্যালার্জির ঔষধ খাবেন না, কারণ দুটিতে একই উপাদান থাকতে পারে।
কারা খাবেন না
- ট্রাইপ্রোলিডিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- গত ১৪ দিনের মধ্যে MAOI খেয়ে থাকলে।
- নবজাতক ও অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশু।
- সিউডোএফেড্রিনযুক্ত ঔষধ: খুব বেশি উচ্চ রক্তচাপ বা গুরুতর হৃদরোগ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাবে কষ্ট। শিশুরা ঘুমানোর বদলে অস্থির বা উত্তেজিত হয়ে উঠতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, খিঁচুনি হলে, বুক খুব দ্রুত বা অনিয়মিত ধড়ফড় করলে, অলীক কিছু দেখলে বা প্রস্রাব একেবারে আটকে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান, বিশেষ করে প্রসবের আগের শেষ কয়েক সপ্তাহে। বুকের দুধ: এটি দুধে যায় এবং শিশুকে ঘুমকাতুরে বা খিটখিটে করতে পারে, দুধও কমাতে পারে, তাই ডাক্তার না বললে এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা
এটি ঘুম আনতে পারে, তাই শরীরে কেমন প্রভাব ফেলে তা না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না। গ্লুকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা প্রস্রাবে সমস্যা, মৃগী, লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে, আর সিউডোএফেড্রিনযুক্ত ঔষধের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা থাকলে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। বয়স্কদের বিভ্রান্তি বা টলমল ভাব বেশি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে প্রচণ্ড ঘুম বা উত্তেজনা, বিভ্রান্তি, অলীক কিছু দেখা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া ও খিঁচুনি হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রথম প্রজন্মের (ঘুম আনয়নকারী) অ্যান্টিহিস্টামিন।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।