ব্যবহার
ট্রাইসোডিয়াম সাইট্রেট (সোডিয়াম সাইট্রেট) সাইট্রিক অ্যাসিডের একটি লবণ। পণ্যভেদে এটি ব্যবহার হয়:
- প্রস্রাবের অম্লতা কমাতে (ইউরিনারি অ্যালকালাইজার), যা হালকা সিস্টাইটিসের জ্বালাপোড়া কমাতে এবং ইউরিক অ্যাসিড পাথরের মতো কিছু কিডনির পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে।
- খাবার স্যালাইনের একটি উপাদান হিসেবে, যেখানে এটি ডায়রিয়ায় শরীরে জমা হওয়া অ্যাসিড ঠিক করতে সাহায্য করে।
- রক্তে অতিরিক্ত অ্যাসিড (মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস) ঠিক করতে, যেমন কিছু কিডনি রোগে, ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে।
- রক্ত সংগ্রহ ও ট্রান্সফিউশনের ব্যাগে রক্ত জমাট বাঁধা ঠেকাতে (হাসপাতালে ব্যবহার)।
কীভাবে কাজ করে
শরীর সাইট্রেটকে বাইকার্বনেটে পরিণত করে, যা একটি প্রাকৃতিক ক্ষার। এতে রক্ত ও প্রস্রাবে অ্যাসিড কমে। কম অম্লীয় প্রস্রাব মূত্রথলিতে কম জ্বালা দেয় এবং পাথর তৈরি করা কিছু উপাদানকে দ্রবীভূত রাখে। সাইট্রেট ক্যালসিয়ামকে বেঁধে ফেলে, তাই সংরক্ষিত রক্ত জমাট বাঁধে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ইউরিনারি অ্যালকালাইজার বা মিক্সচার: প্যাকেটের বা ডাক্তারের নির্দেশমতো। দানা বা তরল এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাবারের পরে খান।
- সিস্টাইটিসে ডাক্তার না দেখিয়ে সাধারণত ২ দিনের বেশি খাওয়া হয় না।
- কিডনির পাথর বা অ্যাসিডোসিসে: ডাক্তারের নির্দেশমতো, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা দেখে মাত্রা ঠিক হয়।
- খাবার স্যালাইনের অংশ হিসেবে: স্যালাইনের প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি কিডনি দিয়ে কিছু ঔষধ বের হওয়ার হার বদলে দিতে পারে। এটি লিথিয়াম এবং নাইট্রোফিউরানটয়েন ও মেথেনামিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কমাতে পারে, আর কুইনিডিন ও কিছু উত্তেজক ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে। অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিডের সাথে খাবেন না, কারণ সাইট্রেট অ্যালুমিনিয়ামের শোষণ বাড়ায়। বাড়তি সোডিয়াম রক্তচাপের ঔষধের কাজ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- গুরুতর কিডনি রোগ বা কিডনি বিকল হলে।
- যেসব অবস্থায় লবণ কম খেতে হয়, যেমন হার্ট ফেইলিওর বা তীব্র উচ্চ রক্তচাপ, ডাক্তার না বললে।
- রক্ত আগে থেকেই ক্ষারীয় হলে (মেটাবলিক অ্যালকালোসিস) বা রক্তে ক্যালসিয়াম কম থাকলে।
- নির্দিষ্ট কিছু জীবাণুর কারণে তৈরি পাথরসহ প্রস্রাবের সংক্রমণে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: হালকা পেটের অস্বস্তি, বমিভাব, পাতলা পায়খানা ও নোনতা স্বাদ। খাবারের পরে বেশি পানির সাথে খেলে উপকার হয়।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি মাংসপেশিতে কাঁপুনি বা টান ধরে, মুখের চারপাশে বা আঙুলে ঝিনঝিন করে, বিভ্রান্তি হয়, পা ফুলে যায় বা শ্বাসকষ্ট হয়, হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হয়, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়। প্রস্রাবের সমস্যার সাথে জ্বর, কোমরে ব্যথা বা প্রস্রাবে রক্ত থাকলে, বা ২ দিনে ভালো না হলে ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের যেকোনো সমস্যা ডাক্তারকে দেখানো উচিত, কারণ এ সময় প্রস্রাবের সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা দরকার। শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। স্বাভাবিক মাত্রায় এটি বুকের দুধ খাওয়া শিশুর ক্ষতি করবে বলে আশা করা হয় না।
সতর্কতা
- প্রতিটি মাত্রায় সোডিয়াম থাকে; উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিওর, পা ফোলা ও কিডনি রোগে সাবধান থাকুন।
- পুরুষ, শিশু, অথবা জ্বর বা কোমর ব্যথা আছে এমন কেউ ডাক্তার না দেখিয়ে সিস্টাইটিসে এটি খাবেন না।
- পাথরের জন্য দীর্ঘদিন খেলে নিয়মিত রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা দরকার।
- পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্ত অতিরিক্ত ক্ষারীয় হয়ে যেতে পারে এবং লবণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে মাংসপেশিতে কাঁপুনি, টান, ঝিনঝিন, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
শরীর ও প্রস্রাবের ক্ষারকারক; ইলেক্ট্রোলাইট। সংরক্ষিত রক্তে জমাট বাঁধা রোধক হিসেবেও ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। পাত্র শক্ত করে বন্ধ রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।