ব্যবহার
ট্রোসপিয়াম ক্লোরাইড প্রাপ্তবয়স্কদের ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার (অতিসক্রিয় মূত্রথলি) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এ অবস্থায় হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের বেগ, ঘনঘন প্রস্রাব এবং টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়ার সমস্যা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ট্রোসপিয়াম একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) ঔষধ। এটি মূত্রথলির পেশিতে অ্যাসিটাইলকোলিনের কাজ আটকে দেয়, ফলে পেশি শিথিল হয় এবং কম সংকুচিত হয়। এতে মূত্রথলি বেশি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে এবং বেগ ও লিকেজ কমে। এটি সহজে মস্তিষ্কে প্রবেশ করে না, তাই বিভ্রান্তি তুলনামূলক কম হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: ২০ mg দিনে দুবার, খালি পেটে, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে পানি দিয়ে। কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে এবং ৭৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কারো ক্ষেত্রে চিকিৎসক ডোজ কমিয়ে রাতে শোয়ার আগে দিনে একবার ২০ mg দিতে পারেন। এক্সটেন্ডেড-রিলিজ রূপ লেবেলের নির্দেশমতো দিনে একবার খেতে হয়। সাধারণত প্রায় ৩ মাস পর উপকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্যান্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ (যেমন অক্সিবিউটিনিন, ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতারোধী, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন ও অ্যামান্টাডিন) মুখ শুকানো ও কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। এটি মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডোনের কাজ দুর্বল করতে পারে। মেটফরমিন ও ডিগক্সিনের মতো কিডনি দিয়ে বের হওয়া কিছু ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এক্সটেন্ডেড-রিলিজ রূপ সেবনের ২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- ট্রোসপিয়াম ক্লোরাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- মূত্রথলি খালি করতে না পারলে (ইউরিনারি রিটেনশন)।
- চিকিৎসাহীন ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
- পাকস্থলীতে খাবার আটকে থাকা, গুরুতর আলসারেটিভ কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলন থাকলে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, চোখ শুকানো ও ঝাপসা দেখা। কারো কারো প্রস্রাবে অসুবিধা বা হৃৎস্পন্দন দ্রুত হতে পারে।
প্রস্রাব একেবারে না হলে, ঝাপসা দেখার সাথে চোখে ব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা ও শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত; চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করুন। এটি মানুষের বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
কিডনি বা লিভারের সমস্যা, বর্ধিত প্রোস্টেট, অন্ত্রে বাধা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা বা থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা থাকলে চিকিৎসককে জানান। এটি ঝাপসা দেখা ও ঘুমভাব আনতে পারে, তাই গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন। এটি ঘাম কমায়, তাই গরমে শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে তীব্র অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাব হতে পারে: মুখ খুব শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মুখ লাল হওয়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অস্থিরতা বা হ্যালুসিনেশন। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রনালির খিঁচুনিরোধী ঔষধ; অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।