ব্যবহার
টিউলোবিউটেরল একটি ব্রঙ্কোডাইলেটর, অর্থাৎ শ্বাসনালি খুলে দেয় এমন ঔষধ। ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা, তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস এবং ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে (COPD) শ্বাসনালি সরু হওয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট, শোঁ শোঁ শব্দ ও বুক চাপা ভাব উপশম ও প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
টিউলোবিউটেরল শ্বাসনালির পেশিতে থাকা বিটা-২ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে। এতে পেশি শিথিল হয়, শ্বাসনালি চওড়া হয় এবং বাতাস সহজে আসা-যাওয়া করতে পারে। অনেক পুরনো উপশমকারী ঔষধের চেয়ে এর কার্যকাল বেশি, যা দিন ও রাত জুড়ে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের ট্যাবলেটের সাধারণ মাত্রা দিনে ২ বার ১ mg। শিশুদের মাত্রা (যেমন সিরাপ) বয়স ও ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করেন বা লেবেলে দেওয়া থাকে। ত্বকের প্যাচ দেওয়া হলে প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত দিনে ১ বার একটি ২ mg প্যাচ বুক, পিঠ বা বাহুর উপরের পরিষ্কার ও শুকনো ত্বকে লাগান, প্রতিবার জায়গা বদলান। নির্ধারিত মাত্রার বেশি নেবেন না। হঠাৎ তীব্র আক্রমণে এটি উপশমকারী ইনহেলারের বিকল্প নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার (কিছু চোখের ড্রপসহ) এর কাজ বন্ধ করতে এবং অ্যাজমা বাড়াতে পারে।
- থিওফাইলিন, প্রেডনিসোলোনের মতো কর্টিকোস্টেরয়েড এবং মূত্রবর্ধক ঔষধ রক্তে পটাসিয়াম কমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- সালবিউটামল বা অ্যাড্রেনালিনের মতো অন্য সিম্প্যাথোমিমেটিক ঔষধ দ্রুত হৃৎস্পন্দনের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- মনোঅ্যামাইন অক্সিডেজ ইনহিবিটর ও ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের ওপর প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- টিউলোবিউটেরল বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড় করা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, মাথা ঘোরা, বমিভাব ও পেশিতে টান। প্যাচ লাগানোর জায়গায় লালচে ভাব বা চুলকানি হতে পারে। বেশি মাত্রায় রক্তে পটাসিয়াম কমে যেতে পারে।
বুকে ব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, তীব্র পেশি দুর্বলতা, অজ্ঞান হওয়া, মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ, অথবা ব্যবহারের পর শ্বাসকষ্ট ভালো না হয়ে খারাপ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রমাণিত নয়। মা ও শিশু দুজনের জন্যই অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি, তাই এটি উপযুক্ত কিনা তা চিকিৎসক ঠিক করবেন। বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
সতর্কতা
- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা বা ডায়াবেটিস (রক্তে শর্করা বাড়তে পারে) থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- অ্যাজমায় চিকিৎসক প্রদাহরোধী নিয়ন্ত্রক ঔষধ (যেমন ইনহেলার স্টেরয়েড) দিলে এটি তার সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করতে হবে।
- সাধারণের চেয়ে বেশি ঘন ঘন দরকার হলে বা কম কাজ করলে চিকিৎসক দেখান, কারণ অ্যাজমা খারাপ হচ্ছে হতে পারে।
- তীব্র অ্যাজমায় চিকিৎসক পটাসিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র কাঁপুনি, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বুকে ব্যথা, উত্তেজনা, পটাসিয়াম কমা ও রক্তে শর্করা বাড়া হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন; প্যাচ থাকলে খুলে ফেলুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ব্রঙ্কোডাইলেটর, সিলেকটিভ বিটা-২ অ্যাড্রেনার্জিক এগোনিস্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।