ব্যবহার
টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) টাইফয়েড জ্বর থেকে রক্ষা করতে ব্যবহৃত হয়। টাইফয়েড সালমোনেলা টাইফি নামের ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি গুরুতর সংক্রমণ, যা দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। ৬ মাস বয়স থেকে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি অনুমোদিত, এবং বাংলাদেশের মতো টাইফয়েডপ্রবণ দেশে ও ভ্রমণকারীদের জন্য সুপারিশকৃত।
কীভাবে কাজ করে
টিকায় টাইফয়েড জীবাণুর বাইরের শর্করাজাতীয় আবরণ (ভিআই পলিস্যাকারাইড) একটি বাহক প্রোটিনের সাথে যুক্ত অবস্থায় থাকে। এভাবে যুক্ত থাকায় ছোট শিশুরও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে, যা পরে টাইফয়েড জীবাণুর সংস্পর্শে এলে তাকে প্রতিহত করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক, নার্স বা প্রশিক্ষিত টিকাদানকারী মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে এটি দেন, সাধারণত একটি ডোজ, চিকিৎসক বা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরে বুস্টার ডোজের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাধারণত একই দিনে অন্য জায়গায় হাম-রুবেলার মতো শিশুদের অন্য টিকার সাথে এটি দেওয়া যায়। রোগ প্রতিরোধ কমায় এমন ঔষধ (যেমন বেশি মাত্রার স্টেরয়েড, কেমোথেরাপি) টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে। এতে জীবন্ত জীবাণু নেই, তাই অ্যান্টিবায়োটিক এর ওপর প্রভাব ফেলে না।
কারা খাবেন না
- আগের ডোজে বা কোনো উপাদানে তীব্র অ্যালার্জি হয়ে থাকলে
- উচ্চ জ্বরসহ মাঝারি বা গুরুতর অসুস্থতায় টিকা পিছিয়ে দিন (সাধারণ সর্দি থাকলে দেরি করার দরকার নেই)
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লালভাব বা ফোলা, হালকা জ্বর, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, মাংসপেশিতে ব্যথা ও ছোট শিশুদের খিটখিটে মেজাজ সাধারণ। এগুলো সাধারণত ১ থেকে ২ দিনে সেরে যায়।
টিকার পর মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে চাকা চাকা র্যাশ, অজ্ঞান হওয়া বা খুব বেশি জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। এ কারণে টিকাকেন্দ্রে টিকার পর প্রায় ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় তথ্য সীমিত। এটি জীবন্ত টিকা নয়; চিকিৎসক যখন মনে করেন উপকার সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তখনই গর্ভাবস্থায় দেওয়া হয়। বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েরা এটি নিতে পারেন।
সতর্কতা
এই টিকা প্যারাটাইফয়েড বা অন্য কারণে খাদ্যবিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করে না, এবং কোনো টিকাই সবাইকে সুরক্ষা দেয় না; নিরাপদ খাবার, পানি ও হাত ধোয়ার অভ্যাস চালিয়ে যান। রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা, রক্ত পাতলা করার ঔষধ বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ থাকলে টিকাদানকারীকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মী দেওয়ায় মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। অতিরিক্ত একটি ডোজে গুরুতর ক্ষতি আশা করা হয় না, তবে ইনজেকশনের জায়গায় প্রতিক্রিয়া বেশি হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টিকা (ব্যাকটেরিয়াল, কনজুগেট, নিষ্ক্রিয়)।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না, আলো থেকে রক্ষা করুন। ফার্মেসি বা টিকাকেন্দ্র প্যাকের নির্দেশ অনুযায়ী সংরক্ষণ করে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।