ব্যবহার
ইউরিয়া ক্রিম, লোশন বা অয়েন্টমেন্ট শুষ্ক, খসখসে ও আঁশযুক্ত ত্বকের সমস্যায় ত্বকে ব্যবহার করা হয়, যেমন খুব শুষ্ক ত্বক, একজিমা, ইকথায়োসিস (মাছের আঁশের মতো ত্বক), গোড়ালি ফাটা, কড়া ও পুরু হয়ে যাওয়া ত্বক। বেশি শক্তির (প্রায় ৪০%) ইউরিয়া পুরু বা নষ্ট নখ নরম করতে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ইউরিয়া ত্বকের উপরের স্তরে পানি টেনে ধরে রাখে, ফলে ত্বক নরম ও আর্দ্র থাকে। বেশি শক্তিতে এটি শক্ত ও পুরু ত্বক এবং নখের অংশকে আলগা করে ভেঙে দেয়, যাতে সহজে ঝরে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু ত্বকে ব্যবহারের জন্য। প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু: আক্রান্ত জায়গায় দিনে ১ থেকে ২ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতো করে ঘষে দিন, অথবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। নখের জন্য ডাক্তার যে শক্তি ও পদ্ধতি বলেন শুধু সেটিই ব্যবহার করুন। শিশু ও মুখের জন্য সাধারণত কম শক্তির ইউরিয়া ব্যবহার হয়; ছোট বাচ্চার ত্বকে লাগানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। হাতের চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই জায়গায় লাগানো অন্য ঔষধ, যেমন স্টেরয়েড ক্রিম, ত্বকে বেশি শোষিত হতে পারে। দুটির মাঝে সময় রাখুন, অথবা কোনটি আগে লাগাবেন তা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের কাছে জেনে নিন।
কারা খাবেন না
- ইউরিয়া বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ফাটা, ছেঁড়া, সংক্রমিত বা খুব প্রদাহযুক্ত ত্বকে কিংবা খোলা ক্ষতে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
হালকা জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা লাল ভাব হতে পারে, বিশেষ করে ফাটা ত্বকে বা বেশি শক্তির ক্রিমে। নিয়মিত ব্যবহারে এটি প্রায়ই কমে যায়।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। তীব্র জ্বালা, ফোসকা বা ছড়িয়ে পড়া র্যাশ হলে ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক দিয়ে খুব সামান্য শোষিত হয়, তাই নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়। দুধ খাওয়ানোর ঠিক আগে স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। খাবেন না।
- চোখ, নাক ও মুখের ভেতর এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর জায়গায় লাগাবেন না; লেগে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- দুই সপ্তাহে উন্নতি না হলে বা সমস্যা বাড়লে ডাক্তার দেখান।
- ডায়াবেটিস বা রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে পায়ের কড়া ও নখের সমস্যা নিজে চিকিৎসা করার আগে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে জ্বালা হতে পারে; অতিরিক্ত অংশ ধুয়ে ফেলুন। কেউ, বিশেষ করে শিশু, বেশি পরিমাণ খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমোলিয়েন্ট ও কেরাটোলাইটিক (ত্বক নরমকারী ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে, সরাসরি রোদ থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। টিউব বা কৌটা ভালোভাবে বন্ধ রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।