ব্যবহার
ভ্যালাসাইক্লোভির হারপিস ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ভাইরাসবিরোধী ঔষধ। এটি দাদ বা শিংগেলস (হারপিস জস্টার), যৌনাঙ্গের হারপিসের প্রথম ও পুনরাবৃত্ত আক্রমণ এবং ঠোঁটের ঘা (কোল্ড সোর) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন খেলে যৌনাঙ্গের হারপিস বারবার হওয়া এবং সঙ্গীর মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকি কমে। কিছু অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর সাইটোমেগালোভাইরাস (CMV) প্রতিরোধেও বিশেষজ্ঞরা এটি দেন।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে ভ্যালাসাইক্লোভির অ্যাসাইক্লোভিরে রূপান্তরিত হয়। হারপিস আক্রান্ত কোষে অ্যাসাইক্লোভির ভাইরাসের ডিএনএ তৈরির এনজাইম আটকে দেয়, ফলে ভাইরাস বাড়তে পারে না। এটি শরীর থেকে ভাইরাস পুরোপুরি দূর করে না, তবে আক্রমণ সংক্ষিপ্ত ও হালকা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: শিংগেলসে ১ g দিনে তিনবার ৭ দিন; যৌনাঙ্গের হারপিসের প্রথম আক্রমণে ১ g দিনে দুইবার ১০ দিন; পুনরাবৃত্ত আক্রমণে ৫০০ mg দিনে দুইবার ৩ থেকে ৫ দিন; পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে ৫০০ mg দিনে একবার; ঠোঁটের ঘায়ে ২ g একদিনে দুইবার, ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে। লক্ষণ দেখা দেওয়ামাত্র শুরু করুন। কিডনির রোগে মাত্রা কম লাগে। শিশু ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন রোগী: চিকিৎসকের নির্দেশমতো। খাবারের সাথে বা ছাড়া খাওয়া যায়, পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, ব্যথানাশক NSAID ও উচ্চমাত্রার মেথোট্রেক্সেটের মতো কিডনিতে প্রভাব ফেলা ঔষধের সাথে সাবধানে ব্যবহার করুন। সিমেটিডিন ও প্রোবেনেসিড এর মাত্রা বাড়াতে পারে। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- ভ্যালাসাইক্লোভির, অ্যাসাইক্লোভির বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মাথাব্যথা, বমি ভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা ও র্যাশ সাধারণ। বয়স্ক বা কিডনি রোগীদের, বিশেষত বেশি মাত্রায়, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা বা হ্যালুসিনেশন (অবাস্তব কিছু দেখা বা শোনা) হতে পারে।
মুখ বা গলা ফোলা বা শ্বাস নিতে কষ্ট, তীব্র ত্বকের প্রতিক্রিয়া, বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া, অথবা অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং স্পষ্ট ক্ষতি দেখা যায়নি, তবে চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করুন। অ্যাসাইক্লোভির অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সাথে মানানসই ধরা হয়, তবে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
পর্যাপ্ত পানি পান করুন। কিডনির রোগ বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকলে চিকিৎসককে জানান। চিকিৎসা চলাকালেও যৌনাঙ্গের হারপিস ছড়াতে পারে; আক্রমণের সময় যৌনমিলন এড়িয়ে চলুন এবং কনডম ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে কিডনির সমস্যা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, অস্থিরতা ও চেতনা কমে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভাইরাসবিরোধী (নিউক্লিওসাইড অ্যানালগ)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।