ব্যবহার
ভ্যালপ্রোয়েক অ্যাসিড বিভিন্ন ধরনের মৃগী (খিঁচুনি) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন অ্যাবসেন্স, জেনারেলাইজড ও ফোকাল খিঁচুনি, একা বা অন্য ঔষধের সাথে। বাইপোলার ডিজঅর্ডারের ম্যানিয়া পর্বে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মাইগ্রেন প্রতিরোধেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ভ্যালপ্রোয়েক অ্যাসিড মস্তিষ্কের প্রধান শান্তকারক রাসায়নিক বার্তাবাহক GABA এর পরিমাণ বাড়ায় এবং স্নায়ুকোষের কিছু সোডিয়াম ও ক্যালসিয়াম চ্যানেল আটকে দেয়। এতে খিঁচুনি সৃষ্টিকারী অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক সংকেত কমে এবং মেজাজ স্থির থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশ ঠিক মেনে সেবন করুন। মাত্রা রোগ ও ওজনের উপর নির্ভর করে; সাধারণত কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে রক্ত পরীক্ষা ও ফলাফল দেখে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। ক্যাপসুল পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান, পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে বা পরে; চিবাবেন না। প্রতিদিন একই সময়ে খান। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে খিঁচুনি হতে পারে; প্রয়োজনে চিকিৎসক ধীরে ধীরে কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ভ্যালপ্রোয়েক অ্যাসিড অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। এটি ল্যামোট্রিজিন, ফেনোবার্বিটাল, ইথোসক্সিমাইড ও জিডোভুডিনের মাত্রা বাড়ায়। কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও ফেনোবার্বিটাল এর মাত্রা কমাতে পারে। কার্বাপেনেম অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন মেরোপেনেম ও ইমিপেনেম) এর মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়, তাই এড়ানো উচিত। অ্যাসপিরিন এর প্রভাব ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে; ওয়ারফারিনের প্রভাবও বাড়তে পারে। টপিরামেটের সাথে রক্তে অ্যামোনিয়া বাড়তে পারে। অ্যালকোহল ঘুমভাব বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- সক্রিয় বা গুরুতর লিভারের রোগ, বা পরিবারে ভ্যালপ্রোয়েট-সংক্রান্ত গুরুতর লিভার রোগের ইতিহাস।
- POLG-সংক্রান্ত রোগের মতো মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ।
- ইউরিয়া সাইকেলের রোগ।
- পরফাইরিয়া।
- বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা মাইগ্রেনের জন্য গর্ভাবস্থায়; মৃগীতে কেবল অন্য উপযুক্ত বিকল্প না থাকলে।
- ভ্যালপ্রোয়েটে অ্যালার্জি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, হাত কাঁপা, ওজন বাড়া, ক্ষুধা বাড়া, চুল পাতলা হওয়া বা ঝরে যাওয়া, ঘুমভাব এবং মাসিকের পরিবর্তন। প্লেটলেট কমে গিয়ে সহজে কালশিটে দাগ পড়তে পারে।
লিভারের ক্ষতির লক্ষণ (অস্বাভাবিক ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমি, ত্বক বা চোখ হলুদ, পা বা পেট ফোলা), পিঠে ছড়িয়ে পড়া তীব্র পেটব্যথা (সম্ভাব্য প্যানক্রিয়াটাইটিস), ক্রমশ বাড়তে থাকা বিভ্রান্তি বা ঘুমভাব, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ বা কালশিটে দাগ, তীব্র র্যাশ, বা নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভে ভ্যালপ্রোয়েক অ্যাসিডের সংস্পর্শে এলে শিশুর গুরুতর জন্মগত ত্রুটি এবং শেখা ও বিকাশের সমস্যা হতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম মেয়ে ও নারীরা অন্য চিকিৎসা উপযুক্ত না হলে এবং কার্যকর জন্মনিরোধকসহ গর্ভধারণ প্রতিরোধ কর্মসূচি মেনে চললেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না; জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে, বিশেষ করে প্রথম ৬ মাসে, লিভারের কার্যকারিতা ও রক্তকণিকা পরীক্ষা করা হয়। ৩ বছরের কম বয়সী শিশু এবং একাধিক খিঁচুনিরোধী ঔষধ সেবনকারীদের লিভার ক্ষতির ঝুঁকি বেশি। এটি ঘুমভাব আনতে পারে, তাই গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন। এটি রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাই অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে গভীর ঘুমভাব, বিভ্রান্তি, ধীর শ্বাসপ্রশ্বাস, নিম্ন রক্তচাপ ও কোমা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী (অ্যান্টিএপিলেপটিক) ঔষধ; মেজাজ স্থিতিশীলকারক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।