ব্যবহার
এটি শিরাপথে (IV) পুষ্টির জন্য একটি ঘন, জীবাণুমুক্ত অ্যামিনো অ্যাসিড দ্রবণ। রোগী যখন অন্ত্র দিয়ে যথেষ্ট প্রোটিন খেতে বা শোষণ করতে পারেন না, যেমন বড় অস্ত্রোপচারের পর, গুরুতর অসুস্থতা, পোড়া, আঘাত বা অন্ত্রের অকার্যকারিতায়, তখন এটি শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের উপাদান সরবরাহ করে। সাধারণত এটি গ্লুকোজ, চর্বির ইমালশন, ইলেক্ট্রোলাইট, ভিটামিন ও ট্রেস এলিমেন্টের সাথে পূর্ণ প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেওয়া হয় এবং কিছু তৈরি মিশ্রণের একাধিক পকেটের পুষ্টি ব্যাগের একটি উপাদানও এটি।
কীভাবে কাজ করে
দ্রবণে সুষম পরিমাণে অপরিহার্য ও অনপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। রক্তে পৌঁছানোর পর কোষগুলো এগুলো গ্রহণ করে পেশি, অঙ্গ, এনজাইম, রক্তকণিকা ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য নতুন প্রোটিন তৈরি করে এবং টিস্যু মেরামত ও ক্ষত শুকানোর কাজে লাগায়। খাবার খাওয়া সম্ভব না হলে অ্যামিনো অ্যাসিড দিলে শরীর নিজের পেশি ভাঙা থেকে রক্ষা পায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক ও নার্স এটি দেন। রোগীর ওজন, অসুস্থতা, কিডনি ও লিভারের কাজ, তরলের প্রয়োজন ও রক্ত পরীক্ষা অনুযায়ী পরিমাণ ও গতি হিসাব করে ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়। ঘন হওয়ায় এটি সাধারণত বড় কেন্দ্রীয় শিরায় দেওয়া হয়, অথবা অন্য পুষ্টি দ্রবণের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এটি ধীরে, প্রায়ই ২৪ ঘণ্টা ধরে দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফার্মেসির নির্দেশনায় শুধু উপযুক্ত উপাদানই দ্রবণে মেশানো উচিত, কারণ কিছু ঔষধ অস্থিতিশীল হতে পারে বা তলানি তৈরি করতে পারে। গ্লুকোজের সাথে দিলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন লাগতে পারে। অন্য সব ঔষধ ও স্যালাইন সম্পর্কে চিকিৎসা দলকে জানান।
কারা খাবেন না
অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের জন্মগত ত্রুটি, গুরুতর লিভার বিকলতা বা লিভার কোমা, ডায়ালাইসিসের সুবিধা ছাড়া গুরুতর কিডনি বিকলতা, রক্তে অ্যামোনিয়া বেশি, অনিয়ন্ত্রিত অ্যাসিডোসিস, শক, শরীরে অতিরিক্ত তরল বা ফুসফুসে পানি জমা, অথবা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে আছে বমি বমি ভাব, বমি, মুখ লাল হওয়া, জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা এবং ইনফিউশনের জায়গায় শিরায় ব্যথা বা প্রদাহ, বিশেষ করে খুব দ্রুত দিলে। দীর্ঘ ব্যবহারে রক্তে ইউরিয়া বা অ্যামোনিয়া বাড়া, অম্ল-ক্ষার ও ইলেক্ট্রোলাইটের গরমিল এবং লিভারের পরিবর্তন হতে পারে। IV লাইনে সংক্রমণ একটি গুরুতর ঝুঁকি।
জ্বর বা কাঁপুনি, স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা, র্যাশ, মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক তন্দ্রা হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান, কারণ এগুলোর জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক শিরাপথে পুষ্টি প্রয়োজন মনে করলে নিবিড় পর্যবেক্ষণে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি দেওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা
- তরলের ভারসাম্য, ইলেক্ট্রোলাইট, রক্তের শর্করা, ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, কিডনি ও লিভারের কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- গুরুতর অপুষ্ট রোগীদের রিফিডিং সিনড্রোম এড়াতে ধীরে শুরু করুন।
- IV লাইনের জন্য কঠোর জীবাণুমুক্ত পদ্ধতি মেনে চলুন।
- কিডনি বা লিভারের রোগ, হার্ট ফেইলিওর ও শিশুদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- দ্রবণ স্বচ্ছ ও পাত্র অক্ষত থাকলেই ব্যবহার করুন; অব্যবহৃত অংশ ফেলে দিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত বা খুব দ্রুত ইনফিউশনে বমি বমি ভাব, বমি, মুখ লাল হওয়া, ঘাম, অ্যাসিডোসিস, অ্যামোনিয়া বাড়া ও শরীরে তরল জমা হতে পারে। ইনফিউশন বন্ধ বা ধীর করে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন দ্রবণ (অ্যামিনো অ্যাসিড ইনফিউশন)
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে রাখুন, জমাবেন না এবং আলো থেকে রক্ষায় বাইরের মোড়কে রাখুন, অথবা প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন। শুধু হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।