ব্যবহার
- ইনজেকশন: কিছু ব্যাকটেরিয়ার কারণে গুরুতর সংক্রমণ, যার মধ্যে আছে MRSA (অনেক অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ না করা স্ট্যাফাইলোকক্কাস)। যেমন রক্তের সংক্রমণ, হৃৎপিণ্ডের ভালভের সংক্রমণ (এন্ডোকার্ডাইটিস), হাড় ও গিঁটের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ও ত্বকের গুরুতর সংক্রমণ।
- ইনজেকশন: পেনিসিলিনে এলার্জি আছে এমন রোগীদের কিছু অস্ত্রোপচারের আগে সংক্রমণ প্রতিরোধে।
- ক্যাপসুল (মুখে খাওয়ার): ক্লস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসিল নামের অন্ত্রের সংক্রমণজনিত ডায়রিয়া, যা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পর হতে পারে।
মুখে খেলে ভ্যানকোমাইসিন অন্ত্রেই থাকে, শরীরের অন্য জায়গার সংক্রমণ সারায় না।
কীভাবে কাজ করে
ভ্যানকোমাইসিন একটি গ্লাইকোপেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার বাইরের দেয়াল তৈরিতে বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারে না। এটি শুধু কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইনজেকশন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স শিরায় ধীরে ধীরে স্যালাইনের মাধ্যমে দেন, সাধারণত অন্তত ৬০ মিনিট ধরে। মাত্রা নির্ভর করে শরীরের ওজন, কিডনির কার্যক্ষমতা ও রক্তে ঔষধের মাত্রার পরীক্ষার ওপর, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
ক্লস্ট্রিডিওইডিস ডিফিসিলের জন্য ক্যাপসুল, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে চারবার ১২৫ mg, ১০ দিন, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। আস্ত গিলে ফেলুন।
শিশু: শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, ওজন হিসাব করে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিডনি বা শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে এমন অন্য ঔষধ, যেমন জেন্টামাইসিন, অ্যামিকাসিন, অ্যামফোটেরিসিন বি, সিসপ্লাটিন ও ফুরোসেমাইড: কিডনির ক্ষতি বা কানে কম শোনার ঝুঁকি বাড়ে।
- পিপেরাসিলিন ও ট্যাজোব্যাকটাম: কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- অ্যানেস্থেসিয়ার ঔষধ: স্যালাইন চলার সময় মুখ লাল হওয়া ও রক্তচাপ কমার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- ভ্যানকোমাইসিনে এলার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশন: স্যালাইন খুব দ্রুত চললে মুখ লাল হওয়া, শরীরের ওপরের অংশে লাল র্যাশ, চুলকানি বা রক্তচাপ কমে যাওয়া; স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা; কিডনির সমস্যা; কানে শব্দ হওয়া বা কম শোনা; শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া; জ্বর।
ক্যাপসুল: বমি বমি ভাব, পেটে ব্যথা ও মুখে বাজে স্বাদ।
শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ বা মুখ ফুলে যাওয়া; জ্বরের সাথে শরীরজুড়ে ফোসকা বা চামড়া ওঠা র্যাশ; স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব; নতুন করে কানে শব্দ বা শোনার পরিবর্তন; অথবা নতুন তীব্র ডায়রিয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন (স্যালাইন চলার সময় হলে তখনই নার্সকে জানান)।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু স্পষ্ট প্রয়োজন হলে, রক্তে মাত্রা পরীক্ষা করে ভ্যানকোমাইসিন দেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায়, তবে শিশুর শরীরে খুব কম শোষিত হয়; বুকের দুধ খাওয়ানো চলবে কি না, ডাক্তার ঠিক করবেন।
সতর্কতা
- ইনজেকশন চলাকালে রক্তে ঔষধের মাত্রা ও কিডনির পরীক্ষা করা হয়।
- দীর্ঘ কোর্সে, বয়স্কদের ও কিডনি রোগীদের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা হতে পারে।
- কিডনির সমস্যা বা আগে কানে কম শোনার ইতিহাস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- পুরো কোর্স শেষ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং কিডনির কার্যক্ষমতার দিকে নিবিড় নজর রাখা হয়। কিছু ধরনের ডায়ালাইসিস ঔষধের একাংশ বের করে দিতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (গ্লাইকোপেপটাইড)।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল ও ক্যাপসুল ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন, অথবা প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী। দ্রবণ তৈরির পর প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে রাখা হয় (প্রায়ই ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত)।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।