ব্যবহার
ভ্যান্ডেটানিব একটি ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ। মেডুলারি থাইরয়েড ক্যান্সার (থাইরয়েড গ্রন্থির C কোষ থেকে হওয়া ক্যান্সার) অপারেশন করে সরানো না গেলে বা শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে উপসর্গ সৃষ্টি করলে বা বাড়তে থাকলে এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
ভ্যান্ডেটানিব একটি কাইনেজ ইনহিবিটর। এটি কোষের কয়েকটি সংকেতবাহী প্রোটিন আটকে দেয়, যেমন RET প্রোটিন (মেডুলারি থাইরয়েড ক্যান্সারে প্রায়ই ত্রুটিপূর্ণ), টিউমারের নতুন রক্তনালী তৈরিতে ব্যবহৃত VEGFR এবং EGFR। এই সংকেত বন্ধ হলে ক্যান্সারের বৃদ্ধি ও বিস্তার ধীর হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ এই ঔষধ দেন ও তত্ত্বাবধান করেন। ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী দিনে একবার, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে, খাবারের আগে বা পরে খান। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা কিডনির সমস্যা থাকলে মাত্রা কমানো হতে পারে। গিলতে কষ্ট হলে ট্যাবলেট কীভাবে পানিতে গলিয়ে খাওয়া যায় তা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের কাছে জেনে নিন। শুরুর আগে ও চিকিৎসার সময় নিয়মিত ইসিজি (হৃৎস্পন্দনের রেকর্ড) এবং পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও থাইরয়েড হরমোনের রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- QT বাড়ায় এমন অন্য ঔষধ, যেমন অ্যামিওডারোন, সোটালল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, মক্সিফ্লক্সাসিন, অনডানসেট্রন, হ্যালোপেরিডল ও মেথাডোন: বিপজ্জনক হৃৎছন্দের ঝুঁকি; সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়।
- রিফামপিসিন, কারবামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জনস ওয়োর্টের মতো শক্তিশালী এনজাইম বৃদ্ধিকারক: ভ্যান্ডেটানিবের মাত্রা কমায়।
- মেটফরমিন ও ডিগক্সিন: মাত্রা বাড়তে পারে।
- পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমানো ডাইইউরেটিক: ছন্দের ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
এই ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে, জন্মগত লং QT সিনড্রোম বা আগে থেকেই দীর্ঘ QT ইন্টারভাল থাকলে, অথবা বুকের দুধ খাওয়ালে ভ্যান্ডেটানিব খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
খুব সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ডায়রিয়া, র্যাশ, ব্রণের মতো ফুসকুড়ি, শুষ্ক ত্বক, রোদে সংবেদনশীলতা, বমি বমি ভাব, উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, খিদে কমে যাওয়া ও পেটে ব্যথা। ভ্যান্ডেটানিব QT বাড়িয়ে গুরুতর হৃৎছন্দের সমস্যা ঘটাতে পারে।
অজ্ঞান হলে, হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত মনে হলে, তীব্র মাথা ঘোরা, বুকে ব্যথা, তীব্র বা চলতে থাকা ডায়রিয়া, ফোসকা বা চামড়া ওঠাসহ গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া, হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা কাশি, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টির পরিবর্তনসহ তীব্র মাথাব্যথা, অথবা থামছে না এমন রক্তপাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ভ্যান্ডেটানিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর অন্তত ৪ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর ৪ মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
ইসিজি ও রক্ত পরীক্ষার সব অ্যাপয়েন্টমেন্ট মেনে চলুন। ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা করুন ও প্রচুর তরল পান করুন, কারণ পানি ও লবণ কমলে ছন্দের ঝুঁকি বাড়ে। চিকিৎসার সময় ও পরের ৪ মাস পোশাক ও সানস্ক্রিন দিয়ে ত্বককে রোদ থেকে রক্ষা করুন। ডাক্তার থাইরয়েড হরমোনের ট্যাবলেটের মাত্রা বদলাতে পারেন। কিডনির রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবন করলে বিপজ্জনক হৃৎছন্দ, তীব্র ডায়রিয়া ও র্যাশ হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ, টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।